ঢাকা, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬,
সরকার অনুমোদিত নিবন্ধন নম্বর ১৯১
Reg:C-125478/2015

অভিবাসনপ্রত্যাশীদের জন্য ইউরোড্যাক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক


প্রকাশ: ১৮ জুন, ২০২৬ ১৪:২০ অপরাহ্ন | দেখা হয়েছে ২৪ বার


অভিবাসনপ্রত্যাশীদের জন্য ইউরোড্যাক

ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নতুন ‘মাইগ্রেশন ও অ্যাসাইলাম প্যাক্ট’ কার্যকর হওয়ার পর ফ্রান্সসহ পুরো ইউরোপে সীমান্ত ব্যবস্থাপনা ও আশ্রয় প্রক্রিয়ায় এসেছে বড় ধরনের পরিবর্তন। এই নতুন ব্যবস্থার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে আধুনিকায়িত ‘ইউরোড্যাক’ ডেটাবেস।

আর তা নিয়েই এখন নীতিনির্ধারক ও অভিবাসনপ্রত্যাশীদের মধ্যে চলছে নানা বিতর্ক। প্রশ্ন উঠছে, এটি কি নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে, নাকি অভিবাসীদের জন্য তৈরি করবে নজরদারির নতুন ফাঁদ?

 

নতুন এই হালনাগাদের ফলে এখন থেকে কেবল আঙুলের ছাপ নয়, বরং মুখমণ্ডলের বায়োমেট্রিক তথ্যও সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করা হবে।

এমনকি এই ডেটাবেসের আওতায় আনা হয়েছে ছয় বছর বা তার বেশি বয়সী শিশুদেরও, যেখানে আগে এই বয়সসীমা ছিল ১৪ বছর। ইউরোপীয় কর্তৃপক্ষ বিষয়টিকে সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অনিয়মিত অভিবাসন রোধের প্রধান হাতিয়ার হিসেবেই দেখছে।

 

ইইউ স্পষ্টভাবে বলছে, একজন ব্যক্তি যেন এক দেশে আশ্রয়ের আবেদন বাতিল হওয়ার পর অন্য দেশে গিয়ে পুনরায় আবেদন করার সুযোগ না পান। অর্থাৎ, তথাকথিত ‘সেকেন্ডারি মুভমেন্ট’ বা ‘অ্যাসাইলাম শপিং’ পুরোপুরি বন্ধ করতেই এই কঠোর পদক্ষেপ।

 

এই কঠোর ডিজিটাল নজরদারি অভিবাসনপ্রত্যাশীদের জন্য নতুন সংকটের ইঙ্গিত দিচ্ছে। নতুন আইন অনুযায়ী, সীমান্তে প্রবেশের পর মাত্র সাত দিনের মধ্যে পরিচয় যাচাই ও নিরাপত্তা পরীক্ষা শেষ করতে হবে। ‘ফাস্ট-ট্র্যাক’ প্রক্রিয়ায় যাদের আবেদন ভিত্তিহীন মনে হবে, তাদের দ্রুত নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সমালোচকদের মতে, ইউরোড্যাকের মতো শক্তিশালী ডেটাবেস আশ্রয়প্রার্থীদের কার্যত এক ‘ডিজিটাল খাঁচায়’ বন্দি করে ফেলছে। কোনো সামান্য ভুল বা ভুল তথ্যের কারণে মুহূর্তেই হয়তো কারও আশ্রয়ের অধিকার চিরতরে বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

ফ্রান্সে এই আইনের প্রভাব পড়েছে সবচেয়ে বেশি। দেশটির বিমানবন্দর ও সীমান্তগুলোতে এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি কড়াকড়ি করা হচ্ছে। যদিও নতুন নিয়মে আশ্রয়প্রার্থীরা ছয় মাস পর থেকেই শ্রমবাজারে প্রবেশের সুযোগ পাচ্ছেন-যা আগের নয় মাসের তুলনায় কিছুটা স্বস্তির-তবু সামগ্রিকভাবে এই প্রক্রিয়ার কঠোরতা আশ্রয়ের মূল মানবিক ধারণাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করছে।

মানবাধিকার সংস্থাগুলো এই নতুন ব্যবস্থা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাদের মতে, সুরক্ষা নিশ্চিত করার নামে আসলে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের জন্য ঝুঁকির পাল্লাই ভারী করা হচ্ছে। সব মিলিয়ে, ইউরোড্যাক এখন ইউরোপীয় অভিবাসন নীতির এক বিতর্কিত অধ্যায়, যেখানে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রচেষ্টার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে আশ্রয়প্রার্থীদের অনিশ্চয়তা।


   আরও সংবাদ