ঢাকা, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬,
সরকার অনুমোদিত নিবন্ধন নম্বর ১৯১
Reg:C-125478/2015

কৃষকের পাশেই সরকার

ডেস্ক রিপোর্ট


প্রকাশ: ১৫ এপ্রিল, ২০২৬ ০৯:২৮ পূর্বাহ্ন | দেখা হয়েছে ১৫ বার


কৃষকের পাশেই সরকার

টাঙ্গাইল থেকে: পহেলা বৈশাখকে কৃষকের উৎসব হিসেবে অভিহিত করে দেশের দুই কোটি ৭৫ লাখ কৃষককে পর্যায়ক্রমে ‘কৃষক কার্ড’ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে দেশের সব কৃষকের কাছে এই সুবিধা পৌঁছে দেওয়া হবে।

 

মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) টাঙ্গাইলের শহীদ মারুফ স্টেডিয়ামে ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।

প্রাথমিক পর্যায়ে ১০টি জেলার ১১টি উপজেলায় প্রায় ২২ হাজার কৃষকের মাঝে এই কার্ড বিতরণের মাধ্যমে কর্মসূচি শুরু হয়েছে।

পর্যায়ক্রমে দেশের সব কৃষককে এই কার্যক্রমের আওতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

 

প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে বলেন, পহেলা বৈশাখ বর্তমানে সামাজিক অনুষ্ঠানে রূপ নিলেও এর শিকড় আমাদের কৃষকদের সঙ্গে সম্পৃক্ত।

কৃষকদের হালখাতা ও হিসাব নিকাশের মাধ্যমেই এই উৎসবের শুরু। তাই এই দিনটিতেই আমরা আমাদের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কৃষকদের জন্য ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণের কাজ শুরু করলাম।

 

কৃষিঋণ মওকুফ ও সরকারের সাফল্য তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত হওয়ার পর প্রথম সপ্তাহের মধ্যেই ১২ লাখ কৃষকের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফ করেছে। এটি সরকারের একটি বড় সাফল্য। পর্যায়ক্রমে কৃষি মন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত দুই কোটি ৭৫ লাখ কৃষকের কাছে কৃষি কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে, যার মাধ্যমে কৃষকরা সরাসরি ১০টি ভিন্ন ধরনের সুবিধা ভোগ করতে পারবেন।

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের খাল খনন কর্মসূচির কথা স্মরণ করে তারেক রহমান বলেন, আমরা আগামী পাঁচ বছরে সারাদেশে প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছি। এর মাধ্যমে সেচ সমস্যার সমাধান হবে এবং আন্ডারগ্রাউন্ড ওয়াটার লেভেল বা ভূগর্ভস্থ পানির স্তর আবার আগের অবস্থায় ফিরে আসবে। এটি বন্যা নিয়ন্ত্রণেও বড় ভূমিকা রাখবে।

টাঙ্গাইলের আনারসের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, সিজন ফুরিয়ে গেলে অনেক সময় কৃষকরা ফসলের নায্য মূল্য পান না। আমরা পরিকল্পনা করছি প্রতিটি অঞ্চলে কোল্ড স্টোরেজ বা হিমাগার নির্মাণের। এছাড়া কৃষিজাত পণ্য বিদেশের বাজারে রপ্তানি করার জন্য ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। এর মাধ্যমে একদিকে কৃষক লাভবান হবে, অন্যদিকে দেশ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করবে।

নারীদের জন্য ফ্যামিলি কার্ড চালু করার প্রসঙ্গ টেনে তিনি দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠী নারীকে স্বাবলম্বী করার গুরুত্ব তুলে ধরেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, পরিবারের নারী প্রধানদের জন্য সরকার ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করেছে। কৃষকের পাশাপাশি মা-বোনদের জীবনমান উন্নয়নেও সরকার বদ্ধপরিকর।

বক্তব্যের শেষে তিনি দল-মত নির্বিশেষে দেশ গড়ার ডাক দিয়ে বলেন, সবার আগে বাংলাদেশ। আমাদের লক্ষ্য মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা। কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে—এই নীতিতেই আমরা পথ চলছি। জনগণের সমর্থন থাকলে আমরা একটি সুখী ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে সক্ষম হব।

অনুষ্ঠানে স্থানীয় নেতাকর্মী, আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ এবং হাজার হাজার কৃষক-কৃষাণী উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান শেষে পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক পরিবেশনার আয়োজন করা হয়।


   আরও সংবাদ