ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ১২ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ০৫:২৪ পূর্বাহ্ন | দেখা হয়েছে ১১ বার
গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। কেন্দ্রে কেন্দ্রে পৌঁছে গেছে ব্যালট পেপারসহ ভোটের উপকরণ। অবস্থান নিয়েছে নয় লাখের বেশি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে চলবে ভোটগ্রহণ।
এতে ১২ কোটি ৭৭ লাখ ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাচ্ছেন। এদের মধ্যে প্রবাসী ভোটার ও ভোটের দায়িত্বে নিয়োজিত ব্যক্তি, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী, কয়েদীরা প্রথমবারের মতো আইটি সাপোর্টেড পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন।
ভোটে কত দল, কত প্রার্থী:
নিবন্ধিত ৬০টি দলের মধ্যে ভোটে অংশ নিয়েছে ৫০টি দল। ২৯৯ আসনের ভোটে ৬০টি নিবন্ধিত দলের মধ্যে ৫০টি দল অংশগ্রহণ করছে।
দলের প্রার্থী ১ হাজার ৭৫৫ জন। স্বতন্ত্র ২৭৩ জন। মহিলা প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর সংখ্যা ৮৩ জন। এরমধ্যে দলীয় প্রার্থীর সংখ্যা ৬৩ জন।
বাকি ২০ জন হচ্ছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী। ভোটের পুরুষ প্রার্থীর সংখ্যা ১ হাজার ৯৪৬ জন। এর মধ্যে ১ হাজার ৬৯২ জন দলীয় প্রার্থী। পুরুষদের মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী ২৫৩ জন। শেরপুর-৩ আসনে একজন বৈধ প্রার্থী মারা যাওয়ায় আসনটিতে পরবর্তীতে নতুন তফসিলের মাধ্যমে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন করা হবে।
নির্বাচনে সবচেয়ে বেশি প্রার্থী দিয়েছে বিএনপি। ২৯০ জন প্রতিদ্বন্দ্বী রয়েছে এই দলের। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর রয়েছে ২২৭ জন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ২৫৭ জন, জাতীয় পার্টির (জাপা) ২০০ জন, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ৩২ জন, গণঅধিকার পরিষদের ৯৪ জন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী রয়েছে।
জয়-পরাজয় মেনে নেওয়ার আহ্বান সিইসির
ভোটের আগের সন্ধ্যায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে সকল দল ও প্রার্থীদের জয়-পরাজয় মেনে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। রাজনৈতিক দল, প্রার্থী ও ভোটারদের প্রতি আহবান; শান্তি ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ রক্ষার্থে সকলে দায়িত্বশীল ও যত্নবান হবেন। আমরা শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে নির্বাচন অনুষ্ঠান করতে চাই। যেকোনো অনভিপ্রেত ঘটনা মোকাবিলায় নির্বাচনী কর্মকর্তা, মাঠপর্যায়ে কর্মরত বিচারিক ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে সহায়তা করুন।
ভোটের মাঠে ৯ লাখ ১৯ হাজার ফোর্স, সেনা ১ লাখ
