ঢাকা, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬,
সরকার অনুমোদিত নিবন্ধন নম্বর ১৯১
Reg:C-125478/2015

সাকিবের নতুন ইনিংস

স্পোর্টস ডেস্ক


প্রকাশ: ১২ এপ্রিল, ২০২৬ ১৫:৩৮ অপরাহ্ন | দেখা হয়েছে ২১ বার


সাকিবের নতুন ইনিংস

ব্যাট-বল হাতে সারা বিশ্বকে মন্ত্রমুগ্ধ করা সাকিব আল হাসান এবার পদার্পণ করতে চলেছেন সম্পূর্ণ ভিন্ন এক আঙিনায়। যেখানে নেই রান, উইকেট কিংবা স্কোরবোর্ডের চিরচেনা হিসাব-নিকাশ; রয়েছে খবর, বস্তুনিষ্ঠ বিশ্লেষণ আর বৈশ্বিক কনটেন্টের এক সুবিস্তৃত দুনিয়া।

তার এই নবযাত্রার নাম ‘বিয়ন্ড বাংলা’।

 

বাইশ গজের ক্রিকেটে নিজের অবস্থানকে বহু পূর্বেই এক অনন্য উচ্চতায় প্রতিষ্ঠিত করেছেন সাকিব।

তবে তার এই বর্ণিল পথচলা কখনোই কেবল ক্রিকেট মাঠের গণ্ডিতে আবদ্ধ থাকেনি। মাঠের বাইরের জগতেও সময়ের পালাবদলের সঙ্গে সঙ্গে নিজেকে নিত্যনতুন পরিচয়ে মেলে ধরেছেন তিনি।

সেই ধারাবাহিকতাতেই এবার ‘প্রকাশক’ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে যাচ্ছেন এই তারকা অলরাউন্ডার।

 

সাকিবের উদ্যোগে যাত্রা শুরু করতে যাচ্ছে ডিজিটাল সংবাদমাধ্যম ‘বিয়ন্ড বাংলা’ (Beyond Bangla)।

যেখানে কেবল দেশীয় গণ্ডি নয়, বরং বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটের বিচিত্র বিষয়াবলি, সমসাময়িক ঘটনা ও হালনাগাদ ট্রেন্ড তুলে ধরার সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা রয়েছে। তথ্যপ্রবাহের এই বিস্তৃত মহাসড়কে ভিন্নধর্মী ও রুচিশীল কনটেন্টের মাধ্যমে নিজস্ব একটি স্বতন্ত্র অবস্থান তৈরি করাই সাকিবের মূল লক্ষ্য।

 

তবে এই যুগান্তকারী উদ্যোগে সাকিব একা নন। তার যোগ্য সারথি হিসেবে যুক্ত হচ্ছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত গীতিকবি ও খ্যাতিমান সাংবাদিক জুলফিকার রাসেল। এই প্ল্যাটফর্মটির সম্পাদকের গুরুদায়িত্ব পালন করবেন তিনি। সংগীতজগতের পাশাপাশি সাংবাদিকতাতেও রয়েছে তার সুদীর্ঘ ও বর্ণাঢ্য অভিজ্ঞতা। জনপ্রিয় সংবাদমাধ্যম ‘বাংলা ট্রিবিউন’-এর সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে তিনি দেশের গণমাধ্যমে ইতঃপূর্বেই নিজের প্রতিভার স্বতন্ত্র স্বাক্ষর রেখেছেন।

একটি মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম চালুর এই অভিনব ভাবনা কীভাবে আলো দেখল, এমন প্রশ্নের জবাবে সাকিব বাংলানিউজকে বলেন, ‘আমার কাছে মনে হয়, খবরগুলো নানাভাবেই উপস্থাপিত হয়। অনেক সময় সঠিক খবরটা পৌঁছায় না। সঠিক নিউজটা যেন মানুষের কাছে পৌঁছায়, সেই জায়গা থেকে যদি কিছু করা যায়, সেরকমই একটা চিন্তা বলতে পারেন। মানে খবরের ভেতরের খবরটা যেন মানুষ জানতে পারে।’

তবে এই পরিকল্পনাটি যে খুব দীর্ঘদিনের, তা কিন্তু নয়। বরং একেবারে স্বতঃস্ফূর্ত এক আলাপচারিতা থেকেই এর বীজ রোপিত হয়। সাকিব ও জুলফিকার রাসেলের সম্পূর্ণ অনানুষ্ঠানিক এক আড্ডা থেকেই এই যাত্রার সূচনা। সাকিব শোনালেন সেই নেপথ্যের গল্পটিও, ‘অনেকদিন ধরে নয়, অল্প কিছুদিন ধরে এরকম চিন্তা আসলে চলছে। আলাপ-আলোচনা করতে গিয়েই এমন পরিকল্পনা মাথায় এসেছে।’

