ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬,
সরকার অনুমোদিত নিবন্ধন নম্বর ১৯১
Reg:C-125478/2015

ডিসিরা নির্বাচনের জন্য যোগ্য ও প্রস্তুত

ডেস্ক রিপোর্ট


প্রকাশ: ৮ জানুয়ারী, ২০২৬ ১৬:২১ অপরাহ্ন | দেখা হয়েছে ৩৮ বার


ডিসিরা নির্বাচনের জন্য যোগ্য ও প্রস্তুত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে নিয়োগ পাওয়া জেলা প্রশাসকেরা (ডিসি) নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য যোগ্য ও প্রস্তুত আছেন বলে জানিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব।

বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের নির্বাচনে যারা রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন, তাদের এ বছর নির্বাচনের দায়িত্ব দেওয়া হয়নি। তফসিল ঘোষণার আগে নতুন করে নিয়োগ পাওয়া ৫৫ জন ডিসির যোগ্যতা ও মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

এই প্রশাসন নিয়ে আপনি কতটা নিরপেক্ষ, সুষ্ঠু নির্বাচন করতে পারবেন—এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, আমি এখনো আশাবাদী যে, এটা করা যাবে, ইনশাল্লাহ। অভিজ্ঞতা সবাই নিয়ে আসে না, অভিজ্ঞতা তৈরি হয়। অভিজ্ঞতার অবস্থায় পড়লে অভিজ্ঞতা তৈরি হয়। তারা যদি সঠিক পথে চলেন এবং আমরা যদি নিশ্চিত করতে পারি যে তাদের মনোভাব সঠিক, তাহলে তারা সফল হবেন—শতভাগ সফল হবেন, ইনশাল্লাহ।

আর যদি কোনো বিচ্যুতি দেখতে পাই, তখন আমরা সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেব। তবে ঢালাওভাবে কিছু নয়। সাধারণভাবে আমরা মনে করছি, তারা প্রস্তুত আছেন, যোগ্য আছেন। যদি কোনো নির্দিষ্ট উদাহরণ পাওয়া যায়, যেখানে বাস্তব কোনো সমস্যা হচ্ছে, আমরা অবশ্যই তাৎক্ষণিকভাবে তা বিবেচনা করব।

 

নির্বাচনের আর এক মাস বাকি, প্রশাসনের প্রস্তুতি কতটা, মাঠপর্যায়ের প্রশাসন নিয়ে যেসব অভিযোগ উঠছে, সেগুলো কীভাবে দেখছেন—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, প্রশাসনের কাজ কোনো স্থির বিষয় নয় যে অঙ্ক কষে করা যায়। একেকটা পরিস্থিতি তৈরি হয়, একেকটা ঘটনা ঘটে, সেই অনুযায়ী কাজ করতে হয়। মাঠপর্যায়ে যেসব জেলা প্রশাসক আছেন, তারা রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করছেন। আপনারা জানেন, রিটার্নিং কর্মকর্তাদের প্রাথমিক দায়িত্বের মধ্যে মনোনয়নপত্র গ্রহণ ও বাছাই অন্যতম। সে কাজটি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।

 

তিনি বলেন, কোথাও কোথাও কিছু প্রার্থী বা পক্ষ সংক্ষুব্ধ হয়েছেন। আইন অনুযায়ী সেটার ব্যবস্থাও রয়েছে। আপিলের প্রক্রিয়া এখন চলছে। আজও আপিল আবেদন জমা হচ্ছে। এরপর নির্বাচন কমিশন সেগুলো বিবেচনা করবে এবং আপিল নিষ্পত্তি করবে।

প্রশাসনের পক্ষপাতিত্ব নিয়ে যেসব অভিযোগ উঠছে, সে বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, এই ধরনের অভিযোগ আপনারা আগেও শুনেছেন, এখনো শুনছেন। কেউ না কেউ কোনো সিদ্ধান্তে সংক্ষুব্ধ হলে এমন কথা বলতেই পারেন। এখন উন্মুক্ত তথ্যপ্রবাহের যুগ, সবাই কথা বলবেন। আমরাও চেষ্টা করব, যদি আমাদের বা প্রশাসনের কোনো স্তরে ত্রুটি থাকে, সেটার সমাধান করতে। প্রত্যেকটি কেসে মেরিটের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

গতকাল একটি রাজনৈতিক দল নির্বাচন কমিশনে গিয়ে মাঠ প্রশাসনের কিছু ডিসির রদবদলের দাবি জানিয়েছে। এখনো এক মাস সময় আছে, এ রদবদল সম্ভব কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, আমরা রদবদলের কথা বলছি না। তবে নির্বাচন কমিশন যদি কনভিন্সড হয় এবং তারা মনে করে যে রদবদলের প্রয়োজন আছে, তাহলে তারা আমাদের জানাবে। তখন আমরা বিষয়টি বিবেচনা করব এবং সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেব। নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত বা অভিমতের এখন অনেক বেশি মূল্য রয়েছে, সেটা আমরা সম্মান করার চেষ্টা করব। তবে আগে তারা কনভিন্সড হোক।

নির্বাচনের আগে মাঠ প্রশাসন নিয়ে যে অভিযোগ রয়েছে, সে বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, আমি এখন পর্যন্ত তেমন কিছু দেখিনি। কোথাও কোথাও কিছু সিদ্ধান্তে কেউ কেউ সন্তুষ্ট হননি, এটা হতেই পারে। সবার সিদ্ধান্ত একরকম হয় না, আর সব প্রার্থীর পরিস্থিতিও এক নয়। ফলে কিছু পার্থক্য থাকতেই পারে। অনেক সময় তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নিতে হয়, সেই মুহূর্তে যেটা সবচেয়ে উপযুক্ত মনে হয়েছে, সেটাই সিদ্ধান্ত হিসেবে এসেছে। যদি সেটি সঠিক না হয়, তাহলে আপিলের সুযোগ রয়েছে। সেই সুযোগ এখন প্রার্থীরা নিচ্ছেন। শত শত প্রার্থী আপিল করেছেন, আরও করছেন, আজও করবেন বলে শুনেছি। দেখা যাক সেগুলো।


   আরও সংবাদ