ঢাকা, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬,
সরকার অনুমোদিত নিবন্ধন নম্বর ১৯১
Reg:C-125478/2015

হরমুজ প্রণালী থাকবে তেহরানের নিয়ন্ত্রণে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক


প্রকাশ: ২৩ জুন, ২০২৬ ১৪:৩২ অপরাহ্ন | দেখা হয়েছে ২৩ বার


হরমুজ প্রণালী থাকবে তেহরানের নিয়ন্ত্রণে

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধ-পরবর্তী আলোচনা পর ইরানের প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ ঘোষণা দিয়েছে, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীর প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ তেহরানের হাতেই থাকবে। মঙ্গলবার ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনা এ তথ্য জানিয়েছে।

 

গালিবাফ বলেছেন, হরমুজ প্রণালী আর কখনোই যুদ্ধ-পূর্ব অবস্থায় ফিরে যাবে না। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথের প্রশাসনিক পরিচালনা ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের অধীনেই থাকবে।

 

এদিকে মধ্যস্থতাকারীরা জানিয়েছেন, সোমবার ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালী উন্মুক্ত রাখা এবং লেবাননের চলমান সংঘাত নিরসনে একটি স্থায়ী যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে তুলতে নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছে। সুইজারল্যান্ডে অনুষ্ঠিত প্রথম দফার আলোচনায় মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ছড়িয়ে পড়া সংঘাত বন্ধের উপায় নিয়েও আলোচনা হয়।

 

সুইজারল্যান্ডে আলোচনা শেষে দেশে ফেরার পথে গালিবাফ বলেন, বৈঠকে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী, লেবাননের পরিস্থিতি, তেল খাতে নিষেধাজ্ঞা শিথিল এবং জব্দ করা অর্থ ছাড়ের বিষয়ে ইতিবাচক অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে।

 

গালিবাফের প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, এই সফরে আমরা গুরুত্বপূর্ণ কিছু অগ্রগতি অর্জন করেছি। তবে আমরা এখনও প্রক্রিয়ার একেবারে শুরুর দিকে রয়েছি। সামনে আরও অনেক কাজ বাকি রয়েছে।

সুইজারল্যান্ডে অনুষ্ঠিত বৈঠকের পর মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স জানান, তেহরান জাতিসংঘের পারমাণবিক পরিদর্শকদের পুনরায় ইরানে কাজ করার অনুমতি দিতে সম্মত হয়েছে। এর পরপরই ইরানের তেল খাতের ওপর আরোপিত কিছু মার্কিন নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়।

চুক্তির আওতায় ইরান সীমিত পরিসরে নিষেধাজ্ঞা শিথিলের সুবিধা পাবে। পাশাপাশি দেশটির স্থগিত বা জব্দ থাকা কিছু সম্পদও অবমুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, সুইজারল্যান্ড সফর শেষে গালিবাফ ওমানেও সংক্ষিপ্ত সফর করেন। ওমান হরমুজ প্রণালীর তীরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ দেশগুলোর একটি।

যুদ্ধ শুরুর পর ইরান হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দিয়েছিল। পরে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সমঝোতার পর নৌপথটি পুনরায় খুলে দেওয়া হয়। তবে লেবাননে ইসরায়েলি হামলার জবাবে ইরান আবারও প্রণালী বন্ধের ঘোষণা দেয়।

পরবর্তীতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং ভুল বোঝাবুঝি এড়াতে তেহরান ও ওয়াশিংটন সরাসরি যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে তুলতে সম্মত হয়েছে বলে জানিয়েছেন কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারীরা।

তাদের মতে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতেই উভয় পক্ষ একটি কার্যকর ও নির্দিষ্ট যোগাযোগ চ্যানেল প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

এদিকে জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সমঝোতার অগ্রগতির পর সোমবার হরমুজ প্রণালী দিয়ে সামুদ্রিক বাণিজ্যিক চলাচল অনেকটাই স্বাভাবিক হয়ে এসেছে এবং আগের তুলনায় দ্রুতগতিতে অব্যাহত রয়েছে।

সূত্র: এএফপি


   আরও সংবাদ