ঢাকা, সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬,
সরকার অনুমোদিত নিবন্ধন নম্বর ১৯১
Reg:C-125478/2015

ডিসির পদত্যাগ চায় ১১ দলীয় জোট

ডেস্ক রিপোর্ট


প্রকাশ: ২৯ জানুয়ারী, ২০২৬ ০৯:৫৫ পূর্বাহ্ন | দেখা হয়েছে ৮১ বার


ডিসির পদত্যাগ চায় ১১ দলীয় জোট

পঞ্চগড়: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পঞ্চগড়-১ আসনে একতরফা পদক্ষেপ গ্রহণ এবং রিটার্নিং কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পক্ষপাতের অভিযোগ উঠেছে। 

এ অভিযোগ তুলে বুধবার (২৮ জানুয়ারি) বিকেল থেকে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও পঞ্চগড় জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বরে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন ১১ দলীয় জোটের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা। এ সময় বিভিন্ন স্লোগান দিতে দেখা যায় আন্দোলনকারীদের।

এর আগে বুধবার (২৮ জানুয়ারি) বিকেলে পঞ্চগড় জেলা জামায়াতে ইসলামীর কার্যালয় থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়।

মিছিলটি শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে অবস্থান নিয়ে বিকেল ৫টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত কর্মসূচি পালন করেন তারা।

 

বিক্ষোভকারীরা অভিযোগ করেন, পঞ্চগড়-১ আসনের ১১ দলীয় জোটের শাপলা কলির প্রার্থী সারজিস আলমের প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী ব্যারিস্টার নওশাদ জমির বিভিন্ন এলাকায় নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করে ব্যানার ও ফেস্টুন টানালেও সেগুলো অপসারণে প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। বরং ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীর শাপলা কলি প্রতীকের ব্যানার ও ফেস্টুন সরিয়ে ফেলা হয়েছে।

এতে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসকের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। একই সঙ্গে অভিযোগের ভিত্তিতে আন্দোলনে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় রাত ১০টায় আন্দোলনের মাঝে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক কাজী মো. সায়েমুজ্জামানের পদত্যাগসহ পাঁচ দফা দাবি জানিয়ে বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) সকাল ১০টা পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়ে সাময়িকভাবে আন্দোলন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি স্থগিত করেন বক্তারা। 

 

অতিলম্বে দাবি মানা না হলে আবার কঠোর কর্মসূচির ডাক দেন তারা

এ সময় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পঞ্চগড়ের সমন্বয়ক ফজলে রাব্বী বাংলানিউজকে বলেন, আমরা আমাদের যুক্তিসংগত দাবি নিয়ে এসেছিলাম। প্রশাসনের পক্ষ থেকে অবৈধ ব্যানার ও ফেস্টুনের বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

একই সঙ্গে বারবার আমরা সময় বেঁধে দিলেও তেমন কোনো সাড়া পাইনি। আমরা রাত পর্যন্ত অপেক্ষা করেছি। এদিকে তেঁতুলিয়ায় উঠান বৈঠক করতে নাকি অনুমতি লাগবে-এ নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে আদৌ কি সুষ্ঠু নির্বাচন হবে? এ অবস্থায় আমরা মনে করছি, এ ডিসি এখানে থাকার মতো অবস্থায় নেই। তাই আমরা আমাদের দাবির পাশাপাশি এক দফা দাবি জানিয়েছি ডিসির পদত্যাগ করতে হবে।

 

এদিকে পঞ্চগড়-১ আসনের শাপলা কলির প্রার্থীর নির্বাচনী এজেন্ট ও পঞ্চগড় শহর জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি নাসির উদ্দীন সরকার বাংলানিউজকে বলেন, আমরা পাঁচটি দাবি জানিয়েছি।

 

 

দাবিগুলো হলো- (১) গত ফ্যাসিস্ট আমলে তিনটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এসব নির্বাচনে যেসব প্রিসাইডিং অফিসার ও পোলিং অফিসার দায়িত্ব পালন করেছেন, তাদের গেজেট থেকে বাদ দিতে হবে। (২) দলীয় পদধারী কোনো ব্যক্তি প্রিসাইডিং বা পোলিং অফিসার হতে পারবেন না-তিনি যে দলেরই হোন না কেন। (৩) যারা ইতিপূর্বে প্রিসাইডিং ও পোলিং অফিসার ছিলেন না, বিশেষ করে মাদরাসার শিক্ষকরা-যারা এতদিন বঞ্চিত ছিলেন-তাদের এ কাজে নিয়োগ দিতে হবে। (৪) তেঁতুলিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং কোনো এক রাজনৈতিক দলের এজেন্ডা বাস্তবায়নকারী কর্মকর্তাকে অতিলম্বে অপসারণ করতে হবে। (৫) পঞ্চগড়ের রিটার্নিং কর্মকর্তা কাজী মো. সায়েমুজ্জামানকে পদত্যাগ করে চলে যেতে হবে। তিনি আরও বলেন, আমরা আমাদের দাবি নির্বাচন কমিশনের কাছে উপস্থাপন করেছি। তারা আমাদের কাছে ১২ ঘণ্টা সময় চেয়েছেন। তাদের অনুরোধে আমরা আমাদের কর্মসূচি আগামীকাল সকাল ১০টা পর্যন্ত স্থগিত করছি।

আন্দোলনের বিষয়ে পঞ্চগড়ের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক (ডিসি) কাজী মো. সায়েমুজ্জামান বাংলানিউজকে বলেন, নির্বাচন কমিশনে আমরা সব ছবি পাঠিয়েছি। এটা আমি তাদের জানিয়ে দিয়েছি। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশন যা করবে-সে অনুযায়ী কাজ করবো। এদিকে কমিশন তাদের নির্বাচন কমিশনে আবেদন করতে বলেছে বলে আমাকে জানিয়েছে।


   আরও সংবাদ