ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬,
সরকার অনুমোদিত নিবন্ধন নম্বর ১৯১
Reg:C-125478/2015

সেচযন্ত্র কাঁধে নিয়ে পাম্পে পাম্পে ঘুরছেন কৃষক

ডেস্ক রিপোর্ট


প্রকাশ: ১১ এপ্রিল, ২০২৬ ১০:৫৯ পূর্বাহ্ন | দেখা হয়েছে ২৫ বার


সেচযন্ত্র কাঁধে নিয়ে পাম্পে পাম্পে ঘুরছেন কৃষক

রাজশাহীর বিভিন্ন উপজেলায় তীব্র জ্বালানি তেল সংকটে ভেঙে পড়েছে স্থানীয় সেচব্যবস্থা। এর সরাসরি নেতিবাচক প্রভাবে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন হাজারো কৃষক।

 তেলের অভাবে সেচযন্ত্র বন্ধ থাকায় পানির তৃষ্ণায় খাঁ খাঁ করছে ফসলের মাঠ; শুকিয়ে যাচ্ছে বোরো ধানসহ পটল, মরিচ ও পানের বরজ। এক লিটার জ্বালানির আশায় কৃষকরা মাইলের পর মাইল ছুটছেন।

কেউ আবার সেচ পাম্প কাঁধে নিয়েই এক গ্রাম থেকে অন্য গ্রামে ঘুরছেন। এই নজিরবিহীন সংকটে ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে, যা কৃষকদের মনে চরম দুশ্চিন্তা ও অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।

 

বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) জেলার পবা উপজেলার বিমানবন্দর সড়কের হাবিব ফিলিং স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে তেলের অপেক্ষায় রয়েছেন মোহনপুর উপজেলার মৌগাছী ইউনিয়নের জাহানাবাদ গ্রামের কৃষক আব্দুল বারী। তিনি নিজের সেচযন্ত্রসহ পাম্পে এসেছেন।

 

এই কৃষক জানান, আশপাশের কোনো ডিপো বা ফিলিং স্টেশনে জ্বালানি তেল পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে অধিকাংশ কৃষকের সেচযন্ত্র বন্ধ রয়েছে এবং জমিতে সেচ দেওয়া যাচ্ছে না। এতে বোরো খেত শুকিয়ে যাচ্ছে।

হাবিব ফিলিং স্টেশনে জ্বালানি নিতে আসা বাগধানীর কৃষক আতাউর রহমান বলেন, সেচের অভাবে পটল, মরিচ ও বোরো ধান খরতাপে শুকিয়ে যাচ্ছে। এক সপ্তাহ ধরে পটলের গাছ মারা যাচ্ছে।

তিনি আরও জানান, তেলের খোঁজে ঘুরতে গিয়ে কৃষকদের সময়, শ্রম ও অর্থ-সবই নষ্ট হচ্ছে। নিজ এলাকায় তেল না পেয়ে তিনি সেচযন্ত্র মাথায় করে পাম্পে এসেছেন, শুধু ফসল বাঁচানোর আশায়।

মোহনপুরের বিদিরপুরের কৃষক কামাল হোসেন জানান, এলাকায় তেল না পেয়ে তিনি সেচযন্ত্র নিয়ে দূরের পাম্পে এসেছেন। কিন্তু তেল আনতে যাতায়াতে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা খরচ হচ্ছে।

পবার বড়গাছি ইউনিয়নের কৃষক বাবলু হোসেন বলেন, ১৩ কিলোমিটার দূর থেকে এসে মাত্র ৩০০ টাকার তেল পাচ্ছেন। এতে সেচযন্ত্র বেশিক্ষণ চালানো সম্ভব হচ্ছে না।

তিনি বলেন, পাঁচ কাঠা জমিতে সেচ দিতে গেলেই ৩০০ টাকার তেল শেষ হয়ে যায়। এতে পান, পাটসহ বিভিন্ন ফসলের সেচ কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

একই ধরনের ভোগান্তির কথা জানান মোহনপুরের গোপালপুর গ্রামের কৃষক মোজাফফর মণ্ডল। 

তিনি বলেন, পানের বরজ, পেঁয়াজ, পটল ও পাটের আবাদে সেচ দিতে পেট্রোল জরুরি। কিন্তু দূর পথ পাড়ি দিয়ে এসে তিনি মাত্র ৩০০ টাকার তেল পাচ্ছেন।

কৃষক মহিদুর রহমান জানান, গম কাটার পর পাট বপনের কাজ চলছে। কিন্তু সেচের জন্য প্রয়োজনীয় জ্বালানি পাওয়া যাচ্ছে না।

কৃষকদের অভিযোগ, জ্বালানির এই সংকট শুধু ব্যক্তিগত ভোগান্তি নয়; এটি কৃষি উৎপাদনের ওপরও সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। সময়মতো সেচ দিতে না পারলে চলতি মৌসুমে উৎপাদন কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

হাবিব ফিলিং স্টেশনের ব্যবস্থাপক রাকিব হোসেন বলেন, ডিপো থেকে পর্যাপ্ত তেল পাওয়া যাচ্ছে না। যে পরিমাণ তেল বরাদ্দ আসছে, তা প্রশাসনের প্রত্যয়নপত্র যাচাই করে কৃষকদের মধ্যে বিতরণ করা হচ্ছে। একবারে ৩০০ টাকার বেশি তেল দেওয়া যাচ্ছে না।

পবা উপজেলা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা ও ওই ফিলিং স্টেশনের ট্যাগ কর্মকর্তা সালাহ উদ্দিন আল মামুন জানান, কৃষি কার্ড ও প্রত্যয়নপত্রের ভিত্তিতে তেল সরবরাহ করা হচ্ছে। মাঠপর্যায়ের বাস্তবতায় কৃষকদের চাহিদার তুলনায় সরবরাহ অনেক কম, ফলে কৃষিকাজ ব্যাহত হচ্ছে।


   আরও সংবাদ