স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ৯ মার্চ, ২০২৬ ০৯:২১ পূর্বাহ্ন | দেখা হয়েছে ২৬ বার
নারীদের জন্য ক্রীড়াঙ্গন নিরাপদ নয়, এই অভিযোগ লম্বা সময়ের। নানা সময়ে ঘটনা ঘটে যাওয়ার পরও সুষ্ঠ তদন্ত হয় না। বিচার পাওয়াতো দূরের পথ। এমন সব ঘটনা বন্ধে নারী ক্রীড়াবিদদের নীরাপত্তার স্বার্থে বিশেষ সেল গড়ার ঘোষণা দিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক।
আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে ‘রাইজ অব উইমেন ইন স্পোর্টস’ শীর্ষক বিশেষ গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করেছে ডেইলি সান। সেখানে বিভিন্ন ইভেন্টের নারী ক্রীড়াবিদরা উপস্থিত ছিলেন। শুটার কামরুন নাহার কলি, তামায়াতি এমা ক্রীড়াঙ্গনে নারীদের নানা সমস্যা তুলে ধরেছেন। এমার একটি প্রস্তাব ছিল নারীদের নিরাপত্তার স্বার্থে বিশেষ সেল গঠনের।
আমিনুল সেই প্রস্তাব সাদরে গ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানে আমিনুল বলেন, ‘আমি যে বিষয়টি নিয়ে প্রথমে বলতে চাই, আমরা সবার আগে আমাদের নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চাই। সেই নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য ইতিমধ্যেই আমি আমার মন্ত্রণালয়ে ক্রীড়া পরিষদের কর্মকর্তাদের সঙ্গে এবং অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক করেছি। নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য আমি একটি বিশেষ সেল তৈরি করব—যার কথা এখানে একজন বক্তাও কিছুক্ষণ আগে বলেছেন।
’
আমিনুল আরও যোগ করে বলেন, ‘আমাদের নারীদের নিরাপত্তা থেকে শুরু করে প্রতিটি খেলায় কীভাবে তাদের সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো যায়, তাদের পরিবারের কী ধরনের সমস্যা রয়েছে, এবং তারা যাতে আরও ভালোভাবে নিজেদের প্রস্তুত করতে পারে। সেসব বিষয় বিবেচনায় নেওয়া হবে। তাদের যত ধরনের সুবিধা দেওয়া প্রয়োজন, আমরা সেগুলো নিশ্চিত করতে চাই।’
সাবেক এই তারকা ফুটবলার নিজের খেলোয়াড়ি জীবনের অভিজ্ঞতা টেনে বলেন, একজন ক্রীড়াবিদ হিসেবে তিনি অ্যাথলেটদের সুযোগ-সুবিধা ও সমস্যার বিষয়গুলো গভীরভাবে অনুধাবন করেন।
তিনি জানান, নারী খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।
এই লক্ষ্যে ইতিমধ্যে আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় আলোচনা হয়েছে এবং খুব শীঘ্রই ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে একটি বিশেষ সেল গঠন করা হবে। এই সেল নারী অ্যাথলেটদের নিরাপত্তা থেকে শুরু করে তাদের পারিবারিক সমস্যা ও খেলাধুলার মানোন্নয়নে প্রয়োজনীয় সকল সুবিধা নিশ্চিতে কাজ করবে।
ক্রীড়াকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্যে প্রতিমন্ত্রী একটি বড় ঘোষণা দিয়ে জানান, দেশের ৫০০ জন জাতীয় পর্যায়ের খেলোয়াড়কে প্রাথমিক পর্যায়ে সরকারি বেতন কাঠামোর আওতায় আনার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ফুটবল, ক্রিকেট ছাড়াও আর্চারি, শুটিং, ভলিবল, বক্সিং, ভারোত্তোলন ও টেবিল টেনিসের মতো সব ধরণের খেলার অ্যাথলেটরা অন্তর্ভুক্ত থাকবেন। ক্রীড়াঙ্গনে সুশাসন ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেন, সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে ‘ক্রীড়া হলে পেশা, পরিবার পাবে ভরসা’—এই স্লোগানকে বাস্তবে রূপ দেওয়া।