ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ২৮ জানুয়ারী, ২০২৬ ১০:০৫ পূর্বাহ্ন | দেখা হয়েছে ৬৫ বার
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামের আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, কেউ যদি কালো চিলের মতো রং ধারণ করে কারও ভোট ছিনিয়ে নিতে চায়, তাহলে তাকে ডানাসহ ছিঁড়ে ফেলতে হবে। আগের ১৫ বছর ‘আমার ভোট আমি দেব, তোমার ভোটও আমি দেব’ এই সংস্কৃতি আর চলবে না। আমার ভোট আমি দেব, তোমার ভোট তুমি দেবে। আমার ভোটে হাত বাড়ালে খবর আছে।
নিজেদের ভোটের পাহারাদার হতে হবে, অন্যের ভোটেরও পাহারাদার হতে হবে। যার ভোট সে দেবে, এই নাগরিক অধিকার রক্ষায় সবাইকে কাজ করতে হবে।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) বিকেলে বাগেরহাটের খানজাহান আলী (রহ.) মাজার মোড় সংলগ্ন মাঠে জামায়াতে ইসলামীর জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আমিরে জামায়াত আরও বলেন, শুধু রাজার ছেলে রাজা হবে, রাজনীতির এই সংস্কৃতি আমরা পাল্টে দিতে চাই।
যার যোগ্যতা আছে, সেই দেশ পরিচালনা করবে।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী বাগেরহাট জেলা শাখার আমির মাওলানা রেজাউল করিমের সভাপতিত্বে সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিপি মো. রিয়াজুল ইসলাম, জামায়াত জোট মনোনীত বাগেরহাট-১ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী মাওলানা মশিউর রহমান খান, বাগেরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী শেখ মঞ্জুরুল হক রাহাদ, বাগেরহাট-৩ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী মাওলানা আব্দুল ওয়াদুদ, বাগেরহাট-৪ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী অধ্যক্ষ আব্দুল আলীম, খেলাফত মজলিস বাগেরহাট জেলা সভাপতি মুফতি আমিরুল ইসলাম সিদ্দিকী, এনসিপির বাগেরহাট জেলা সিনিয়র সমন্বয়ক সৈয়দ মোর্শেদ আনোয়ার সোহেল, জেলা সেক্রেটারি শেখ মুহাম্মদ ইউনুসসহ আরও অনেকে।
বাগেরহাটের উন্নয়ন প্রসঙ্গে জামায়াতের আমির বলেন, বাগেরহাটে যেমন অনেক সমস্যা আছে, তেমনি সম্ভাবনাও রয়েছে। যুগের পর যুগ ধরে দেশের অনেক অঞ্চলকে পিছিয়ে রাখা হয়েছে।
২০১৫ সালে শরণখোলায় এসেছিলাম, জমির আইল দিয়ে চলতে হয়েছে, ভালো রাস্তা ছিল না। বারবার গাড়ি থেমে যাচ্ছিল। বাগেরহাট কি দেশের বাইরে? আমরা কথা দিচ্ছি, সুযোগ পেলে পিছিয়ে পড়া এলাকাগুলোর উন্নয়ন করা হবে। কোন এলাকা এমপি বা মন্ত্রীর, তা আমরা দেখব না। যে এলাকার যে ন্যায্য পাওনা, তা-ই দেওয়া হবে।
পররাষ্ট্রনীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিশ্বের প্রতিটি দেশকে আমরা বন্ধু হিসেবে পেতে চাই। তবে অতীতে বন্ধুর নামে কিছু দেশ প্রভুত্ব কায়েম করেছিল। আমাদের ঘাড়ে চেপে বসেছিল, ৫৪ বছরের অনেক সম্ভাবনাকে ধুলিস্যাৎ করে দিয়েছিল। আগামীতে এই জাতি আর কোনো আধিপত্যবাদ বরদাশত করবে না। আমরা সবাইকে বন্ধু হিসেবে চাই, কাউকে প্রভু হিসেবে নয়। প্রতিবেশীদের সঙ্গে ভালো প্রতিবেশীর সম্পর্ক বজায় রাখব এবং চাই আমাদের সঙ্গেও যেন সেই সম্পর্ক বজায় থাকে।
গণভোট ইস্যুতে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ মানে ফ্যাসিবাদ আর ফিরে না আসুক। ‘হ্যাঁ’ মানে আজাদি। ১২ তারিখের প্রথম ভোট হবে গণভোটে ‘হ্যাঁ’র পক্ষে। ‘হ্যাঁ’ জিতলে বাংলাদেশ জিতবে। আমরা বাংলাদেশকে হেরে যেতে দিতে পারি না। শুধু আমি নই মা-বাবা, ভাই-বোন সবাই ‘হ্যাঁ’র পক্ষে ভোট দেবেন। দ্বিতীয় ভোটটি হবে ন্যায় ও ইনসাফের পক্ষে। ১১ দল যে প্রতীক নিয়ে যেখানে এসেছে, আমরা সবাই এক। আমাদের পরিচয় আমরা ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য। ১২ তারিখ ব্যালটের মাধ্যমে জোটের প্রার্থীদের ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
শেষে বাগেরহাটের চারটি আসনের প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দিয়ে দাড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট চেয়ে সমাবেশ শেষ করেন জামায়াতের আমির।