ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ২১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ২১:২০ অপরাহ্ন | দেখা হয়েছে ১৭ বার
মাদারীপুর জেলার শিবচর উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) অধীনে নির্মাণাধীন একটি সড়কের গাইডওয়ালে ইটের গাঁথুনির নিচে আস্ত কলাগাছ ব্যবহার করার অভিযোগ উঠেছে। শক্ত মাটি বা কংক্রিটের বিম নির্মাণ না করে কলাগাছ রেখে তার ওপর ইটের গাঁথুনি দেওয়া হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানান।
বিষয়টি স্থানীয়দের নজরে এলে তারা ছবি ও ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেন। ঘটনাটি ঘটেছে শিবচর উপজেলার শিরুয়াইল ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের চরকাকইর চৌরাস্তা মোড়ে।
শিবচর উপজেলা এলজিইডি কার্যালয় ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার শিরুয়াইল ইউনিয়নের সাদেকাবাদ হয়ে সিপাইকান্দি থেকে মুন্সীকান্দি গ্রাম পর্যন্ত সড়কের গাইডওয়াল নির্মাণকাজ শুরু হয় ছয় মাস আগে। শুরু থেকেই নির্মাণকাজে ধীরগতি দেখা যায়। অভিযোগ রয়েছে, নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের পাশাপাশি মাটির ওপর কলাগাছ রেখে তার ওপর ইটের গাঁথুনি দিয়ে কাজ চালিয়ে যাচ্ছিলেন ঠিকাদার।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, চরকাকইর এলাকার একটি মসজিদের সামনে নির্মাণাধীন গাইডওয়ালের ইটের গাঁথুনির নিচে কয়েক স্থানে কলাগাছ ব্যবহার করা হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা হাবিবুর রহমান বলেন, আমাদের এলাকার এই সড়কটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ সড়ক ব্যবহার করে কয়েক হাজার মানুষ উপজেলা সদরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করেন। গাইডওয়ালের নিচে কলাগাছ ব্যবহার ছাড়াও সড়ক নির্মাণে নিম্নমানের মালামাল ব্যবহার করা হয়েছে। নির্মাণকাজের অনিয়ম তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
অভিযোগের বিষয়ে ঠিকাদার আলমগীর জমাদ্দার বলেন, তাকে কেউ বিষয়টি জানায়নি। যে রাজমিস্ত্রি কাজটি করেছেন, তাকে জিজ্ঞেস করা হয়েছে কেন এমন কাজ করা হয়েছে। তিনি এ ধরনের নির্দেশ দেননি বলে দাবি করেন।
তিনি আরও বলেন, ব্যবহৃত মালামাল গুণগত মানসম্পন্ন। কলাগাছ সরিয়ে সঠিক নিয়মে কাজ করে দেওয়া হবে।
শিবচর উপজেলা এলজিইডির উপসহকারী প্রকৌশলী জামাল শিকদার বলেন, নির্বাচনের পর অফিস খোলার পর আর ওই স্থানে যাওয়া হয়নি। গাইডওয়াল নির্মাণের বিষয়েও খোঁজ নেওয়া হয়নি। এ সুযোগে অনিয়ম হয়ে থাকতে পারে। কলাগাছ সরিয়ে নতুন করে কাজ করানো হবে।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) রেজাউল করিমের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
জেলা নির্বাহী প্রকৌশলী (এলজিইডি) বাদল চন্দ্র কীর্তনীয়া বলেন, শিবচর উপজেলা প্রকৌশলী ও ঠিকাদারের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। সরকারি কাজে এমন গাফিলতি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
শিবচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এইচ এম ইবনে মিজান বলেন, গাইডওয়ালের ইটের গাঁথুনির নিচে কলাগাছ ব্যবহার করা বোধগম্য নয়। উপজেলা প্রকৌশলী ও ঠিকাদারের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।