আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৭:২০ অপরাহ্ন | দেখা হয়েছে ২৩ বার
লোহিত সাগরপথে সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ তেল স্থাপনা ইয়ানবু বন্দর এখন বাড়তি নিরাপত্তার আওতায়। ইরান-সমর্থিত হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর বন্দরটি রক্ষায় সৌদি আরবকে সামরিক সহায়তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ফ্রান্স।
সেখানে সেনাসদস্য, রাডার ও প্রতিরক্ষাব্যবস্থা পাঠাবে দেশটি।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি নিয়ে ফ্রান্সের টেলিভিশন চ্যানেল টিএফ১ ও ফ্রান্স ২-কে দেওয়া দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে এ কথা জানান ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাক্রোঁ।
তিনি বলেন, ইয়ানবু বন্দর সুরক্ষায় সৌদি আরবের সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী ফ্রান্স সামরিক সরঞ্জাম ও সদস্য পাঠাবে। তবে এর উদ্দেশ্য কোনো সংঘাতে জড়ানো নয়, বরং গুরুত্বপূর্ণ বন্দরটি সুরক্ষিত রাখা।
লোহিত সাগরের তীরে অবস্থিত ইয়ানবু সৌদি আরবের জ্বালানি পরিবহনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বন্দর। হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় সৌদি আরবের তেল রপ্তানির বিকল্প পথ হিসেবে লোহিত সাগরপথের গুরুত্ব আরও বেড়েছে।
ফলে ইয়ানবু দিয়ে তেল সরবরাহ নিরাপদ রাখা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
সাম্প্রতিক সময়ে ইয়ানবু ও এর আশপাশের সৌদি স্থাপনায় হুতিদের হামলার হুমকি বেড়েছে। ২৪ সেপ্টেম্বরও সৌদি আরব হুতিদের ছোড়া ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার কথা জানিয়েছে। এর আগে হুতিরা ইয়ানবুসহ কয়েকটি এলাকায় হামলার দাবি করেছিল।
মাক্রোঁর সামরিক সহায়তার ঘোষণার পাশাপাশি সাক্ষাৎকারে যুক্তরাষ্ট্রের ডিজেল রপ্তানি নিষিদ্ধ করার সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এমন নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার কথা বিবেচনা করছে—এমন খবর সত্য হলে তা বিশ্ব অর্থনীতি এবং মার্কিন অর্থনীতির জন্য ‘বিপর্যয়কর’ হবে। তবে হোয়াইট হাউস এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা বিবেচনার কথা অস্বীকার করেছে।
ফ্রান্সসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে জ্বালানির দাম বাড়তে থাকায় নাগরিকদেরও আশ্বস্ত করেন মাক্রোঁ। তিনি বলেন, আসন্ন শীতের জন্য ফ্রান্সে পর্যাপ্ত গ্যাস ও তেলের মজুত রয়েছে। জ্বালানির সরবরাহ যাতে ব্যাহত না হয়, সে জন্য সরকার সক্রিয়ভাবে কাজ করছে বলেও জানান তিনি।
বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে ইয়ানবু বন্দরের নিরাপত্তা এখন সৌদি আরবের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাণিজ্যের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ফ্রান্সের সামরিক সহায়তার সিদ্ধান্ত সেই নিরাপত্তা উদ্বেগেরই প্রতিফলন।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স, এএফপি।