ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ১৮ জুন, ২০২৬ ১৭:০৭ অপরাহ্ন | দেখা হয়েছে ১৬ বার
ঢাকা: ঢাকায় দক্ষিণ এশিয়ার শীর্ষস্থানীয় আন্তর্জাতিক টেক্সটাইল সোর্সিং প্ল্যাটফর্ম ‘ইনটেক্স বাংলাদেশ ২০২৬’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) কুড়িলের ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) তিন দিনব্যাপী এই অনুষ্ঠানের উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে বৈশ্বিক টেক্সটাইল খাতের মিলনমেলা জমেছে।
বৈশ্বিক টেক্সটাইল খাতে ব্যবসায়িক নেটওয়ার্কিং, নতুন উদ্ভাবন এবং আন্তঃসীমান্ত সহযোগিতার লক্ষ্যে এই প্রদর্শনীতে একত্রিত হয়েছেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বস্ত্র প্রস্তুতকারক, সোর্সিং পেশাজীবী, ক্রেতা, শীর্ষ ব্র্যান্ড, নীতিনির্ধারক ও বিভিন্ন ট্রেড অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধিরা।
জাঁকালো উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সরকারের শীর্ষ কর্মকর্তা, কূটনীতিক, শিল্প নেতৃবৃন্দ এবং আন্তর্জাতিক প্রদর্শকরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ও এক্সপোর্ট উইং প্রধান আব্দুর রহিম খান বলেন, উদ্ভাবন, কম্প্লায়েন্স এবং দক্ষ মানবসম্পদে সুনির্দিষ্ট বিনিয়োগের মাধ্যমে বাংলাদেশ দায়িত্বশীল ফ্যাশন ও বস্ত্র সোর্সিংয়ের পরবর্তী অধ্যায়ে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত। আমরা বিশ্বাস করি, ইনটেক্স বাংলাদেশের মতো একটি প্ল্যাটফর্ম আমাদের কৌশলগত লক্ষ্য অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে, পাশাপাশি বিশ্ব বাজারে প্রতিযোগিতামূলক মানসম্পন্ন পণ্য সরবরাহে সহায়তা করবে।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন ওয়ার্ল্ডেক্স ইন্ডিয়ার চেয়ারম্যান ও এমডি রাজেশ ভগত, টেক্সপ্রোসিলের জয়েন্ট ডিরেক্টর মুরালি বালকৃষ্ণ, বিজিবিএর সভাপতি মো. আব্দুল হামিদ পিন্টু এবং বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম।
ওয়ার্ল্ডেক্স ইন্ডিয়ার চেয়ারম্যান রাজেশ ভগত তার বক্তব্যে বলেন, ইনটেক্স বাংলাদেশের মাধ্যমে আমাদের লক্ষ্য হলো এই শিল্পখাতকে উচ্চমানের সরবরাহকারী, বৈচিত্র্যময় পণ্য উদ্ভাবন এবং দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতার সুযোগ প্রদান করা।
এই প্ল্যাটফর্মটি একটি বিশ্বাসযোগ্য মাধ্যম হিসেবে গড়ে উঠেছে, যেখানে বাংলাদেশ আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বিশ্ব বাজারে কেবল সরবরাহকারী হিসেবে নয়, বরং এক কৌশলগত অংশীদার হিসেবে যুক্ত হতে পারে।
প্রদর্শনী ও আন্তর্জাতিক অংশগ্রহণকারীদের তথ্য
এবারের প্রদর্শনীটি আইসিসিবির চারটি নির্ধারিত হল জুড়ে বিস্তৃত। এতে বাংলাদেশের পাশাপাশি ভারত, চীন, তাইওয়ান, জাপান, জার্মানি, নেদারল্যান্ডস, থাইল্যান্ড, পাকিস্তান, হংকং ও উজবেকিস্তানসহ ১২টিরও বেশি দেশ ও অঞ্চলের ৩০০-এর বেশি বুথ অংশগ্রহণ করছে।
প্যাভিলিয়নগুলোর বিশেষ আকর্ষণ
ইন্ডিয়া প্যাভিলিয়ন: টেক্সপ্রোসিল, মেটেক্সিল এবং পিডেক্সসিলের সহায়তায় পরিচালিত ‘ইনক্রেডিবল টেক্সটাইলস অব ইন্ডিয়া প্যাভিলিয়ন’-এ ৭৫টিরও বেশি ভারতীয় কোম্পানি তুলা, এমএমএফ, টেকসই ফেব্রিক এবং মূল্য সংযোজিত সোর্সিং সমাধান প্রদর্শন করছে।

চায়না প্যাভিলিয়ন: ‘চায়না ফ্যাশন টেক্সটাইলস প্যাভিলিয়ন’-এ চীনের প্রধান বস্ত্র উৎপাদনকারী প্রদেশগুলো থেকে ৭০টিরও বেশি প্রস্তুতকারক ফ্যাশন ফেব্রিক, ফাংশনাল ম্যাটেরিয়াল, প্রযুক্তিগত বস্ত্র এবং পোশাক অ্যাকসেসরিজ নিয়ে অংশ নিয়েছে।
ইন্টারন্যাশনাল প্যাভিলিয়ন: তাইওয়ান, জাপান, জার্মানি, নেদারল্যান্ডস, থাইল্যান্ড, পাকিস্তান, হংকং এবং উজবেকিস্তানের প্রদর্শকরা সোর্সিং পেশাজীবীদের জন্য উন্নত বস্ত্র প্রযুক্তি এবং পারফরম্যান্স ফেব্রিক উপস্থাপন করছেন।
প্রদর্শিত পণ্যসমূহ: মেলায় ফাইবার, ইয়ার্ন, ফেব্রিক, কৃত্রিম ফাইবার, ট্রিমস, অ্যাকসেসরিজ, কম্প্লায়েন্স সলিউশন, ট্রেসেবিলিটি প্রযুক্তি এবং টেকসই বস্ত্র উদ্ভাবনী প্রদর্শন করা হচ্ছে।
নলেজ পার্টনার ও সেমিনার (আইবিএফ)
প্রদর্শনীর পাশাপাশি হল ৪-এ ‘ইন্টারঅ্যাকটিভ বিজনেস ফোরাম (আইবিএফ) সেমিনার সিরিজ’-এর অধীনে দুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সেমিনার অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
এর মধ্যে উদ্বোধনী দিনে থাকছে টেক্সটাইলজেনেসিসের সহযোগিতায় ‘স্কেলিং সাসটেইনেবল ম্যাটেরিয়ালস অ্যাক্রস গ্লোবাল সাপ্লাই চেইনস’ বিষয়ক সেমিনার।
আর শেষ দিন ২০ জুন থাকছে ফ্যাশন বিজনেস জার্নালের সহযোগিতায় ‘ফ্রম ফ্যাক্টরি ফ্লোর টু গ্লোবাল ফ্যাশন ইনফ্লুয়েন্স’ বিষয়ক সেমিনার।
সেশনগুলোতে ট্রেসেবিলিটি, টেকসইতা এবং বিশ্ব পোশাক উৎপাদনে বাংলাদেশের পরিবর্তনশীল ভূমিকা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হচ্ছে।
আয়োজকরা জানান, এবারের প্রদর্শনীতে বাংলাদেশের স্থানীয় দর্শনার্থীদের পাশাপাশি শ্রীলঙ্কা, ভারত, হংকং, চীন, জাপান, জার্মানি ও যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বাজার থেকে বিপুল সংখ্যক সোর্সিং পেশাজীবী এবং ক্রেতা প্রতিনিধি দল অংশ নিয়েছেন।