ঢাকা, সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬,
সরকার অনুমোদিত নিবন্ধন নম্বর ১৯১
Reg:C-125478/2015

মিত্রদের সহযোগিতা চাইছেন ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক


প্রকাশ: ১৫ মার্চ, ২০২৬ ১৬:৪৪ অপরাহ্ন | দেখা হয়েছে ২৯ বার


মিত্রদের সহযোগিতা চাইছেন ট্রাম্প

মধ্যপ্রাচ্যে দ্রুত জটিল হয়ে উঠছে নিরাপত্তা পরিস্থিতি। ইরান–যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার মধ্যে একের পর এক হামলা, কূটনৈতিক সতর্কতা এবং সামরিক অবস্থান বদলের খবরে পুরো অঞ্চলই এখন অস্থির। সবশেষ পরিস্থিতিতে ইরান থেকে ছোড়া একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র শনিবার ভোরে আকাশেই প্রতিহত করার দাবি করেছে ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ক্ষেপণাস্ত্রগুলো দেশটির মধ্যাঞ্চলকে লক্ষ্য করে ছোড়া হয়েছিল।

জরুরি সেবা সংস্থাগুলোও জানায়, হামলার লক্ষ্য ছিল মধ্য ইসরায়েল। তবে এখন পর্যন্ত এতে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ।

 

একই সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের অন্য এলাকাতেও উত্তেজনা বাড়ছে। ড্রোন হামলার পর সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরা বন্দরে আগুন এখনো জ্বলছে বলে জানা গেছে।

পুরো অঞ্চলে বিচ্ছিন্ন হামলা ও পাল্টা হামলার খবর আসছে। এরই মধ্যে নিরাপত্তা ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় বিদেশে থাকা নাগরিকদের জন্য নতুন সতর্কতা জারি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। বাগদাদে মার্কিন দূতাবাস ভবনে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার পর ইরাকে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের দ্রুত দেশটি ছেড়ে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। দূতাবাসের সতর্ক বার্তায় বলা হয়েছে, ‘যত দ্রুত সম্ভব ইরাক ত্যাগ করা উচিত।

 

যারা এখনো ইরাকে অবস্থান করছেন, তাদের অত্যন্ত সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়ে দূতাবাস বলেছে, ইরানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সশস্ত্র মিলিশিয়া গোষ্ঠীর কারণে বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। শুধু ইরাক নয়, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি অবনতির প্রেক্ষাপটে কমপক্ষে ১২টি দেশ থেকে মার্কিন নাগরিকদের নিরাপদে চলে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে ওয়াশিংটন। একইসঙ্গে ওমান থেকে জরুরি নয় এমন মার্কিন সরকারি কর্মচারী এবং তাদের পরিবারের সদস্যদেরও দেশে ফিরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে রয়টার্স।

অন্যদিকে ইরানও কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দিয়েছে। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, পারস্য উপসাগরের কৌশলগত জলপথ হরমুস প্রণালী তেহরানের ‘শত্রুদের’ জন্য বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে।

এই উত্তেজনার মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও মিত্র দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। এর আগে তিনি যুক্তরাজ্যসহ অন্যান্য দেশকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগ দিয়ে হরমুজ প্রণালীতে যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর অনুরোধ করেছিলেন।

 

এনবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, তিনি এখনই ইরানের সঙ্গে কোনো নতুন চুক্তিতে যেতে প্রস্তুত নন। বরং প্রয়োজনে ইরানের কৌশলগত তেল রপ্তানি কেন্দ্র খারগ দ্বীপে আরও হামলার সম্ভাবনার কথাও ইঙ্গিত করেন তিনি।

এই আহ্বান নিয়ে বিভিন্ন দেশের মধ্যে সতর্ক প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচিএর আসন্ন যুক্তরাষ্ট্র সফরে বিষয়টি আলোচনায় উঠতে পারে বলে জানিয়েছে দেশটির গণমাধ্যম। জাপানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম এনএইচকেকে বলেন, পরিস্থিতি জাপানকে আত্মরক্ষা বাহিনী পাঠানোর মতো কঠিন সিদ্ধান্তের মুখে ফেলতে পারে। তবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আরেক কর্মকর্তা স্পষ্ট করেছেন, শুধু ট্রাম্পের আহ্বানেই জাপান তাৎক্ষণিকভাবে যুদ্ধজাহাজ পাঠাবে না; বিষয়টি স্বাধীনভাবে মূল্যায়ন করা হবে।

এদিকে সামরিক সহযোগিতার ক্ষেত্রেও যুক্তরাষ্ট্র কিছু বাধার মুখে পড়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে অভিযানে অংশ নেওয়া মার্কিন সামরিক বিমানের জন্য আকাশপথ ব্যবহারের দুটি আবেদন প্রত্যাখ্যান করেছে সুইজারল্যান্ড সরকার। তাদের ব্যাখ্যা, দেশটির নিরপেক্ষতার আইনে যুদ্ধসংক্রান্ত সামরিক উদ্দেশ্যে আকাশপথ ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া যায় না। তবে রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিবহন সংক্রান্ত তিনটি বিমানের ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়া হয়েছে।

এই উত্তেজনার মধ্যেই ইরাকে সামরিক দায়িত্ব পালনকালে নিহত ছয় মার্কিন সেনার পরিচয় প্রকাশ করেছে পেন্টাগন। গত ১২ মার্চ একটি জ্বালানিবাহী ট্যাংকার বিমান দুর্ঘটনায় তারা নিহত হন। নিহতরা হলেন জন আ ক্লিনার, আরিয়ানা জি সাভিনো, অ্যাশলে বি প্রুইট, সেই আর কোভাল, কার্টিস জে আংস্ট এবং টাইলার এইচ সিমন্স। তারা সবাই জ্বালানিবাহী বিমান বোয়িং কেসি-১৩৫ স্ট্র্যাটোট্যাংকারের ক্রু ছিলেন। ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযানে বিমানটি যুক্ত ছিল বলে জানিয়েছে পেন্টাগন। দুর্ঘটনার কারণ এখনো তদন্তাধীন।

এদিকে ইরানের নেতৃত্ব নিয়েও নতুন প্রশ্ন তুলেছেন ট্রাম্প। এনবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির অবস্থান নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন। ট্রাম্প বলেন, আমি জানি না সে আদৌ বেঁচে আছে কি না। এখন পর্যন্ত কেউ তাকে সামনে দেখাতে পারেনি। তবে পরবর্তী মন্তব্যে তিনি সম্ভাব্য মৃত্যুর খবরকে গুজব বলেও উল্লেখ করেন।


   আরও সংবাদ