ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬,
সরকার অনুমোদিত নিবন্ধন নম্বর ১৯১
Reg:C-125478/2015

ইরাককে উড়িয়ে নরওয়ের উড়ন্ত সূচনা

স্পোর্টস ডেস্ক


প্রকাশ: ১৭ জুন, ২০২৬ ০৯:২৩ পূর্বাহ্ন | দেখা হয়েছে ৪৩ বার


ইরাককে উড়িয়ে নরওয়ের উড়ন্ত সূচনা

দীর্ঘ ২৮ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে ফিরেছে নরওয়ে। আর সেই ফেরাটা যে দারুণ হতে যাচ্ছে, তার জানান দিলেন আর্লিং হালান্ড।

তার জোড়া গোলে ইরাককে ৪-১ ব্যবধানে হারিয়ে ‘জি’ গ্রুপের পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে উঠে এসেছে নরওয়ে। মঙ্গলবার (১৬ জুন) বিশ্বকাপের প্রথম রাউন্ডের এই ম্যাচে পুরো মাঠজুড়ে ছিল ম্যানচেস্টার সিটির এই তারকার দাপট।

 

ম্যাচের ২৮তম মিনিটে নুসায়ের দারুণ এক ক্রস থেকে পা ছুঁইয়ে গোল করে নিজের জাত চেনান হালান্ড। এরপর ৪৩তম মিনিটে ইরাকি ডিফেন্সের চরম ভুলে আরেকটি গোল পেয়ে যান তিনি।

হালান্ড যেন ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই একই মন্ত্রে বিশ্বাসী বল ছোঁয়া কম, কিন্তু গোল করা অনেক। তার এই ক্ষিপ্রতায় মাত্র ৪৩ মিনিটেই দুই গোল করে ম্যাচ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেয় নরওয়ে।

বাকি গোল দুটি আসে অস্টিগার্ড এবং ইরাকের হোসেনের আত্মঘাতী গোল থেকে।

 

হারলেও ম্যাচে লড়াই করার মানসিকতা দেখিয়েছে ইরাক। দীর্ঘ ৪০ বছর পর বিশ্বকাপে ফেরা দলটি প্রথমার্ধে দুর্দান্ত এক আক্রমণে সমতাও ফিরিয়েছিল। দলের অন্যতম তারকা আয়মেন হোসেন গোল করে দলকে স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন। এই আয়মেনের জীবনের গল্পটা দারুণ আবেগঘন ২০০৮ সালে আল-কায়েদার হামলায় হারান সামরিক কর্মকর্তা বাবাকে, ২০১৪ সালে ইসলামিক স্টেটের হাতে অপহৃত হন তার ভাই। এমন চরম ট্র্যাজেডির ভেতর দিয়ে বেড়ে ওঠা আয়মেন এখন ইরাকের ইতিহাসের পঞ্চম সর্বোচ্চ গোলদাতা। তবে নরওয়ের অভিজ্ঞ ও শারীরিক সক্ষমতার কাছে শেষ পর্যন্ত হার মানতে হয়েছে তাদের।

নরওয়ের বর্তমান দলটি ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা ‘গোল্ডেন জেনারেশন’ হিসেবে পরিচিত। অধিনায়ক মার্টিন ওডেগার্ডের বুদ্ধিমত্তায় মিডফিল্ড এবং হালান্ড-সোরলথের আক্রমণে তৈরি হয়েছে এক ভারসাম্যপূর্ণ দল। এদিন সোরলথকে অনেকটা উইংয়ে খেলে হালান্ডকে গোল করার সুযোগ করে দিতে দেখা গেছে, যা কোচিং স্টাফের পরিকল্পনারই অংশ ছিল।

বিশ্বকাপের অন্যতম দীর্ঘকায় দল নরওয়ে। ম্যাচের শেষদিকে কর্নার ও ফ্রি-কিক থেকে আসা বলগুলোতে তাদের শারীরিক উচ্চতা ইরাকি রক্ষণভাগকে অসহায় করে তুলেছিল। বিশেষ করে শেষ দিকে অস্টিগার্ডের হেডে গোল এবং ইরাকের হোসেনের আত্মঘাতী গোলটি ছিল নরওয়ের দীর্ঘদেহী খেলোয়াড়দের আধিপত্যের প্রতিফলন।

এই জয় নরওয়েকে কেবল ৩ পয়েন্টই দেয়নি, বরং গোল ব্যবধানে ফ্রান্সকে টপকে গ্রুপের শীর্ষে জায়গা করে দিয়েছে। অন্যদিকে, বিশ্বকাপের আঙিনায় নতুন করে পরিচিত হওয়া ইরাকের জন্য এই ম্যাচটি অভিজ্ঞতার এক বড় পাঠ হয়ে থাকল।

দীর্ঘদিন পর দুই দলের বিশ্বমঞ্চে ফেরার এই লড়াইয়ে ফুটবলপ্রেমীরা কিছুটা নস্টালজিয়ায়ও ভুগেছেন, যা মনে করিয়ে দিয়েছে ৮০ ও ৯০ দশকের সেই ধ্রুপদী ফুটবল। এখন দেখার বিষয়, নরওয়ের এই ‘গোল্ডেন জেনারেশন’ নকআউট পর্বে নিজেদের কতটা মেলে ধরতে পারে।


   আরও সংবাদ