ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬,
সরকার অনুমোদিত নিবন্ধন নম্বর ১৯১
Reg:C-125478/2015

বাংলা নববর্ষ : ঐহিত্য ও ইতিহাসের অংশ

ডেস্ক রিপোর্ট


প্রকাশ: ৯ এপ্রিল, ২০২৬ ০৯:৪৭ পূর্বাহ্ন | দেখা হয়েছে ৩০ বার


বাংলা নববর্ষ : ঐহিত্য ও ইতিহাসের অংশ

।। এমগোলাম মোস্তফা ভুইয়া।।

বাংলা বছর বা বাংলা সন অথবা বঙ্গাব্দযে নামেই ডাকা হোক না কেন বাংলা নববর্ষ হচ্ছে আমাদের ইতিহাসঐতিহ্য  অহংকার। এই বাংলা সনের প্রবর্তক হলেন মুঘল সামাজ্যের তৃতীয় সম্রাট মির্জা জালাল উদ্দিন মুহাম্মদ আকবর। সম্রাট কর্তৃক রাজ্যের খাজনা আদায়ের সুবিধার জন্যই ১৫৮৪ খ্রিষ্টাব্দে (মতান্তরে ১৫৫৬সম্রাট আকবর হিজরি  সৌর সনের সমন্বয়ে এই নতুন বর্ষপঞ্জি চালু করেছিলেনযা প্রথমে 'ফসলি সননামে পরিচিত ছিল। জ্যোতির্বিদ আমীর ফতুল্লাহ শিরাজী এটি তৈরি করেন এবং আকবরের সিংহাসন আরোহণের সময় (১৫৫৬ সাল বা ৯৬৩ হিজরিথেকে এর গণনা শুরু হয়েছিল।

 

মুঘল সম্রাট আকবর ১৫৫৬ সালের  নভেম্বর সিংহাসনে আরোহণ করেনযা হিজরি ৯৬৩ সাল। কৃষকদের কাছ থেকে ফসল কাটার পর কর আদায়ের সুবিধার্থে তিনি এই নতুন সন চালু করেন। সম্রাট আকবর কর্তৃক নিযুক্ত জ্যোতির্বিদ  বিজ্ঞানী আমির ফতুল্লাহ শিরাজী হিজরি চান্দ্র বর্ষ এবং ভারতীয় সৌর বর্ষপঞ্জির সমন্বয় করে "তারিখ--এলাহিবা ফসলি সন তৈরি করেন। ১৫৮৪ খ্রিষ্টাব্দে এই সন প্রবর্তন করা হলেওএটি সম্রাট আকবরের সিংহাসনে আরোহণের বছর (১৫৫৬ খ্রিষ্টাব্দ বা ৯৬৩ হিজরিথেকে কার্যকর করা হয়। ফলে শুরুর বছর থেকেই বাংলা সন ৯৬৩ বছর এগিয়ে থাকে। সম্রাট আকবরের সময়কাল থেকেই আনুষ্ঠানিকভাবে পহেলা বৈশাখ উদযাপন শুরু হয়। বৈশাখ মাসকে বছরের প্রথম মাস ধরা হয় কারণ ৯৬৩ হিজরি বছরের মহরম মাস বৈশাখ মাসের সাথে মিলেছিল। সময়ের সাথে সাথে এই "ফসলি সনবাংলার সংস্কৃতি  কৃষির সাথে মিশে "বঙ্গাব্দবা বাংলা সন নামে পরিচিতি পায়। ১৫৫৬ সালে সম্রাট আকবরের সিংহাসনে আরোহণের বছরটিকে ভিত্তি ধরেতার শাসনামলে (১৫৮৪ সালের দিকেকৃষি কর আদায়ের জন্য হিজরি  সৌর সনের সংমিশ্রণে বাংলা সন প্রবর্তিত হয়যা এখন পহেলা বৈশাখ হিসেবে বাঙালির প্রাণের উৎসবে পরিণত হয়েছে।

 

আজকের বাংলা তারিখটা যেন কতপ্রশ্নটা প্রায় সকল বাঙ্গালিকেই নাকানিচুবানি খাওয়ায়। বুশের ইরাক আক্রমণইরাক ইরান যুদ্ধসহ নানা তথ্য জিভের ডগায়। প্লেটোর পলায়ন থেকে বেনিংটনের আত্মহত্যাগড়গড় করে বলা যাবে ঘণ্টা দেড়েক। অথচ এই একটা প্রশ্নে অস্বস্তিতেই পড়তে হয় না এমন বাঙালি বাংলা মুল্লুকে খুব কমই আছে। হাঁড়ির খবর ঘাঁটতে গেলে হয়তো তেতো অভিজ্ঞতা হাসিলের উদাহরণও কম পাওয়া যাবে না। কিন্তু তাতে বাঙালিকে ‘বেখবর জাতি’ তকমা দেয়াটা বিষম রকমের ভুল হবে। এই যে বসন্তবরণপহেলা বৈশাখমাঘ সংক্রান্তির মতো উৎসব যাপনসে তো আর জোর জবরদস্তিতে করানো হয় না। সদিচ্ছাতেই পালন করে বাঙালিরা। 

 

রাজস্ব আদায়ের জন্য সম্রাটের পক্ষ থেকে চাপ আসত প্রায়ই। সাধারণ মানুষরা ফসল না কেটে তো আর খাজনা দিতে পারত না। অনেকটা সে কারণেই নবাবেরা পুণ্যাহের প্রবর্তন করেন। নবাবের বাড়িতে উৎসব  খাবার দাবারের আয়োজন থাকতো আর সাধারণ মানুষ তাতে যোগ দেবার পাশাপাশি রাজস্ব পরিশোধ করত। নবাবের বাড়িতে মেহমান হিসেবে আপ্যায়িত হওয়াটা কম কথা না। রীতিমতো উৎসবে পরিণত হয়ে গেল দিনটা। নববর্ষ চালুর ইতিহাসের পুণ্যাহের তাৎপর্য ব্যাপক। খুব সম্ভবত ব্যবসায়ীরা সেখান থেকেই হালখাতার অনুপ্রেরণা পেয়েছে। (সূত্রপূর্বোক্ত গ্রন্থে শামসুজ্জামান খানের নিবন্ধপৃষ্ঠা১১১)

 

মোটামুটি সেভাবেই চলেছে ইতিহাস। ১৯৫২ সালে প্রখ্যাত জ্যোতিপদার্থ বিজ্ঞানী মেঘনাদ সাহা এবং তার কমিটি ভারতের অন্যান্য সালের সঙ্গে বাংলা সনেও সংস্কারের প্রস্তাব করেন। ভারত সরকার তার প্রস্তাব গ্রহণ করে ১৯৫৭ সালে। সেই সংস্কারের কথা মাথায় রেখে ১৯৬৩ সালে তৎকালীন পূর্বপাকিস্তানে বাংলা ক্যালেন্ডার সংস্কার কমিটি গঠিত হয়। কমিটির প্রধান ছিলেন মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্। বাংলাদেশ জন্মের পর তাজউদ্দিন আহমদ সরকারি নথিতে বাংলা তারিখের প্রথা চালু করেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সময়ে তা আরো দৃঢ় হয়। অবশেষে ১৯৮৭ সাল থেকে সরকারি কাজে খ্রিষ্টাব্দ ব্যবহারের পাশাপাশি বাংলা সন লেখার নির্দেশনা আসে। বাংলা ক্যালেন্ডার আধুনিকায়নে মেঘনাদ সাহা এবং মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্-এর


   আরও সংবাদ