ঢাকা, মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬,
সরকার অনুমোদিত নিবন্ধন নম্বর ১৯১
Reg:C-125478/2015

অ-মুক্তিযোদ্ধাদের বাদ দিতে জোরালো পদক্ষেপ

ডেস্ক রিপোর্ট


প্রকাশ: ৩১ মার্চ, ২০২৬ ১৫:৫৭ অপরাহ্ন | দেখা হয়েছে ১৫ বার


অ-মুক্তিযোদ্ধাদের বাদ দিতে জোরালো পদক্ষেপ

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন বলেছেন, মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকায় অ-মুক্তিযোদ্ধাদের অন্তর্ভুক্তি মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পরিপন্থী। এ ধরনের অনিয়ম দূর করতে সরকার জোরালো পদক্ষেপ নেবে।

মঙ্গলবার ( ৩১ মার্চ) জাতীয় প্রেসক্লাবের আব্দুস সালাম হলে ডক্টর এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) আয়োজিত মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে ‘স্বাধীনতার ঘোষক ও রণাঙ্গনের জিয়া’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন। 

প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন বলেন, অনেকেই মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগ উত্থাপন করেছেন।

তবে মুক্তিযোদ্ধাদের আগে ‘ভুয়া’ শব্দটি ব্যবহার করাকে তিনি অসম্মানজনক মনে করেন। এর পরিবর্তে “অ-মুক্তিযোদ্ধা” বলা উচিত।

 

বিগত সময়ে মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকায় অনিয়ম হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকা) যাচাই-বাছাই করে মন্ত্রণালয়ে সুপারিশ পাঠায়, সেই সুপারিশের ভিত্তিতেই দপ্তর গেজেটভুক্ত বা বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

তিনি আরও জানান, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র ৩০ দিনের মধ্যেই কয়েকটি আবেদন নিষ্পত্তি করেছে।

এর মধ্যে কিছু গেজেট বাতিল করা হয়েছে এবং কয়েকজনকে নতুন করে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ভবিষ্যতেও যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া আরও জোরদার করা হবে।

 

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, অ-মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকাভুক্ত করার মাধ্যমে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান ক্ষুণ্ণ হয়। একজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হিসেবে তিনি এ ধরনের অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।

 

আলোচনায় তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণা ও মুক্তিযুদ্ধে তার ভূমিকার কথাও উল্লেখ করেন বলেন, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের কালরাতে যখন দেশের মানুষ স্বাধীনতার ঘোষণার অপেক্ষায় ছিল, তখন একজন তরুণ সেনা কর্মকর্তা হিসেবে জিয়াউর রহমান সাহসিকতার সঙ্গে স্বাধীনতার ঘোষণা দেন, যা দেশজুড়ে মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করে।

এ সময় তিনি ২০২১ সালে জিয়াউর রহমানের ‘বীর উত্তম’ খেতাব বাতিলের উদ্যোগের প্রসঙ্গ তুলে বলেন, বিষয়টি বাস্তবায়িত হয়নি এবং এ ধরনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে দলীয় নেতাকর্মীরা প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন।

সরকারের কার্যক্রম প্রসঙ্গে ইসহাক হোসেন বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের অল্প সময়ের মধ্যেই জ্বালানি সংকটসহ বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় আন্তরিকভাবে কাজ করছে। বৈশ্বিক পরিস্থিতির মধ্যেও সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকারের প্রতিটি খাতে সমস্যা চিহ্নিত করে সমাধানে কাজ চলছে।

সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরা নিরলসভাবে দায়িত্ব পালন করছেন এবং জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সমুন্নত রাখতে সরকার সবসময় সচেষ্ট থাকবে।

 

ড্যাব সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন আল রশীদের সভাপতিত্বে এবং মহাসচিব ডা. মো. জহিরুল ইসলাম শাকিলের সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য রাখেন প্রধান অতিথি  তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন , ড্যাবের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ফরহাদ হালিম ডোনারসহ অন্যান্য নেতারা। 


   আরও সংবাদ