ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ১৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ০৯:৪৬ পূর্বাহ্ন | দেখা হয়েছে ২০ বার
লিয়াকত হোসাইন লায়ন, জামালপুর প্রতিনিধি
জামালপুরে বীর মুক্তিযোদ্ধাসহ অসুস্থ প্রবীণদের নিয়ে এক ব্যাতিক্রম রিক্সা ভ্রমণের আয়োজন করা হয়েছে। অসুস্থতা ও বার্ধক্যজনিত কারণে চলাফেরা করতে অক্ষম ব্যাক্তিরা দীর্ঘদিন পর নিজ এলাকায় ঘুরতে বের হতে পারায় তারা বেশ উৎফুল্ল। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক গ্রুপ ‘আমাদের পাথালিয়া’ নামে স্থানীয়দের একটি প্ল্যাটফর্ম এই উদ্যোগ গ্রহণ করে।
জামালপুর পৌর শহরের পাথালিয়া এলাকার তরুণরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ‘আমাদের পাথালিয়া’ নামে একটি প্ল্যাটফর্ম গড়ে তুলেছেন। এই প্ল্যাটফর্মের উদ্যোগে এলাকায় বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়ে থাকে। এরই ধারাবাহিকতায় একটি ব্যাতিক্রমী আয়োজন করে ‘আমাদের পাথালিয়া’ গ্রুপের উদ্যোক্তারা। পাথালিয়া এলাকার যেসব বয়ষ্ক ও অসুস্থ ব্যাক্তি যারা স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে সক্ষম নন তাদের নিয়ে একটি রিক্সা ভ্রমণের আয়োজন করা হয়। স্থানীয় বয়ষ্ক বীর মুক্তিযোদ্ধা ও অন্যান্য প্রবীণরা গতকাল সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারী) বিকেলে পাথালিয়া বকুলতলা মোড় থেকে নিজ এলাকায় রিক্সা ভ্রমণে বের হন। পাথালিয়া এলাকার ছাতার মোড়, গুয়াবাড়িয়া, মাঠপাড়, কম্পুপুর, পশ্চিমপাড়া হয়ে আবার পাথালিয়া বকুলতলা মোড়ে এসে রিক্সা ভ্রমণ শেষ হয়। প্রায় বিশ জন প্রবীণ ব্যাক্তি এই ভ্রমণে অংশ নেন। ফেসবুক গ্রুপ ‘আমাদের পাথালিয়া’র প্রতিষ্ঠাতা এডমিন সমাজকর্মী রাসেল মিয়া ও উদ্যোক্তা সোহানুর রহমান রিক্সায় করে সাবইকে নিজ এলাকা ঘুরে দেখান। দীর্ঘদিন পর বাইরে বের হয়ে নিজ এলাকা ঘুরে দেখে বেশ আনন্দিত তারা। ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে এই ধরণের আয়োজন করা হবে বলে জানান আয়োজকরা।
বীর মুক্তিযোদ্ধা সামসুল হক সুরুজ (৭৫) বলেন, আমি অনেক দিন থেকে অসুস্থ বাইরে খুব বেশী বের হতে পারিনা। আজ নিজের এলাকা ঘুরে দেখে ভালো লাগলো। ভবিষ্যতে এমন আয়োজন করলে আমিও থাকব। বীর মুক্তিযোদ্ধা সিদ্দিকুর রহমান (৮০) বলেন, দীর্ঘদিন পরে রিক্সায় করে নিজের এলাকা ঘুরে দেখলাম। এলাকায় অনেক পরিবর্তন হয়েছে। আমার সঙ্গী অনেক মুক্তিযোদ্ধা মারা গেছে, ঘুরে বাড়ানোর সময় শুধু তাদের বাড়িঘর ও কবর চোখে পড়ল। প্রবীণ ব্যাক্তি মফিজুর রহমান (৬৫) বলেন, হঠাৎ করে আমাদের গ্রামটি ঘুরে দেখানো হলে। অনেক দিন পর নিজের গ্রাম ঘুরে দেখলাম, অনেকের সাথে দেখা হলো আমি খুবই আনন্দিত।
