ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ৭ মার্চ, ২০২৬ ১৪:২৮ অপরাহ্ন | দেখা হয়েছে ১৮ বার
ফরিদপুর : ঈদের আগে হঠাৎ করেই বাজারে পেঁয়াজের দাম কমে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন ফরিদপুরের কৃষকেরা। বিশেষ করে জেলার সালথা ও নগরকান্দা উপজেলার পেঁয়াজ চাষিরা আগাম তোলা ফসল কম দামে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। ফলে উৎপাদন খরচ তুলতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের।
কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে সালথা ও নগরকান্দা উপজেলায় প্রায় ২৫ হাজার হেক্টর জমিতে পেঁয়াজের আবাদ হয়েছে।
প্রতিবছরের মতো এবারও এই দুই উপজেলার ১৮টি ইউনিয়নে ব্যাপক পরিসরে পেঁয়াজ চাষ করেছেন কৃষকেরা। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এ বছর বাম্পার ফলনের সম্ভাবনাও রয়েছে।
তবে ভালো ফলনের আশা থাকলেও বাজারে দাম কমে যাওয়ায় হতাশ হয়ে পড়েছেন কৃষকেরা। রমজান মাসে সংসারের বাড়তি খরচ মেটাতে অনেকেই অপরিপক্ব পেঁয়াজ তুলে বাজারে বিক্রি করছেন।
কিন্তু বাজারে আশানুরূপ দাম না পাওয়ায় উৎপাদন খরচই উঠছে না বলে জানিয়েছেন তারা।
গত বছর একই সময়ে আগাম পেঁয়াজের দাম ছিল প্রতিমণ ২ হাজার থেকে ২ হাজার ২শ টাকা। কিন্তু এবার বাজারে সরবরাহ বেড়ে যাওয়ায় দাম নেমে এসেছে ৯৫০ থেকে ১১শ টাকায়।
শুক্রবার (৬ মার্চ) সকালে সালথা উপজেলার গট্টি ইউনিয়নের বালিয়া বাজারে গিয়ে দেখা যায়, ভোর থেকেই কৃষকেরা মাথায় বা ভ্যানে করে পেঁয়াজ নিয়ে বাজারে আসছেন।
তবে ক্রেতা তুলনামূলক কম থাকায় অনেকেই দীর্ঘ সময় বসে থেকেও ভালো দাম পাচ্ছেন না।
বালিয়া বাজারে পেঁয়াজ বিক্রি করতে আসা কৃষক মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, সার, বীজ, কীটনাশক, শ্রমিক মজুরি ও সেচসহ প্রতিমণ পেঁয়াজ উৎপাদনে প্রায় ১৪০০ থেকে ১৫০০ টাকা খরচ হয়েছে। অথচ বাজারে বিক্রি করতে হচ্ছে মাত্র ৯০০ থেকে ১১০০ টাকা দরে। এতে প্রতিমণে অন্তত ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা লোকসান হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, রমজানে সংসারের খরচ বেশি থাকায় বাধ্য হয়েই আগাম পেঁয়াজ তুলে বাজারে আনতে হয়েছে।
কৃষকেরা জানান, বর্তমানে যে পেঁয়াজ বাজারে আসছে এগুলো পরিপক্ব হতে আরও এক থেকে দেড় মাস সময় লাগবে। অপরিপক্ব অবস্থায় তোলা পেঁয়াজ দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করা যায় না এবং দ্রুত পচে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই বাধ্য হয়েই অনেক কৃষক কম দামে বিক্রি করছেন।
স্থানীয় পেঁয়াজ ব্যবসায়ী আব্দুল খালেক বলেন, গত এক সপ্তাহ ধরে পেঁয়াজের বাজার খুব খারাপ। আমরা কৃষকদের কাছ থেকে প্রতি কেজি ২৫ থেকে ২৬ টাকা দরে পেঁয়াজ কিনছি। পরে ঢাকাসহ বিভিন্ন জায়গায় পাঠাতে গিয়ে অনেক সময় আরও কম দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। তার মতে, পেঁয়াজের দাম প্রতিমণ ১৫০০ থেকে ২০০০ টাকার মধ্যে থাকলে কৃষক ও ব্যবসায়ী উভয়েই লাভবান হতে পারবেন।
এ বিষয়ে সালথা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সুদর্শন সিকদার বলেন, পেঁয়াজ উত্তোলনের মূল সময় এখনও আসেনি। অনেক কৃষক আগাম পেঁয়াজ তুলছেন, এতে ফলন কম হওয়ার পাশাপাশি দামও কম পাচ্ছেন। তাই যতটা সম্ভব পরিপক্ব হওয়ার পরই পেঁয়াজ তুলতে কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এ বছর সালথা ও নগরকান্দায় পেঁয়াজের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে বাজারদর স্থিতিশীল না থাকলে সেই সুফল কৃষকেরা নাও পেতে পারেন।
স্থানীয় কৃষকদের দাবি, কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে সরকারকে আরও কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। সংরক্ষণ ব্যবস্থা ও বাজার ব্যবস্থাপনা উন্নত করা গেলে কৃষকেরা ন্যায্য দাম পাবেন বলে মনে করছেন তারা।
বর্তমানে আগাম পেঁয়াজ কম দামে বিক্রি করে অনেক কৃষক লোকসানে পড়লেও মৌসুমের মূল সময়ে বাজারদর বাড়বে এমন প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।