ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ৭ জানুয়ারী, ২০২৬ ০৯:৪৭ পূর্বাহ্ন | দেখা হয়েছে ৩০ বার
হারুনুর রশিদ, জেলা প্রতিনিধি (জয়পুরহাট)
জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার আটাপুর ইউনিয়নের আটাপুর গ্রামের সাত বছর বয়সী কন্যাশিশু মারিয়া দীর্ঘদিন ধরে চরম অবহেলা ও স্নেহহীন জীবনের শিকার হয়ে অবশেষে চাইল্ড হোম কেয়ারে যাওয়ার প্রক্রিয়ায় রয়েছে।
স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন অপেক্ষার সিঁড়ি ফাউন্ডেশন এতিম ও দুস্থ শিক্ষার্থী শনাক্ত করার লক্ষ্যে আটাপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন স্কুল ও এলাকায় অনুসন্ধান কার্যক্রম পরিচালনা করে। এ সময় তাদের নজরে আসে আটাপুর গ্রামের মোঃ আয়েজুলের কন্যা মোসাম্মৎ মারিয়া আক্তার। কনকনে শীতের মধ্যেও শিশুটিকে পাতলা একটি জ্যাকেট পরে, পায়ে জুতা ছাড়াই রাস্তায় ঘোরাফেরা করতে দেখা যায়।
ফাউন্ডেশনের সদস্যরা শিশুটির সঙ্গে কথা বলে তার বাসায় গেলে দেখতে পান একটি জরাজীর্ণ টিনশেড ঘরে সে বসবাস করছে। সেখানে প্রায় ৭০ ঊর্ধ্ব বয়সী এক বিধবা নারীকে সে দাদি বলে ডাকছে। দাদির নাম মোছাঃ আয়েজাদ।
অনুসন্ধান টিম শিশুটির পর্যাপ্ত খাবার ও শীতবস্ত্র না থাকার কারণ জানতে চাইলে দাদি অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে জানান, মারিয়ার বয়স যখন মাত্র এক বছর তখন তার মা পরকীয়ার সম্পর্কে জড়িয়ে অন্যের সঙ্গে চলে যায়। এরপর বিগত ছয় বছরে মারিয়ার মা একবারের জন্যও ফোন করে খোঁজ নেয়নি।
অন্যদিকে মারিয়ার বাবা মোঃ আয়েজুল মাঝে মধ্যে গ্রামে এলেও শিশুটির খাবার, পোশাক কিংবা শিক্ষার জন্য কোনো ধরনের আর্থিক সহায়তা বা প্রয়োজনীয় সামগ্রী কিনে দেন না। ফলে পুরো দায়িত্ব পড়ে যায় বৃদ্ধ দাদির ওপর।
দাদি আরও জানান, তিনি একজন বিধবা মানুষ। নিজের কোনো জমিজমা নেই। আগে অন্যের বাড়িতে কাজ করে ও সামান্য বিধবা ভাতা দিয়ে নাতনিসহ কোনোমতে জীবনযাপন করতেন। কিন্তু বর্তমানে বার্ধক্যের কারণে কাজ করা তার পক্ষে আর সম্ভব হচ্ছে না।
তিনি বলেন, “আমি কী খাবো, বাচ্চাটা কী খাবে, কী পরাবো বা কিভাবে স্কুলে ভর্তি করাবো—কিছুই জানি না। তাই বাধ্য হয়ে যদি কেউ দত্তক নিতে চায়, সে সিদ্ধান্তে রাজি হয়েছি। অন্তত দু’মুঠো খাবার যেন পায়।”
বিষয়টি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও সংবেদনশীল বিবেচনায় নিয়ে অপেক্ষার সিঁড়ি ফাউন্ডেশন শিশুটিকে ব্যক্তিগতভাবে দত্তক না দিয়ে সরকারি তত্ত্বাবধানে আশ্রয়ের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। তারা জরুরি শিশু সহায়তা নম্বর ১০৯৮-এ ফোন করে শিশুটির সার্বিক অবস্থা জানায়। কর্তৃপক্ষ উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে একটি টিম পাঠানো এবং শিশুটিকে সরকারিভাবে কোনো চাইল্ড হোম কেয়ারে আশ্রয় দেওয়ার আশ্বাস দেন।
এ সময় কর্তৃপক্ষ ফাউন্ডেশনটিকে শিশুটির জরুরি সহায়তায় এগিয়ে আসার অনুরোধ জানায়। এর পরিপ্রেক্ষিতে অপেক্ষার সিঁড়ি ফাউন্ডেশন আগামীকাল মারিয়ার জন্য প্রয়োজনীয় শীতবস্ত্র ও পোশাক পরিচ্ছেদ ক্রয় করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
স্থানীয় সচেতন মহল আশা প্রকাশ করেছেন, সরকারি তত্ত্বাবধানে শিশুটি নিরাপদ পরিবেশে থেকে শিক্ষা, খাবার ও সঠিক যত্ন পেয়ে একটি সুন্দর ভবিষ্যতের সুযোগ লাভ করবে।