ঢাকা, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
সরকার অনুমোদিত নিবন্ধন নম্বর ১৯১
Reg:C-125478/2015

ট্রাম্পের সঙ্গে কী কথা হলো, শি পেলেন কী উপহার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক


প্রকাশ: ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৭:১৮ অপরাহ্ন | দেখা হয়েছে ২৩ বার


ট্রাম্পের সঙ্গে কী কথা হলো, শি পেলেন কী উপহার

জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনের মধ্য দিয়ে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে হোয়াইট হাউসে স্বাগত জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রাষ্ট্রীয় নৈশভোজে উষ্ণ অভ্যর্থনার পাশাপাশি শিকে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় প্রতীক টাকমাথা ঈগলের একটি বিশেষ ভাস্কর্য উপহার দিয়েছেন ট্রাম্প।

তবে আনুষ্ঠানিকতার আড়ালেও বাণিজ্য, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, তাইওয়ান ও ইরান যুদ্ধ নিয়ে দুই দেশের ভিন্ন অবস্থান স্পষ্ট হয়েছে।

 

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) হোয়াইট হাউসে আয়োজিত রাষ্ট্রীয় নৈশভোজে ট্রাম্প বলেন, চীনের জনগণের আতিথেয়তার কথা তিনি এখনো মনে রেখেছেন।

তিনি বলেন, দুই দেশের রাজনৈতিক ব্যবস্থা ভিন্ন হলেও জনগণের মধ্যে সম্পর্ক অটুট রয়েছে এবং দুই দেশ এর আগে কখনো এত ভালোভাবে একসঙ্গে কাজ করেনি।

 

নৈশভোজের শেষ পর্যায়ে শি জিনপিংকে টাকমাথা ঈগলের একটি ভাস্কর্য উপহার দেন ট্রাম্প।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, এই পাখি যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় প্রতীক এবং দেশটির স্বাধীন ও উড্ডীয়মান চেতনার প্রতীক। তার ভাষ্য অনুযায়ী, একজন মার্কিন শিল্পী ভাস্কর্যটি তৈরি করেছেন এবং এর নকশায় তিনি ও তার স্ত্রী মেলানিয়া ট্রাম্পও সহযোগিতা করেছেন।

ভাস্কর্যটি বেইজিংয়ের কোনো ‘সুন্দর ও সম্মানজনক’ স্থানে রাখা হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

 

জবাবে শি বলেন, দুই নেতা বিভিন্ন বিষয়ে গভীর আলোচনা করেছেন এবং অনেক বিষয়ে অভিন্ন বোঝাপড়ায় পৌঁছেছেন। এর ফলে চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন কৌশলগত দিকনির্দেশনা তৈরি হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তবে কোন কোন বিষয়ে এই বোঝাপড়া হয়েছে, তা বিস্তারিত জানাননি শি।

চীনের প্রেসিডেন্ট বলেন, দায়িত্বশীল বৃহৎ রাষ্ট্র হিসেবে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রকে নিজেদের ভূমিকা পালন করতে হবে। একই সঙ্গে দুই দেশের সম্পর্ক পরিচালনায় নতুন পদ্ধতি গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।

তবে দুই নেতার আলোচনায় সব বিষয়ে যে ঐকমত্য হয়েছে, তা নয়। ওভাল অফিসের বৈঠকে শি তাইওয়ানের স্বাধীনতার বিরোধিতা করতে ট্রাম্পকে সতর্ক অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানান। বেইজিং তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখণ্ড বলে দাবি করে। এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তাইওয়ান ইস্যুতে শির বক্তব্য ছিল চীনের দীর্ঘদিনের অবস্থানেরই পুনরাবৃত্তি।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়েও দুই দেশের দৃষ্টিভঙ্গির পার্থক্য উঠে আসে। শি বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিকাশ ও ব্যবহার সবসময় মানুষের নিয়ন্ত্রণে থাকা উচিত। অন্যদিকে ট্রাম্প এর আগে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে সতর্কতাকে তুলনামূলকভাবে কম গুরুত্ব দিয়েছেন।

ইরান যুদ্ধও দুই নেতার আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল। শি দ্রুত আলোচনার মাধ্যমে যুদ্ধের অবসানের আহ্বান জানান। চীনের সঙ্গে ইরানের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে এবং তেহরানকে বেইজিং গোয়েন্দা তথ্য দিয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের আলোচনায় ইরান প্রসঙ্গটি বিশেষ গুরুত্ব পাওয়ার কথা আগেই জানিয়েছিল এএফপি।

বাণিজ্য নিয়েও দুই দেশের মধ্যে আলোচনা হয়েছে। চলমান বাণিজ্যিক উত্তেজনা কমাতে দুই দেশ যে সাময়িক সমঝোতায় পৌঁছেছিল, তার মেয়াদ আরও দুই মাস বাড়িয়ে জানুয়ারি পর্যন্ত করা হয়েছে। তবে চীন এই বিরতির মেয়াদ দুই বছর বাড়ানোর প্রত্যাশা করলেও তা হয়নি। এএফপি জানিয়েছে, দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য উত্তেজনা এখনো পুরোপুরি কাটেনি।

শির সফর ঘিরে হোয়াইট হাউসে ছিল ব্যাপক আনুষ্ঠানিকতা। সামরিক কুচকাওয়াজ, যুদ্ধবিমানের উড্ডয়ন এবং হোয়াইট হাউসের নতুন হেলিপ্যাড পরিদর্শনের আয়োজন করা হয়। হোয়াইট হাউসের রাষ্ট্রীয় নৈশভোজটিও ছিল জাঁকজমকপূর্ণ ‘ব্ল্যাক-টাই’ আয়োজন।

নৈশভোজে যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি খাতের শীর্ষ ব্যক্তিদের উপস্থিতিও ছিল উল্লেখযোগ্য। অতিথিদের মধ্যে ছিলেন অ্যাপলের প্রধান নির্বাহী টিম কুক, অ্যামাজনের জেফ বেজোস, অ্যালফাবেটের সুন্দর পিচাই, ওপেনএআইয়ের স্যাম অল্টম্যান, টেসলার ইলন মাস্ক এবং এনভিডিয়ার জেনসেন হুয়াং।

শি ও তার স্ত্রী পেং লিইউয়ানকে ট্রাম্প ও মেলানিয়া স্বাগত জানানোর সময় হোয়াইট হাউসের বাইরে বিক্ষোভও হয়। বিক্ষোভকারীদের কেউ কেউ ‘শি জিনপিং স্বাগত নন’ ও ‘ফ্রি হংকং’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।

দুই নেতার বৈঠক ও রাষ্ট্রীয় নৈশভোজে বন্ধুত্বপূর্ণ আবহ তৈরির চেষ্টা থাকলেও বাণিজ্য, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, তাইওয়ান ও ইরান যুদ্ধের মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের মতপার্থক্যও সামনে এসেছে। এএফপির ভাষ্য অনুযায়ী, এই সফরে জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনের পাশাপাশি দুই দেশের সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ বিরোধপূর্ণ বিষয়গুলোও আলোচনায় ছিল।

তথ্যসূত্র: এএফপি, রয়টার্স, নিউইয়র্ক পোস্ট।


   আরও সংবাদ