একই অভিজ্ঞতার প্রতিধ্বনি শোনা যায় জুলফিকার রাসেলের কণ্ঠেও। নিজের দীর্ঘ ৩২ বছরের সাংবাদিকতা জীবনের নির্যাস থেকে তিনি এখানে নতুন কিছু করার অপার সম্ভাবনা দেখতে পেয়েছেন, ‘আড্ডাতেই এই নিয়ে একদিন আলোচনা হয়। এমন একটা উদ্যোগে সাকিবকে অনেক বেশি ইতিবাচক মনে হয়েছে। সবকিছু মিলিয়ে যাওয়ায় আমাদের পার্টনারশিপ হতে যাচ্ছে। আমরা দুইজন ছাড়াও আমাদের সঙ্গে আরও বেশ কয়েকজন রয়েছেন।’

সাকিব আল হাসান ও জুলফিকার রাসেল

বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনে সাকিব নিঃসন্দেহে দেশসেরা ক্রীড়াবিদদের একজন। অন্যদিকে জুলফিকার রাসেল মূলত গীতিকবি ও সাংবাদিক হিসেবে সমধিক পরিচিত হলেও, খেলাধুলার প্রতি তার ভালোবাসাও কোনো অংশে কম নয়। এই অকৃত্রিম ভালোবাসারই এক অনন্য নিদর্শন হলো ২০১১ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপ। বাংলাদেশ ছিল সেই আসরের গর্বিত সহ-আয়োজক, আর সেই বিশ্বকাপের স্বাগত সঙ্গীত ‘ও পৃথিবী এবার এসে বাংলাদেশ নাও চিনে’ গানটির রচয়িতাও ছিলেন জুলফিকার রাসেল। 

দুই ‘ক্রীড়াপ্রেমী’ সত্তা যখন একত্রে একটি প্ল্যাটফর্ম গড়ার উদ্যোগ নেন, তখন সেখানে যে খেলাধুলার বিশেষ কদর থাকবে, সেটাই তো স্বাভাবিক। বিষয়টি নিশ্চিত করে সাকিব আল হাসান বলেন, ‘অবশ্যই স্পোর্টস থাকবে। খেলাধুলার খুঁটিনাটি সবকিছুই আমাদের প্ল্যাটফর্মে থাকবে।’

ইতোমধ্যে প্ল্যাটফর্মটির ওয়েবসাইটের কাঠামো প্রায় চূড়ান্ত হয়ে এসেছে। তবে এখনই সেটি সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হচ্ছে না। পূর্বনির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই শুরু হবে এর পরীক্ষামূলক সম্প্রচার বা ‘টেস্ট রান’। এই অন্তর্বর্তীকালীন সময়েই কনটেন্টের মান, কাঠামোগত বিন্যাস ও উপস্থাপনা শৈলীর নানাদিক সূক্ষ্মভাবে যাচাই-বাছাই করা হবে। এরপরই পূর্ণাঙ্গ অবয়বে আত্মপ্রকাশ করবে ‘বিয়ন্ড বাংলা’। ইংরেজি ও বাংলা দুই ভাষাতেই কনটেন্ট প্রকাশের সুদূরপ্রসারী লক্ষ্য রয়েছে। তবে প্রাথমিকভাবে কেবল বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের বাংলা ভাষাভাষী পাঠকদের রুচি ও চাহিদার কথা বিবেচনা করেই প্রথম পা ফেলতে চান উদ্যোক্তারা।

নিজেদের এই ব্যতিক্রমী মিডিয়া উদ্যোগকে অন্যদের চেয়ে আলাদা করে তোলার ঐকান্তিক প্রত্যাশা থাকলেও, শুরুতে বড় কোনো ফাঁকা প্রতিশ্রুতি দিতে নারাজ সাকিব। কল্পনার চেয়ে বাস্তবতার জমিনকেই বেশি প্রাধান্য দিচ্ছেন তিনি। তার ভাষায়, ‘এটা তো বলা মুশকিল। সবাই তো বলে যে আলাদা করে কিছু করতে চায়। আমি অমন কোনো কথা দিচ্ছি না। তবে একদম সত্যিকারের খবরগুলো তুলে আনব। যা ঘটছে, সেই সত্যিটাই যেন মানুষ জানতে পারে।’

