আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ৪ মার্চ, ২০২৬ ০৮:৫৯ পূর্বাহ্ন | দেখা হয়েছে ৭ বার
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, তার প্রশাসনের অভিযানে ইরানের নৌ ও বিমানবাহিনী পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসে জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মার্জের সঙ্গে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ দাবি করেন।
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা স্থবির হয়ে পড়ার পর গত শনিবার থেকে দেশটিতে হামলা শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। অভিযানের চতুর্থ দিনে ট্রাম্প জানান, ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাও এখন অকার্যকর।
কোনো উস্কানি ছাড়াই কেন হামলা চালানো হলো; হোয়াইট হাউসে আসা সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, তার ‘মনে হয়েছিল’ ইরান আগে হামলা করতে পারে, তাই তিনি আগাম এই অভিযানের নির্দেশ দিয়েছেন।
ইসরায়েল তাকে এই যুদ্ধে বাধ্য করেছে কি না; এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প উল্টো দাবি করেন, তিনিই হয়তো ইসরায়েলকে এই পথে এনেছেন।
এর আগে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছিলেন, ইসরায়েল ইরানে হামলা করতে যাচ্ছে জানার পরই যুক্তরাষ্ট্র এই অভিযানে অংশ নেয়। তবে আল জাজিরার প্রতিবেদক কিম্বার্লি হালকেট জানিয়েছেন, মার্কিন স্বার্থে সরাসরি বড় কোনো হুমকি ছাড়া প্রেসিডেন্টের এমন যুদ্ধ ঘোষণার আইনি ভিত্তি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে বিতর্ক তৈরি হতে পারে।
ব্যবসায়িক আলোচনা ও ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে কথা বলতে ওয়াশিংটন সফরে আসা জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মার্জ এই অভিযানে মার্কিন-ইসরায়েল জোটের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। তবে চলমান যুদ্ধের কারণে বিশ্ববাজারে তেল ও গ্যাসের দাম বেড়ে যাওয়ায় তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে দ্রুত যুদ্ধ শেষ করার আশা ব্যক্ত করেন।
মার্জ বলেন, আমরা ইরানের বর্তমান শাসক গোষ্ঠীকে ক্ষমতা থেকে সরানোর বিষয়ে একমত। অভিযান পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে আমরা আলোচনা করব।
জার্মানির ভূমিকার প্রশংসা করে ট্রাম্প বলেন, ব্রিটেন ও স্পেনের তুলনায় জার্মানি অনেক বেশি সহযোগিতামূলক আচরণ করছে। তারা মার্কিন বাহিনীকে তাদের ঘাঁটি ব্যবহারের সুযোগ দিচ্ছে, যা অভিযান পরিচালনায় সুবিধা দিচ্ছে। তবে এই যুদ্ধে জার্মানির সরাসরি সৈন্য পাঠানোর প্রয়োজন নেই বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
উল্লেখ্য, দেশের মাটিতে রাজনৈতিক চাপের মুখে থাকলেও চ্যান্সেলর মার্জ এখন পর্যন্ত মার্কিন অভিযানের সরাসরি কোনো সমালোচনা করেননি। অন্যদিকে, তেহরান ইতিমধ্যেই হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দিয়েছে এবং মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ও মিত্রদের লক্ষ্যবস্তুতে পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা অব্যাহত রেখেছে।