স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ১০ অগাস্ট, ২০২৬ ১৪:৪২ অপরাহ্ন | দেখা হয়েছে ১৭ বার
বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ জাতীয় ফুটবল দলের ব্রিটিশ কোচ জেরার্ড জোন্সের একটি আকস্মিক ফেসবুক স্ট্যাটাস ঘিরে দেশের ক্রীড়াঙ্গনে চরম তোলপাড় শুরু হয়েছে।
পরিবারকে খাবারের টাকা পাঠাতে না পারা এবং বাংলাদেশে নিজের জীবন ও নিরাপত্তা নিয়ে চরম শঙ্কায় ভুগছেন বলে চাঞ্চল্যকর দাবি করেছেন তিনি।
তবে তার এই অভিযোগ পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করে ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়েছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)।
আসন্ন অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বকে সামনে রেখে যশোরের শামসুল হুদা একাডেমিতে অনূর্ধ্ব-২০ দলের আবাসিক ক্যাম্প পরিচালনা করছিলেন জোন্স।
ক্যাম্প চলাকালেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক আবেগঘন স্ট্যাটাসে নিজের দুরবস্থার কথা তুলে ধরেন তিনি।
সোমবার (১০ আগস্ট) পোস্টে নিজের মানসিক অবস্থার বর্ণনা দিয়ে জেরার্ড জোন্স লেখেন, ‘আমি মানসিকভাবে চরম বিপর্যস্ত ও বিষণ্ণ।
নিজের এবং পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে আমি গভীরভাবে চিন্তিত। প্রতিনিয়ত আমাকে ভুল বোঝাবুঝি আর তিক্ত অভিজ্ঞতার শিকার হতে হচ্ছে।
আজও তেমনই এক কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েছি।’
আর্থিক টানাটানির কথা উল্লেখ করে এই ব্রিটিশ কোচ আরও লেখেন, ‘আমি বেতনের অপেক্ষায় আছি। আমার পকেটে কোনো টাকা নেই। সবচেয়ে কষ্টের বিষয় হলো, স্ত্রী ও সন্তানদের খাবারের জন্য আমি কোনো টাকা পাঠাতে পারছি না।’ পোস্টের শেষদিকে নিজের জীবন নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে তিনি লেখেন, ‘আমি আমার জীবন নিয়ে শঙ্কিত এবং চরম ভয়ের মধ্যে আছি।’
কোচের এমন গুরুতর দাবির পর নড়েচড়ে বসেছে দেশের ফুটবল অঙ্গন। তবে বাফুফে সূত্র জেরার্ডের এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। ফেডারেশনের মতে, কোচের কোনো বেতন বকেয়া নেই; তার চুক্তি অনুযায়ী সমস্ত অর্থ নির্ধারিত ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। মূলত ব্যাংকিং ও করসংক্রান্ত কিছু আইনগত প্রক্রিয়ার জটিলতার কারণেই তিনি অর্থ নিজ দেশে পাঠাতে পারছেন না। বাফুফে এটিকে একটি সাধারণ প্রশাসনিক ও পদ্ধতিগত বিলম্ব হিসেবে দেখছে।
অন্যদিকে, পোস্টে নিরাপত্তার কথা উল্লেখ করলেও ক্যাম্প চলাকালে তার সঙ্গে সুনির্দিষ্ট কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে কি না, তা স্পষ্ট করেননি এই ব্রিটিশ কোচ। তবে এ নিয়ে তোলপাড়ের মধ্যেই যশোরের ক্যাম্পের দায়িত্ব ছেড়ে সোমবারই তাড়াহুড়ো করে ঢাকায় ফিরে এসেছেন তিনি। জেরার্ডের এই আকস্মিক ঢাকা প্রত্যাবর্তন এবং বিতর্কিত পোস্টের পর বাফুফের সঙ্গে তার পেশাদার সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে ধোঁয়াশার সৃষ্টি হয়েছে।