ভোটে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে ১ লাখ ৩ হাজার, নৌ বাহিনীর উপকূলীয় পাঁচ জেলায় ১৭ আসনে ৫ হাজার, আর বিমান বাহিনীর তিন হাজার ৫০০ সদস্য। সশস্ত্র বাহিনী বিচারিক ও গ্রেপ্তারের ক্ষমতা নিয়ে এবার ভোটের দায়িত্ব পালন করছে।
এ ছাড়া বিজিবির ৩৭ হাজার ৪৫৩ জন, কোস্ট গার্ড ৩ হাজার ৫৮৫ জন, পুলিশ ১ লাখ ৮৭ হাজার ৬০৩ জন, র্যাব ৯ হাজার ৩৪৯ জন, আনসার ৫ লাখ ৬৭ হাজার ৮৬৮ জন ও বিএনসিসি’র রয়েছে ১ হাজার ৯২২ জন সদস্য।
বিচার ভোটের মাঠেই
নির্বাচনী অপরাধের বিচার কাজ পরিচালনায় নিয়োজিত আছেন বিচারিক হাকিম ৬৫৭ জন, নির্বাহী হাকিম ১ হাজার ৪৭ জন ও নির্বাচনী তদন্ত কমিটিতে ৩০০ বিচারিক হাকিম নিয়োজিত রয়েছেন। এ ছাড়াও বিভিন্ন ধরনের কমিটি গঠন করা হয়েছে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে। বিভিন্ন নির্বাচনী অপরাধে ইতিমধ্যে ৪৬৮টি আচরণ বিধি ভঙ্গের দায়ে ২৫৯টি মামলায় প্রার্থী ও তাদের সমর্থকদের ৩২ লাখ ১৫ হাজার ৪৯০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এছাড়া নির্বাচনী তদন্ত কমিটি সংক্ষিপ্ত বিচারে জরিমানা করেছে ৩ লাখ ৮৮ হাজার ৫০০ টাকা।
বিচারিক হাকিমরা ভোটের মাঠেই বিভিন্ন অপরাধে বিভিন্ন মেয়াদের শাস্তিও দিতে পারেন। এছাড়া নির্বাচনী তদন্ত কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে নির্বাচনী অপরাধের কারণে প্রার্থিতাও বাতিল করতে পারে কমিশন।
৪ কোটি ৯০ লাখ তরুণ ভোটার
আসন্ন গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল নির্ধারণে মুখ্য ভূমিকা পালন করবেন ৪ কোটি ৯০ লাখ তরুণ ভোটার।
ইসি সূত্রগুলো জানিয়েছে, ৩৫ বছর বয়সী ভোটার সংখ্যা এবার ৪ কোটি ৯০ লাখ ৪৩ হাজার ৫৬১ জন। ১৮ থেকে ২৫ বছর বয়সী ভোটার সংখ্যা ২ কোটি ১২ লাখ ৪২ হাজার ৫৩১ জন। এদের মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ কোটি ১৭ লাখ ৫১ হাজার ৯০২ জন। নারী ভোটার ৯৪ লাখ ৯০ হাজার ২২১ জন। আর হিজড়া ভোটার ৪০৮ জন।
অন্যদিকে ২৫ থেকে ৩৫ বছর বয়সী ভোটার রয়েছে ১ কোটি ৭৮ লাখ ১ হাজার ৩০ জন। এদের পুরুষ ১ কোটি ৪১ লাখ ১ হাজার ৯০ জন। নারী ভোটার ১ কোটি ৩৬ লাখ ৮৯ হাজার ৫৬২ জন। আর হিজড়া ভোটার ৫৬৭ জন।
ইসি সচিব আখতার আহমেদ জানিয়েছেন, এবার ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৭৯৩ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাচ্ছেন। পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ৩৬১ জন। নারী ভোটার ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ২০০ জন। আর হিজড়া ভোটার ১ হাজার ২৩২ জন।
অর্ধেকের বেশি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ, পৌনে ৭ লাখ ভোট কর্মকর্তা
নির্বাচনে ৪২ হাজার ৭৭৯টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ করা হবে। এর মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র ২১ হাজার ৫০৬টি।
