ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬,
সরকার অনুমোদিত নিবন্ধন নম্বর ১৯১
Reg:C-125478/2015

কী হতে পারে ইরানের ধর্মীয় শাসনব্যবস্থায়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক


প্রকাশ: ১৩ জানুয়ারী, ২০২৬ ২১:০০ অপরাহ্ন | দেখা হয়েছে ১৮ বার


কী হতে পারে ইরানের ধর্মীয় শাসনব্যবস্থায়

ইরানে তীব্র বিক্ষোভ ও বহিরাগত চাপের মধ্যেও কোনো ছেদ দেখা যাচ্ছে না দেশটির নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানগুলোয়। যা বিশ্বে অন্যতম প্রতিরোধক্ষম সরকারের টিকে থাকার কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সম্প্রতি, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের চলমান বিক্ষোভে সরকারি নিরাপত্তা বাহিনীর তীব্র দমন কার্যক্রমের পর সামরিক পদক্ষেপের হুমকি দিয়েছেন। গত বছর ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তাদের ওপর আঘাতের পটভূমিতেও এ চাপ তৈরি হয়েছে।

 

রয়টার্সের সঙ্গে কথা বলা মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক দুই কূটনীতিক, দুটি সরকারি সূত্র এবং দুজন বিশ্লেষক জানান, শেষ পর্যন্ত ইরানের শীর্ষ পর্যায়ে কোনো পদত্যাগ বা বিদ্রোহ না ঘটে, দুর্বল হলেও দেশটির ধর্মীয় শাসনব্যবস্থা টিকে থাকবে।

দেশটির এক কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, চলমান বিক্ষোভে প্রায় দুই হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন। তিনি নিহতদের মৃত্যুর জন্য ‘সন্ত্রাসী’ হিসেবে পরিচিত কিছু ব্যক্তিকে দায়ী করেছেন। আগে মানবাধিকার সংস্থাগুলো প্রায় ৬০০ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করেছিল।

 

ইরানের নিরাপত্তা কাঠামো ইসলামি বিপ্লবী গার্ডস ও বাসিজ প্যারামিলিটারি বাহিনীর মতো শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান দিয়ে গঠিত। এসব প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন প্রায় এক মিলিয়ন মানুষ। তাদের বাইরের চাপে ধ্বংস করা কঠিন বলে জানিয়েছেন ইরানি-মার্কিন বিশ্লেষক ও যুক্তরাষ্ট্রের বিদেশনীতি বিশেষজ্ঞ ভ্যালি নাসর।

তিনি বলেন, এ ধরনের পরিবর্তনের জন্য দীর্ঘ সময় ধরে জনগণকে রাস্তায় থাকতে হবে।

রাষ্ট্রের অংশবিশেষ, বিশেষ করে নিরাপত্তা বাহিনীর উচ্চতর কর্মকর্তাদের পদত্যাগ করতে হবে।

 

মিডল ইস্ট ইনস্টিটিউটের বিশ্লেষক পল সালেম বলেছেন, ইরানের সুপ্রিম লিডার আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি এর আগেও বেশ কয়েকটি বিক্ষোভ সামলেছেন। ২০০৯ সালের পর দেশটিতে পঞ্চম বড় আন্দোলন চলছে যা সরকারি স্থিতিশীলতা ও ঐক্যের সাক্ষ্য দেয়।

তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, টিকে থাকা মানেই স্থিতিশীলতা নয়। ইরান ১৯৭৯ সালের পর থেকে সবচেয়ে বড় অভ্যন্তরীণ সংকটের মুখোমুখি।

অর্থনীতি সঙ্কুচিত, পুনরুদ্ধারের সুস্পষ্ট পথ নেই। আঞ্চলিক ‘অ্যাক্সিস অফ রেজিস্ট্যান্স’ জোট দুর্বল, এবং পারমাণবিক কর্মসূচি ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়েছে। এমনটা চলতে থাকলে বা এর চেয়ে বেশি কিছু হলে ইরানের সরকার দুর্বল হয়ে পড়বে। তখন অনাকাঙ্ক্ষিত যেকোনো কিছু হয়ত ঘটতে পারে। 

 

গত বছর ২৮ ডিসেম্বর ইরানে বিক্ষোভ শুরু হয়। শুরুটা দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে হলেও পরে তা সরাসরি ধর্মীয় শাসনের বিরুদ্ধে দাঁড়ায়। সহিংস দমন কার্যক্রম ইরানি সরকারের বৈধতাকে আরও ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। মানবাধিকার সংস্থা এইআরএএনএ জানিয়েছে, সরকার এই বিক্ষোভ থেকে ১০ হাজারের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করেছে। 

বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরানে চলমান আন্দোলনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের হুমকি নতুন মাত্রা যোগ করেছে। তিনি সম্ভাব্য ‘ভেনেজুয়েলা মডেল’ ব্যবহার করে ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বকে সরানোর পরিকল্পনা ভাবছেন, যাতে রাষ্ট্রের বাকি কাঠামো কর্মক্ষম থাকে।

যুক্তরাষ্ট্রের কূটনীতিকরা জানিয়েছেন, সামরিক পদক্ষেপ হলে ইরান নৃতাত্ত্বিক ও সেক্টরিয় বিভাজনের শিকার হতে পারে। বিশেষ করে কুর্দ ও সুন্নি বালুচ অঞ্চলগুলোয় এ সমস্যা বাড়বে। 

মার্কিন থিঙ্কট্যাংক ওয়াশিংটন ইনস্টিটিউটের ডেভিড ম্যাকোভস্কি বলেছেন, ট্রাম্প যদি পদক্ষেপ নেন, তা দীর্ঘ অভিযান নয়, বরং দ্রুত ও প্রভাবশালী হবে। তার চিন্তা-ভাবনার মধ্যে রয়েছে সমুদ্রপথে চাপ, লক্ষ্যভিত্তিক সামরিক বা সাইবার হামলা। কিছু পদক্ষেপ, যেমন স্টারলিংকের মাধ্যমে ইন্টারনেট পুনঃস্থাপন, শক্তি প্রয়োগ ছাড়াই বিক্ষোভকারীদের যোগাযোগ সুবিধা দিতে পারে।

ম্যাকোভস্কি বলেন, ট্রাম্প কখনো হুমকি দিয়ে সিদ্ধান্ত বিলম্বিত করেন। কখনো প্রতিপক্ষকে আতঙ্কিত করে ফেলেন। কখনো সত্যিই হস্তক্ষেপের প্রস্তুতি দেখান। ইরানের বিষয়ে তার ভূমিকা এখনো পরিষ্কার নয়। তিনি এসবের মধ্যে কোনটি ব্যবহার করবেন, সেটিও বোঝা যাচ্ছে না।

সূত্র: রয়টার্স


   আরও সংবাদ