ঢাকা, মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬,
সরকার অনুমোদিত নিবন্ধন নম্বর ১৯১
Reg:C-125478/2015

অতিরিক্ত তেল না কেনার আহ্বান

ডেস্ক রিপোর্ট


প্রকাশ: ৩১ মার্চ, ২০২৬ ১৪:৪৫ অপরাহ্ন | দেখা হয়েছে ১৬ বার


অতিরিক্ত তেল না কেনার আহ্বান

ঢাকা: বিশ্ববাজারে অস্থিরতা ও মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনায় দেশে জ্বালানি তেলের সরবরাহ ব্যবস্থায় সাময়িক টানাপোড়েন সৃষ্টি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষকে ‘প্যানিক বায়িং’ বা আতঙ্কিত হয়ে অতিরিক্ত তেল সংগ্রহ না করার অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলপাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন।

মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) দুপুরে রাজধানীর মগবাজারের গুলেফশা প্লাজায় আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের পক্ষ থেকে এই আহ্বান জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সংগঠনের আহ্বায়ক সৈয়দ সাজ্জাদুল করিম বলেন, গত কয়েকদিন ধরে দেশের প্রতিটি পেট্রোলপাম্পে এক ধরনের অস্থিরতা ও বিভীষিকাময় পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের রেশনিং বা সীমা নির্ধারণের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতে গিয়ে পাম্প মালিক ও কর্মচারীরা নাভিশ্বাস পরিস্থিতির মুখে পড়েছেন। বিশেষ করে উত্তরাঞ্চল ও দক্ষিণাঞ্চলের পাম্পগুলোতে তেলের দাবিতে হামলার ঘটনাও ঘটছে।

 

অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা বলেন, সরকার নির্ধারিত রেশনিং ব্যবস্থা মেনে চলাই এখন প্রধান সমাধান। একজন মোটরসাইকেল চালক যদি তার নির্ধারিত দুই লিটার তেলেই সন্তুষ্ট থাকেন, তবে পেছনের মানুষটিও বাড়ি ফেরার তেলটুকু পাবেন।

কিন্তু প্রত্যেকে যদি ট্যাংক পূর্ণ করার প্রতিযোগিতায় নামেন, তবে সাধারণ সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়বে।

 

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, দেশে বর্তমানে তেলের যে মজুত রয়েছে, তা দিয়ে সংকট মোকাবিলা সম্ভব। আন্তর্জাতিক বাজারের এই অস্থিরতা সাময়িক। তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কোনো ভিত্তিহীন খবরে কান না দিয়ে লাইনে শৃঙ্খলা বজায় রাখার অনুরোধ করা হয়েছে।

 

পাম্পগুলোতে আক্রমণ ও প্রাণহানির শঙ্কা জানিয়ে সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, সঠিক তথ্য না জেনে অনেক স্থানে পেট্রোলপাম্পের ওপর আক্রমণ করা হচ্ছে। এতে দায়িত্বরত স্টাফরা নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন।

সংগঠনের নেতারা বলেন, আমরা সরকারের প্রতিপক্ষ নই। সব দুর্যোগে আমরা পাশে ছিলাম এবং আছি। পাম্পে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করলে যেকোনো সময় মারাত্মক দুর্ঘটনাসহ জীবন বিপন্ন হতে পারে।

 

 

 
জ্বালানি তেল সরবরাহ নির্বিঘ্ন রাখতে অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে বিপিসি ও প্রশাসনের প্রতি ৮টি সুনির্দিষ্ট পরামর্শ ও দাবি তুলে ধরা হয়—

১. প্রতিটি পেট্রোলপাম্পে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
২. বাস্তবতার নিরিখে সামঞ্জস্যপূর্ণ তেল সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে।
৩. ক্রেতা সাধারণকে সচেতন ও ধৈর্য ধারণ করতে হবে।
৪. পাম্পে ট্যাংক শূন্য অবস্থায় তেল নিতে হুমড়ি খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।
৫. তেল বিক্রির সময়সীমা সকাল ৭টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত নির্ধারণ করতে হবে।
৬. উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে নিরাপত্তা জোরদার করতে হবে।
৭. ডিপো থেকে ট্যাংকলরির ধারণক্ষমতা (যেমন ৪,৫০০ লিটার) অনুযায়ী তেল সরবরাহ করতে হবে, অন্যথায় পরিবহন খরচ বাড়বে।
৮. সরকারি মনিটরিং জোরদার করতে হবে এবং অযথা পাম্প মালিকদের ওপর দোষ চাপানো যাবে না।

সংবাদ সম্মেলনে সরকারের ট্যাগ অফিসার নিয়োগের সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়ে বলা হয়, সেনাবাহিনী পরিচালিত ট্রাস্ট এনার্জি বা জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের পক্ষ থেকে রিফাইনারি সক্ষমতা বাড়ানোর যে দীর্ঘমেয়াদি পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, সরকার তা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে বলে মালিকরা আশাবাদী।

সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের সদস্য সচিব মীর আহসান উদ্দিন পারভেজ, সদস্য সাজ্জাদুর রহমান ইমন, সদস্য মিজানুর রহমান, অর্থ সম্পাদক মিজান প্রধান, যুগ্ম আহ্বায়ক জিয়া উদ্দিন আহমেদ, যুগ্ম আহ্বায়ক আবু হিরন ও সদস্য মাসুদ পারভেজ উপস্থিত ছিলেন।


   আরও সংবাদ