এসব কেন্দ্রে ৭ লাখ ৮৫ হাজার ২২৫ জন ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা ভোট নেবেন। এদের মধ্যে প্রিজাইডিং অফিসার ৪২ হাজার ৭৭৯ জন, সহকারি প্রিজাইডিং অফিসার ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৮২ জন, পোলিং অফিসার ৪ লাখ ৯৪ হাজার ৯৬৪ জন। এবারের নির্বাচনে ঢাকা ও চট্টগ্রামের দুই বিভাগীয় কমিশনার, ৬৪ জন জেলা প্রশাসক ও তিনজন আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ৫৯৮ জন।
মেট্রোপলিট্রন এলাকার বাইরে সাধারণ কেন্দ্রে ১৭ জন এবং ঝুঁকি পূর্ণ কেন্দ্রে ১৮ জনের ফোর্স মোতায়েন থাকবে। এছাড়া মেট্রোপলিটন এলাকার সাধারণ কেন্দ্রে ১৬ জন এবং ঝুঁকি পূর্ণ কেন্দ্রে থাকবে ১৭ জনের ফোর্স। অন্যদিকে পার্বত্য ও দুর্গম এলাকার সাধারণ কেন্দ্রে ১৭ জন ও ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে ১৮ জনের ফোর্স মোতায়েন থাকবে।
ভোটের মাঠ মনিটরিংয়ে মানুষবিহীন আকাশযান
এবারের নির্বাচনে সব বাহিনীই ড্রোন ব্যবহার করবে। তবে বিমানবাহিনী প্রধানের সরাসরি তত্ত্বাবধানে সারা বাংলাদেশে হেলিকপ্টার, পরিবহন বিমান এবং নির্বাচনকালীন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি মনিটরিংয়ের জন্য আইএসআর (ইন্টেলিজেন্স, সার্ভেইল্যান্স অ্যান্ড রিকনেসান্স) ভূমিকায় একাধিক ইউএভি (মানববিহীন আকাশযান) মোতায়েন করা হয়েছে। এসব ইউএভি আকাশ থেকে ভূমির পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে এবং সে অনুযায়ী মাঠে অবস্থানরত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দ্রুততম সময়ে পরিস্থিতি মোকাবিলায় দিকনির্দেশনা দিতে সক্ষম। মোতায়েনকৃত ইউএভিগুলো বাংলাদেশের আকাশসীমা রক্ষায় একটি কৌশলগত সম্পদ (স্ট্র্যাটেজিক অ্যাসেট), যা বর্তমানে সক্রিয় রয়েছে। নির্বাচন কমিশনের এক নির্দেশনায় বিমানবাহিনীকে আকাশ থেকে ভোটের মাঠের লাইভ ফিড কেন্দ্রীয় মনিটরিং সেল ও প্রধান উপদেষ্টার দপ্তরে প্রদর্শনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ভোটার নম্বর জানা যাবে চার পদ্ধতিতে
ভোটারদের ভোটদানের সুবিধার্থে ভোটার নম্বর ও ভোটকেন্দ্রের তথ্য জানার জন্য চারটি সহজ পদ্ধতি চালু করেছে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন। এসব পদ্ধতির মাধ্যমে ভোটাররা দ্রুত ও নির্ভুলভাবে ভোটার নম্বর এবং ভোটকেন্দ্রের তথ্য জানতে পারবেন।
পদ্ধতি-১: স্মার্ট ইলেকশন ম্যানেজমেন্ট বিডি অ্যাপ
ভোটাররা স্মার্ট ইলেকশন ম্যানেজমেন্ট বিডি অ্যাপের মাধ্যমে ভোটার নম্বর ও ভোটকেন্দ্রের তথ্য জানতে পারবেন। এজন্য ভোটারকে Play Store বা App Store থেকে Smart Election Management BD অ্যাপ ডাউনলোড করে ইনস্টল করতে হবে। অ্যাপটি ইনস্টলের পর ড্যাশবোর্ড থেকে ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন’ সিলেক্ট করে ‘ভোট কেন্দ্র খুঁজুন’ অপশনে ক্লিক করতে হবে। এরপর এনআইডি নম্বর ও জন্ম তারিখ ইনপুট দিয়ে অনুসন্ধান করলে ভোটার নম্বর, ভোটার ক্রমিক নম্বর, ভোটকেন্দ্রের নাম ও কেন্দ্রের ঠিকানা প্রদর্শিত হবে।
পদ্ধতি-২: হটলাইন নম্বর ১০৫