আব্দুল গফুর (৮০) বলেন, আমি আগে রিক্সা চালাইতাম, এখন নিজেই চলতে পারি না, অচল। আমি আমার স্ত্রীকে নিয়ে সাড়ে তিনি বছর পর রিক্সায় করে ঘুরলাম, আমার খুব ভালো লাগছে। তার স্ত্রী ফাতেমা বেগম (৬০) বলেন, আমার স্বামী দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ। তাকে রেখে কোথাও যেতেও পারি না। আজ নিজের স্বামীর সাথে অনেক দিন পর ঘুরলাম।
আমাদের পাথালিয় গ্রুপের এডমিন সোহানুর রহমান বলেন, এই উদ্যোগের মাধ্যমে পাথালিয়ার তরুণ প্রজন্মকে উজ্জীবিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে যেন তারা প্রবীণদের অনুসরণ করে সঠিক পথে এগিয়ে যেতে পারে। পাথালিয়ায় প্রায় ২০ হাজার মানুষ বসবাস করে। এখানকার তরুণরা যেন মেধা ও দক্ষতার মাধ্যমে বেকারত্ব দূর করে একটি আদর্শ, আধুনিক ও উন্নত পাথালিয়া গড়ে তুলতে পারে, সেজন্য এই ফেসবুক প্ল্যাটফর্মটি কাজ করে যাচ্ছে। উন্নয়নমূলক কাজের পাশাপাশি এই গ্রুপটি বিভিন্ন সামাজিক কাজও করে থাকে, যেমন অসহায় ও দরিদ্র মানুষদের খুঁজে বের করে সহায়তা করা। আধুনিক পাথালিয়া গড়ে তোলার জন্য দেশে-বিদেশী ও বিভিন্ন জেলায় কর্মরতদের একত্র হয়ে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়েছে। লক্ষ্য হলো, পাথালিয়ার এই ভালো কাজগুলো দেখে যেন সারা জামালপুর জেলার তরুণরা উজ্জীবিত হয় এবং জামালপুর জেলা যেন সারা বাংলাদেশে একটি ব্র্যান্ড হিসেবে পরিচিতি পায়।
আমাদের পাথালিয়া ফেসবুক গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা এডমিন ও সমাজকর্মী রাসেল মিয়া জানান, আমাদের পাথালিয়া ফেসবুক গ্রুপের আয়োজনে পাথালিয়ার অসুস্থ বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং প্রবীণ মানুষদেরকে নিয়ে আজকে একটি ব্যতিক্রমধর্মী রিক্সা ভ্রমন অনুষ্ঠান ছিল। এই অনুষ্ঠানের মূল উদ্দেশ্য হলো আমাদের পরিবারের প্রবীণ ও অসুস্থ সদস্যদের সময় দেওয়া, কারণ তারা একসময় আমাদের গভীর যত্নে বড় করেছেন এবং তারা আমাদের পরিবারের বোঝা নন। অসুস্থতার কারণে তারা দীর্ঘদিন গ্রামের আলো-বাতাস ও পরিচিত মানুষদের থেকে দূরে ছিলেন। এই আনন্দ র্যালি বা রিক্সা ভ্রমণের মাধ্যমে তারা একে অপরের সাথে কুশল বিনিময় করতে পেরেছেন। যা তাদের সুস্থতার জন্য সহায়ক হবে। পাথালিয়া ফেসবুক গ্রুপ বিশ^াস করে যে প্রবীণরা আমাদের শক্তি ও আশা সঞ্চারের উৎস এবং তাদের কাছ থেকেই তরুণ প্রজন্মকে শিখতে হবে। অসুস্থতার কারণে অনেকেই আজ বের হতে পারেনি। ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে এই ধরণের আয়োজন করা হবে।