ঢাকা, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
সরকার অনুমোদিত নিবন্ধন নম্বর ১৯১
Reg:C-125478/2015

আবাদি জমি কমেছে ৩০%, ধানের উৎপাদন বেড়েছে ৩.৮ গুণ

ডেস্ক রিপোর্ট


প্রকাশ: ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৭:১৯ অপরাহ্ন | দেখা হয়েছে ২৫ বার


আবাদি জমি কমেছে ৩০%, ধানের উৎপাদন বেড়েছে ৩.৮ গুণ

গত ৫২ বছরে দেশে আবাদি জমি কমেছে ৩০ শতাংশ। প্রতিদিন নগরায়ণ ও শিল্পায়নের কারণে ৩০৭ একর জমি হারিয়ে যাচ্ছে।

জমি কমলেও কৃষিতে এসেছে অভাবনীয় সাফল্য। ১৯৭১ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত সময়ে দেশে ধানের উৎপাদন বেড়েছে ৩ দশমিক ৮ গুণ, গমের ১৭ দশমিক ২৭ গুণ এবং ভুট্টার উৎপাদন বেড়েছে ২ হাজার ২৬৬ দশমিক ৬৭ গুণ।

 

উৎপাদন বৃদ্ধির এই ধারাবাহিকতায় সরকার এখন নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর ফার্মগেটে সার্ক এগ্রিকালচার কনফারেন্স রুমে আয়োজিত এক কর্মশালার সমাপনী দিনে বক্তারা এসব তথ্য জানান।

 

বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল (বিএআরসি) বাংলাদেশ এগ্রিকালচার রিপোর্টার্স ফোরামের (বিএআরএফ) সদস্যদের জন্য তিন দিনব্যাপী এ কর্মশালার আয়োজন করে। সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে সাংবাদিকদের হাতে সনদপত্র তুলে দেন বিএআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান (রুটিন দায়িত্ব) ড. মো. আবদুছ ছালাম।

 

অনুষ্ঠানে ড. মো. আবদুছ ছালাম বলেন, দেশে বছরে জনসংখ্যা বাড়ছে ২০ থেকে ২২ লাখ। অন্যদিকে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) রিপোর্ট অনুযায়ী, আমাদের জমি কমছে শূন্য দশমিক ৩৬ শতাংশ হারে। প্রতিদিন ৩০৭ একর জমি শিল্পায়ন, নগরায়ণ, বসতবাড়ি ও রাস্তাঘাটে চলে যাচ্ছে। এটি ভবিষ্যৎ খাদ্য উৎপাদনে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ।

নিরাপদ খাদ্যের ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, আমরা এখন নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনে মনোযোগ দিয়েছি। ‘গুড এগ্রিকালচার প্র্যাকটিস’ বা জিএপির আলোকে ৫টি ফল ও ১০টি সবজি আবাদে জোর দেওয়া হয়েছে। ২০২৮ সালের মধ্যে ৩ লাখ হেক্টর জমি এ পদ্ধতির চাষাবাদে আনার পরিকল্পনা রয়েছে। ভালো মাটি ও বীজ হলে উৎপাদন এমনিতেই ৫০ শতাংশ বেড়ে যাবে। দেশের চাহিদা মিটিয়ে আমরা কৃষিপণ্য রপ্তানিও করব।

তিনি জানান, স্বাধীনতার সময় দেশে অপুষ্টিতে ভোগা মানুষের হার ছিল ৫০ শতাংশ, যা বর্তমানে কমে ১২ শতাংশে নেমে এসেছে।

কর্মশালায় জানানো হয়, স্বাধীনতার পর দেশে লবণাক্ত জমির পরিমাণ ছিল ৮ দশমিক ৩৩ লাখ হেক্টর। ২০২৩ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ২০ দশমিক ০৫ লাখ হেক্টরে এবং ২০২৪ সালে তা ১১ দশমিক ৫৬ লাখ হেক্টর রেকর্ড করা হয়। এ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকার লবণাক্ত, পাহাড়ি ও নিচু জমিসহ জোনভিত্তিক উপযোগী ফসল ফলানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। এ কাজে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনকে কাজে লাগানো হচ্ছে।

কৃষি অর্থনীতি তথ্যের উৎস নিয়ে আলোচনায় বিএআরসির ডিরেক্টর ড. মো. মোশাররফ উদ্দীন মোল্লা জানান, শস্যবীমা চালুর জন্য প্রাথমিকভাবে একটি গাইডলাইন তৈরি করে জুলাই মাসে ড্রাফট জমা দেওয়া হয়েছে। অচিরেই এ বিষয়ে সরকারি সিদ্ধান্ত জানা যাবে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সরেজমিন উইংয়ের পরিচালক ওবায়দুর রহমান মন্ডল জানান, দক্ষিণাঞ্চলে সূর্যমুখীর চাষ বাড়ানো হবে। এজন্য আগামী মৌসুমের আগেই খুলনা ও বরিশালে তেল কারখানা স্থাপন করা হবে।

মৎস্য অধিদপ্তরের ইনল্যান্ডের পরিচালক মো. মোতালেব হোসেন বলেন, প্রোটিনের যোগান নিশ্চিত করতে কাজ করছে মৎস্য অধিদপ্তর। দেশে ২০২৪-২৫ সালে ৫১ দশমিক ১১ লাখ টন মাছ উৎপাদন হয়েছে। মাছ চাষে যুক্ত রয়েছেন ১৪ লাখ নারী। তবে হাওর, নদী, খাল-বিল তথা মিঠাপানির প্রাকৃতিক মাছের উৎপাদন কমেছে।

বিএআরসির প্রাণিসম্পদ বিভাগের সদস্য ড. মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম জানান, জিডিপিতে প্রাণিসম্পদের অবদান ১ দশমিক ৯ শতাংশ এবং বার্ষিক প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ১ শতাংশ। বর্তমানে একজন মানুষ দৈনিক চাহিদার (১২০ গ্রাম) চেয়ে বেশি ১৪৭ দশমিক ৮৪ গ্রাম মাংস গ্রহণ করছেন। তবে দুধের ক্ষেত্রে ২৫০ গ্রাম চাহিদার বিপরীতে পাওয়া যাচ্ছে ২০৮ গ্রাম। সুস্থ থাকতে তিনি প্রতিদিন দুটি করে ডিম খাওয়ার পরামর্শ দেন।

কর্মশালায় বিএআরসির পরিচালক ড. মো. মাহফুজ আলম ও প্রধান ট্রেনিং অফিসার আল মোবাচ্ছের হোসেনের সঞ্চালনায় আরও উপস্থিত ছিলেন ডিআরইউর সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল, বিএআরএফ সভাপতি মো. নিজামুল হক, সহসভাপতি চপল মাহমুদ ও সাধারণ সম্পাদক কাওসার আজম।

তিন দিনব্যাপী এ আয়োজনে ১৫ জন প্রশিক্ষক কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদের ১৫টি ভিন্ন বিষয়ের ওপর প্রশিক্ষণ প্রদান করেন।


   আরও সংবাদ