ভোটার নম্বর ও ভোটকেন্দ্রের তথ্য জানার জন্য বাংলাদেশের যে-কোনো ভোটার হটলাইন নম্বর ১০৫-এ কল করতে পারবেন। এজন্য হটলাইন নম্বর ১০৫-এ কল করার পর অপারেটরের সঙ্গে কথা বলতে ৯ প্রেস করতে হবে। এ পদ্ধতিতে তথ্য জানতে ভোটারের এনআইডি নম্বর ও জন্ম তারিখ প্রয়োজন। এজন্য এসব তথ্য হাতে নিয়ে হটলাইন নম্বর ১০৫-এ কল করতে হবে। প্রতিদিন ভোর ৬টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত এ সেবা চালু থাকবে।
পদ্ধতি-৩: ১০৫ নম্বরে এসএমএস-এর মাধ্যমে
এসএমএস-এর মাধ্যমে ভোটার নম্বর ও ভোটকেন্দ্রের তথ্য জানতে মোবাইলের মেসেজ অপশনে গিয়ে PC NID লিখে ১০৫ নম্বরে মেসেজ পাঠাতে হবে। ফিরতি এসএমএস-এর মাধ্যমে ভোটার নম্বর ও ভোটকেন্দ্রের তথ্য জানিয়ে দেওয়া হবে।
পদ্ধতি-৪: নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে
নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইট ব্যবহার করেও ভোটার নম্বর ও ভোটকেন্দ্রের তথ্য জানা যাবে। এ জন্য ল্যাপটপ, ডেক্সটপ কম্পিউটার বা মোবাইলের যে-কোনো ব্রাউজার থেকে ecs.gov.bd ওয়েবসাইটে প্রবেশ করতে হবে। এরপর ওয়েবসাইটের ‘ভোটকেন্দ্র’ মেনুতে ক্লিক করলেই ভোটকেন্দ্র অনুসন্ধানের অপশন পাওয়া যাবে। ওয়েবসাইটে দুটি উপায়ে ভোটকেন্দ্র খোঁজা যাবে। প্রথমত, নির্বাচনী এলাকা, উপজেলা/থানা নির্বাচন করে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রের তালিকা দেখা যাবে। দ্বিতীয়ত, এনআইডি নম্বর ও জন্ম তারিখ দিয়ে অনুসন্ধান করলে ভোটার নম্বর ও ভোটকেন্দ্রের তথ্য জানা যাবে। এছাড়া ওয়েবসাইটে ভোটকেন্দ্রের অবস্থান সরাসরি গুগল ম্যাপে দেখার সুবিধা রয়েছে। গুগল ম্যাপের মাধ্যমে ভোটকেন্দ্রের দূরত্ব এবং যাওয়ার পথ সম্পর্কেও বিস্তারিত জানা যাবে।
সরাসরি ইসির কাছে অভিযোগ দিতে ৫টি নম্বর
বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনে আইন-শৃঙ্খলা সমন্বয় সেল স্থাপন করা হয়েছে। সমন্বয় সেলে যোগাযোগের টেলিফোন নম্বরসমূহ হচ্ছে— ০২৫৫০০৭৪৭০, ০২৫৫০০৭৪৭১, ০২৫৫০০৭৪৭২, ০২৫৫০০৭৪৭৪ এবং ০২৫৫০০৭৫০৬।
টেলিফোন নম্বরসমূহে দেশের যে-কোনো নাগরিক নির্বাচনী আচরণ-বিধি লঙ্ঘন, অনিয়ম এবং অপপ্রচার-সংক্রান্ত অভিযোগ/তথ্য আইন-শৃঙ্খলা সমন্বয় সেলে জানাতে পারবেন। আগামী ১৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আইন-শৃঙ্খলা সমন্বয় সেল চালু থাকবে।
রিটার্নিং কর্মকর্তাদের হাতে পৌঁছেছে ১০ লাখ পোস্টাল ভোট
দেশে ও দেশের বাইরে থেকে আইটি সাপোর্টেড পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার জন্য ১৫ লাখ ৩৩ হাজার ভোটার ভোট দেওয়ার জন্য নিবন্ধন করেছিলেন। এদের মধ্যে ১০ লাখ পোস্টাল ভোট রিটার্নিং কর্মকর্তাদের হাতে পৌঁছেছে।
প্রবাসীদের জন্য ৭ লাখ ৬৬ হাজার ৮৬২টি ব্যালট পাঠানো হয়েছে। এরমধ্যে ভোট দিয়ে দেশে পাঠানো হয়েছে ৪ লাখ ৯১ হাজার ৬১৫ জন। আর রিটার্নিং কর্মকর্তার হাতে পৌঁছেছে ৪ লাখ ৬৬ হাজার ২৪৩ জন।
