ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ১৫ জুলাই, ২০২৬ ১৪:৩৮ অপরাহ্ন | দেখা হয়েছে ৩৩ বার
রাজধানীর বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মতো জটিল সমস্যার সমাধান কোনো একক সংস্থার পক্ষে সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
তিনি বলেছেন, পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য ঢাকা গড়ে তুলতে সিটি কর্পোরেশন, ওয়াসা, রাজউক, বিদ্যুৎ বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট সব সেবা সংস্থার সমন্বিত উদ্যোগের পাশাপাশি প্রয়োজন ব্যাপক জনসচেতনতা।
বুধবার (১৫ জুলাই) দুপুরে রাজধানীর গুলশান-২ নগর ভবনে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি) আয়োজিত ‘নগরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা: আমার-আপনার সকলের দায়িত্ব’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিএনসিসির প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান।
মির্জা ফখরুল বলেন, পরিবেশ রক্ষা ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত বড় এবং জটিল একটি দায়িত্ব। শুধু একজন মেয়র বা সিটি কর্পোরেশনের ওপর এই দায়িত্ব চাপিয়ে দিলে সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না।
এ জন্য সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় এবং নাগরিকদের দায়িত্বশীল আচরণ নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি বলেন, বিশ্বের সবচেয়ে কম বাসযোগ্য শহরগুলোর মধ্যে ঢাকার অবস্থান অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
এ বাস্তবতা পরিবর্তন করতে হলে সমন্বিত পরিকল্পনা ছাড়া বিকল্প নেই। ওয়াসা, রাজউক, বিদ্যুৎ বিভাগসহ বিভিন্ন সংস্থা আলাদাভাবে কাজ করলে ভোগান্তি বাড়বে, সমস্যার সমাধান হবে না।
সড়ক খোঁড়াখুঁড়ির প্রসঙ্গ তুলে বিএনপি মহাসচিব বলেন, বর্ষা এলেই বিভিন্ন সংস্থা আলাদা আলাদাভাবে রাস্তা কাটে। এক সংস্থা কাজ শেষ করার আগেই অন্য সংস্থা একই সড়কে নতুন করে খোঁড়াখুঁড়ি শুরু করে। এতে নগরবাসীর দুর্ভোগ যেমন বাড়ে, তেমনি উন্নয়ন কর্মকাণ্ডও সমন্বয়হীন হয়ে পড়ে।
বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় জনসচেতনতার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, পরিচ্ছন্ন নগর গড়তে হলে মানুষের মানসিকতা ও অভ্যাসের পরিবর্তন প্রয়োজন। বিদেশে গিয়ে মানুষ যেমন রাস্তায় ময়লা না ফেলে ডাস্টবিন ব্যবহার করে, দেশে ফিরেও সেই অভ্যাস ধরে রাখতে হবে। এ জন্য সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার পাশাপাশি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকেই শিশুদের পরিচ্ছন্নতা বিষয়ে শিক্ষা দিতে হবে।
ঢাকার নদী ও খালের করুণ অবস্থার কথা তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, একসময় বুড়িগঙ্গার পানি ছিল স্বচ্ছ ও নির্মল। এখন দূষণ ও বর্জ্যের কারণে নদীর পাশ দিয়ে চলাচল করাও কঠিন হয়ে পড়েছে। তুরাগসহ আশপাশের নদী, খাল দখল ও দূষণমুক্ত করা না গেলে রাজধানীর পরিবেশগত সংকট আরও গভীর হবে।
তিনি বলেন, ঢাকার বস্তি ও নিম্নআয়ের মানুষের মধ্যেও পরিচ্ছন্নতা ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে হবে। কারণ একটি পরিচ্ছন্ন নগর গড়ে তুলতে সমাজের সব শ্রেণি পেশার মানুষের অংশগ্রহণ অপরিহার্য।
মির্জা ফখরুল বলেন, রাজনৈতিক বিভাজনের ঊর্ধ্বে উঠে রাজধানীকে সুন্দর ও বাসযোগ্য নগর হিসেবে গড়ে তুলতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
তিনি বলেন, নগর উন্নয়নের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক পরিচয় নয়, নাগরিক পরিচয়ই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
সেমিনারে ডিএনসিসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, নগর পরিকল্পনাবিদ, পরিবেশ বিশেষজ্ঞসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পর্যায়ের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।