ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬,
সরকার অনুমোদিত নিবন্ধন নম্বর ১৯১
Reg:C-125478/2015

‘টোপ’ গেলেনি বিসিবি

স্পোর্টস ডেস্ক


প্রকাশ: ৮ জানুয়ারী, ২০২৬ ১৬:২৪ অপরাহ্ন | দেখা হয়েছে ৩৯ বার


‘টোপ’ গেলেনি বিসিবি

মোস্তাফিজুর রহমানকে ঘিরে তৈরি হওয়া সাম্প্রতিক বিতর্কে বাংলাদেশের দৃঢ় অবস্থান ভারত ও ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডকে (বিসিসিআই) অস্বস্তিতে ফেলেছে। আইপিএল থেকে মোস্তাফিজকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তের পর বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) যে কঠোর অবস্থান নেয়, তাতে পরিস্থিতি দ্রুতই অন্য দিকে মোড় নেয়।

বিসিবির অনড় অবস্থান দেখে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের পক্ষ থেকে প্রস্তাব আসে মোস্তাফিজকে আবার আইপিএলে ফিরিয়ে নেওয়া হবে, যদি বাংলাদেশ ভারতের মাটিতে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে অংশ নিতে সম্মত হয়। তবে সেই প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে বিসিবি।

বোর্ড স্পষ্ট করে জানিয়ে দেয়, কোনো শর্তেই বাংলাদেশ ভারতে গিয়ে বিশ্বকাপ খেলবে না।

 

উল্লেখ্য, আইপিএলের মিনি নিলামে ৯ কোটি ২০ লাখ রুপিতে মোস্তাফিজকে দলে নেয় তিনবারের চ্যাম্পিয়ন কলকাতা নাইট রাইডার্স। কিন্তু হঠাৎ করেই বিসিসিআইয়ের নির্দেশে তাকে স্কোয়াড থেকে বাদ দিতে বাধ্য হয় ফ্র্যাঞ্চাইজিটি। শুধু দল থেকেই নয়, কলকাতার অফিসিয়াল প্ল্যাটফর্ম থেকেও মোস্তাফিজের ছবি ও ভিডিও সরিয়ে ফেলা হয়, যা বাংলাদেশে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার জন্ম দেয়।

 

এই ঘটনার পরপরই বিসিবি কঠোর সিদ্ধান্ত নেয়। বোর্ড জানিয়ে দেয়, যে দেশে একজন ক্রিকেটারকে ন্যূনতম নিরাপত্তা দেওয়া সম্ভব নয়, সেখানে পুরো দল পাঠিয়ে বিশ্বকাপ খেলার প্রশ্নই ওঠে না। ফলে বাংলাদেশের ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় আয়োজনের দাবিতে তারা অনড় থাকে।

বিসিবির এই অবস্থানে চাপে পড়ে ভারতীয় পক্ষ পরে মোস্তাফিজকে আইপিএলে ফেরানোর প্রস্তাব দেয়।

তবে বিসিবির এক পরিচালক একটি জাতীয় দৈনিকে বলেন, ‘প্রস্তাবটি গ্রহণ করলে সেটা এমন হতো, যেন ইনিংস ঘোষণা করার পর আবার সেই ইনিংসেই ব্যাটিং শুরু করা। তাই আমরা কোনোভাবেই সেটি মেনে নিইনি।’

 

বিসিবির কঠোর অবস্থানের আগেই তারা নিজেদের সিদ্ধান্ত আইসিসি ও সংশ্লিষ্ট পক্ষকে জানিয়ে দেয়। তবুও বিসিসিআই বিষয়টি সহজে মেনে নিতে পারেনি বলেই মোস্তাফিজকে বাদ দেওয়ার পর পুনরায় ফেরানোর প্রস্তাব আসে।

এদিকে মোস্তাফিজ আইপিএলে না থাকায় ভারতীয় গণমাধ্যমেও আলোচনা শুরু হয়েছে।

কারণ আইপিএলে মোস্তাফিজ মানেই বাংলাদেশের বিপুল দর্শকসমর্থন এবং সম্প্রচারস্বত্বে বাড়তি বাণিজ্যিক সুবিধা। তবে তড়িঘড়ি নেওয়া সিদ্ধান্তে সেসব সম্ভাবনা যেমন হাতছাড়া হয়েছে, তেমনি বিশ্বকাপ ভেন্যু হিসেবে ভারতের গ্রহণযোগ্যতাও প্রশ্নের মুখে পড়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

 


   আরও সংবাদ