এদিকে দেশের ভেতরে বিভিন্ন স্থানে ৭ লাখ ৬০ হাজার ৮৯৮ জনের কাছে ব্যালট পাঠানো হয়েছিল। এর মধ্যে ভোট দিয়ে ব্যালট রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে পাঠিয়েছেন ৫ লাখ ৩৫ হাজার ৪৫৩ জন। বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৪টার মধ্যে যে সকল ভোট ডাক যোগে পৌঁছবে সেগুলো গণনা করবেন রিটার্নিং কর্মকর্তারা।
নির্বাচনের প্রস্তুতি গুছিয়ে এনে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেছেন, ভোটের পরিবেশ খুব ভালো৷ উৎসবমুখব পরিবেশ বিরাজ করছে। আমরা খুব পরিকল্পিতভাবে কাজ করছি৷ আশাকরি ভোটের ফলাফল প্রকাশে খুব বিলম্ব হবে না।
এবারের নির্বাচনটি বেশ কিছু কারণে অন্যতম তাৎপর্যপূর্ণ। জুলাই অভ্যুত্থানের পর মাত্রা দেড় বছরের মাথায় শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সংসদ ভেঙ্গে গেলে নতুন বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্য নিয়ে আয়োজন হচ্ছে গণভোটের। সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে একইদিনে গণভোট অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আবার দীর্ঘ চার দশক পর শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়া বিহিনী ভোটের আয়োজন দেখছে দেশবাসী। এছাড়া বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ভোট বর্জন করে নিজে থেকে নির্বাচনে বাইরে থাকলেও অতীতে কখনো দলটিকে বাইরে রেখে নির্বাচন কমিশন ভোটের আয়োজন করেনি। জুলাই অভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তী সরকার দলটির কার্যাক্রম স্থগিত করলে ইসি আওয়ামী লীগের নিবন্ধন স্থগিত করে। ফলে নৌকা প্রতীক কমিশন তার তালিকা থেকেও বাদ দিয়েছে।
আবার বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীও ২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর এবার ভোটের সুযোগ পেয়েছে। দীর্ঘ ১২ যুগ দলটির নিবন্ধন বাতিল অবস্থায় ছিল। এই অবস্থায় এবারের নির্বাচনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে। ভোটের আগের দিন এসে বিএনপির প্রত্যাশা ইসি সুষ্ঠু, সুন্দর নির্বাচনে শক্তিশালী ভূমিকা রাখবে। অন্যদিকে জামায়াত বলেছে, শুধু আশ্বাস নয়, জাতি দেখতে চায় ইসি কোন কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।
ভোট দেখার জন্য এবার দেশি-বিদেশি রেকর্ড সংখ্যক পর্যবেক্ষক নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করছেন। ভোট পর্যবেক্ষণে বিদেশি পর্যবেক্ষক ইসির নিমন্ত্রণে ৫৭ জন, স্বেচ্ছায় ৩৩৫ জন, বিদেশি সাংবাদিক ১৫৬ জন ইতিমধ্যে দেশে এসেছেন। ৪০টি দেশ; ওআইসি, অ্যানফ্রেল, ইইউ, আইআরআই, এনডিআই, আইসিএপিপি, এসএনএস আফ্রিকা, কমনওয়েল্থ অ্যান্ড ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনাল পর্যবেক্ষণ করছে এবারের ভোট। এছাড়াও দেশি পর্যবেক্ষক রয়েছে ৮০ সংস্থার ৪৪ হাজার ৯৯৫ জন। ঢাকায় ৯ হাজার কেন্দ্রীয়ভাবে এবং স্থানীয়ভাবে ৪২ হাজারের মতো সাংবাদিক ভোটের মাঠে রয়েছেন।