অন্যদিকে, সম্পাদকের গুরুদায়িত্ব কাঁধে নিতে যাওয়া জুলফিকার রাসেলের কাছেও এই নতুন অধ্যায়টি যথেষ্ট চ্যালেঞ্জিং বলেই প্রতীয়মান হচ্ছে। বিশেষ করে, ভৌগোলিক দূরত্ব এখানে একটি বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়াতে পারে। তিনি বলেন, ‘সাংবাদিকতায় আমার দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা। আশা করি এই অভিজ্ঞতা আমি পুরোপুরি কাজে লাগাতে পারব। তবে কাজটা করা কিছুটা চ্যালেঞ্জিংই হবে। এতদিন ঢাকায় সাংবাদিকতা করলেও এবার কাজটা করব যুক্তরাষ্ট্রে বসে। এর মূল অফিস যুক্তরাষ্ট্রে, বাংলাদেশ হবে ব্যুরো অফিস।’

‘বিয়ন্ড বাংলা’—এই সুগভীর নামটির মাঝেই নিহিত রয়েছে এক বিস্তৃত ও সর্বজনীন দৃষ্টিভঙ্গির সুস্পষ্ট ইঙ্গিত। বাংলার চিরায়ত গণ্ডি পেরিয়ে বৈশ্বিক পরিসরে নিজেদের ডানা মেলার অদম্য আকাঙ্ক্ষা থেকেই এমন নামকরণ। তবে এই চমৎকার নামকরণের কৃতিত্ব বিন্দুমাত্র নিজের কাঁধে নিতে রাজি নন সাকিব। তিনি বলেন, ‘নামটার বিশেষত্ব কী, আমি ঠিক বলতে পারব না। জুলফিকার ভাই বলতে পারবেন। উনিই ঠিক করেছেন, নামটা উনার অনেক পছন্দ হয়েছে।’

এই স্বপ্নের প্ল্যাটফর্মে যুক্ত হওয়ার পেছনের ব্যক্তিগত অনুপ্রেরণার গল্পটিও নিপুণভাবে ব্যক্ত করেছেন জুলফিকার রাসেল। সাকিবের সঙ্গে তার এই যৌথ যাত্রার সূচনাটি হয়েছে একেবারেই স্বতঃস্ফূর্ত এক আবহে। তিনি বলেন, ‘সাকিব শুধু বিশ্বসেরা অলরাউন্ডারই নন, তিনি বাংলাদেশের ক্রীড়া ইতিহাসের অন্যতম সেরা ক্রীড়াবিদও। একজন খেলোয়াড় হিসেবে তিনি যেমন নিজের জায়গায় অনন্য, তেমনি আমারও গীতিকবি হিসেবে আলাদা একটি পরিচয় আছে; আমার গানেই সেটি প্রতিফলিত হয়। সাকিবের যেমন মাঠের বাইরে ব্যবসায়ী হিসেবে আলাদা একটা পরিচয় আছে, তেমনই গীতিকবি ছাড়াও আমার সাংবাদিকতার একটা পরিচয় আছে। এই ভিন্ন ভিন্ন অভিজ্ঞতা থেকেই একসময় আড্ডার ফাঁকে আমাদের মধ্যে একটি ভাবনার জন্ম হয়। সেখান থেকেই দুজনে মিলে কিছু করার পরিকল্পনাটা আসে, একদম আড্ডার মধ্যেই আইডিয়াটা তৈরি হয়েছিল।’

ডিজিটাল এই চরম উৎকর্ষের যুগে তথ্যপ্রবাহের গুরুত্ব যখন প্রতিনিয়ত জ্যামিতিক হারে বেড়েই চলেছে, ঠিক তখনই ‘বিয়ন্ড বাংলা’ হয়ে উঠতে পারে এক যুগান্তকারী সংযোজন। যেখানে পাঠকেরা নিরবচ্ছিন্নভাবে পাবেন আন্তর্জাতিক বিচিত্র বিষয়াবলি, আধুনিক ট্রেন্ড ও বিশ্বজোড়া ঘটনাপ্রবাহের সর্বশেষ আপডেট। সাকিব-জুলফিকারের এই যৌথ প্রয়াসে সাংবাদিকতার ক্যানভাসে ভিন্নধর্মী কনটেন্টের এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতে যাচ্ছে, এমনটাই প্রত্যাশা করা হচ্ছে।


   আরও সংবাদ