আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ৬ এপ্রিল, ২০২৬ ১৫:১৮ অপরাহ্ন | দেখা হয়েছে ৩১ বার
ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী তেহরানের শরিফ প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন এলাকায় নির্বিচারে বিমান হামলা চালিয়েছে।
সোমবার (৬ এপ্রিল) ভোর থেকে শুরু হওয়া এসব হামলায় লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি একটি গ্যাস স্টেশনও ছিল।
হামলার পর ছড়িয়ে পড়া ছবি ও ভিডিওতে তেহরানের পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে প্রচণ্ড কালো ধোঁয়া দেখা যাচ্ছে ।
তেহরানের ৯ নম্বর জেলার মেয়র ঘোষণা করেন, আজ সকাল (সোমবার) শরিফ ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজির গ্যাস স্টেশনে হামলার পর শরিফ এলাকার গ্যাস সরবরাহ সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, এই হামলায় বিশ্ববিদ্যালয়ের যেসব এলাকা আক্রান্ত হয়েছে, তার মধ্যে ইনফরমেশন টেকনোলজি সেন্টার ভবন এবং বিশ্ববিদ্যালয় মসজিদও রয়েছে।
আগ্রাসন শুরুর পর থেকে তেহরান ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি এবং শহীদ বেহেশতি বিশ্ববিদ্যালয়সহ বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার শিকার হয়েছে।
স্থানীয়রা গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, স্থানীয় সময় রাত ১টার দিকে এক ঝাঁক যুদ্ধবিমান বোরোজের্দ শহরের উপর দিয়ে নিচু উচ্চতায় উড়ে যায়।
সেখানকার একজন অধিবাসী বলেন, প্রতিদিন রাতেই আমরা কয়েকটি যুদ্ধবিমানের শব্দ শুনি, কিন্তু আজ ভোররাতে এই শব্দ অন্তত পাঁচ গুণ বেশি ছিল।
সোমবার সকালে শিরাজ শহরেও শক্তিশালী বিস্ফোরণের খবর এবং যুদ্ধবিমানের শব্দ শোনার বিষয়েও খবর পাওয়া যাচ্ছে।
কওম শহরের কয়েকজন বাসিন্দাও জানিয়েছেন, রাত ১টার দিকে শহরের কিছু এলাকাকে হামলার লক্ষ্যবস্তু করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল।
কওম প্রদেশের উপ-রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা পরিচালকও জানিয়েছেন যে, শহরের একটি আবাসিক এলাকা হামলার শিকার হয়েছে। তিনি নাগরিকদের ঘটনাস্থলে ভিড় না করার অনুরোধ করেছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার শর্তে ‘যুদ্ধবিরতি চুক্তি’ করার জন্য ইরানকে মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছেন।
সেই সময়সীমা স্মরণ করিয়ে দিয়ে রোববার (৫ এপ্রিল) ট্রুথ সোশ্যালের এক পোস্টে ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের উদ্দেশে হুমকি দিয়ে বলেন, মঙ্গলবার ইরানে সব কিছু গুড়িয়ে এক করে দেওয়া হবে।
তিনি অকথ্য ভাষায় গালাগাল করে দেওয়া ওই পোস্টে বলেন, “মঙ্গলবার হবে ইরানের জন্য ‘বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও সেতুর দিন’। সবকিছু একসাথে ধ্বংস করা হবে, এর আগে এরকম কখনো হয়নি। এখনই (হরমুজ) প্রণালী খুলে দাও পাগলা ‘বেজন্মা’রা, না হলে জাহান্নামে পড়তে হবে।
আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করো।”
যদিও ফক্স নিউজকে ট্রাম্প বলেছেন, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা করছে এবং তিনি বিশ্বাস করেন সোমবারের মধ্যে তেহরানের সঙ্গে একটি চুক্তি সম্ভব।
ইরান বারবার জোর দিয়ে বলেছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো আলোচনা করেনি।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানকে লক্ষ্য করে হামলা শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনী, প্রতিরক্ষামন্ত্রী, সাবেক নিরাপত্তা প্রধানসহ অনেকে হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন। সবমিলিয়ে এখন পর্যন্ত প্রায় দেড় হাজার মানুষ নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
জবাবে ইরানও পাল্টা হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের লক্ষ্যবস্তুতে রয়েছে ইসরায়েলসহ জর্ডান, ইরাক এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো।
ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা ফার্স নিউজ সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে জানায়, ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে ৪৮ ঘণ্টার যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব পাঠানো হয়েছিল, যা ইরান গ্রহণ করেনি।
(সূত্র: বিবিসি বাংলা)