ঢাকা, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬,
সরকার অনুমোদিত নিবন্ধন নম্বর ১৯১
Reg:C-125478/2015

আত্মবিশ্বাসী কোচ জোন্স

স্পোর্টস ডেস্ক


প্রকাশ: ৩১ অগাস্ট, ২০২৬ ০৯:৪৭ পূর্বাহ্ন | দেখা হয়েছে ৯ বার


আত্মবিশ্বাসী কোচ জোন্স

সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপ জয়ের তরতাজা স্মৃতি নিয়ে এএফসি অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়ান কাপের বাছাইপর্ব খেলতে বর্তমানে উজবেকিস্তানে অবস্থান করছে বাংলাদেশ দল। আগামীকাল বাংলাদেশ সময় রাত ৮টায় স্বাগতিক উজবেকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে মূল পর্বে ওঠার লড়াই শুরু করবে লাল-সবুজ প্রতিনিধিরা।

দলের অন্দরে প্রধান কোচ ও সহকারী কোচের মধ্যকার দ্বন্দ্ব নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা থাকলেও প্রস্তুতি ও দলের সামর্থ্য নিয়ে শতভাগ আত্মবিশ্বাসী ব্রিটিশ কোচ জেরার্ড জোন্স।

 

এশিয়ার মূল পর্বে খেলার স্বপ্ন নিয়ে ইংল্যান্ড থেকে জেরার্ড জোন্সকে দুই বছরের জন্য উড়িয়ে এনেছিল বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)।

তবে তাসখন্দে উড়াল দেওয়ার আগে ঢাকায় প্রধান কোচের সঙ্গে সহকারী কোচ ও সাবেক জাতীয় ফুটবলার আতিকুর রহমান মিশুর দ্বন্দ্ব চরম আকার ধারণ করে। দুজনের হাতাহাতি এবং জোন্সের হোটেলে পুলিশ ডাকার মতো ঘটনাও ঘটে।

অপ্রীতিকর সেই পরিস্থিতি সামাল দিয়ে দুজন উজবেকিস্তানে গেলেও তারা গেছেন আলাদা ফ্লাইটে।

 

তাসখন্দে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও গুমোট ভাব কাটেনি।

জোন্সের ইচ্ছাতেই অনুশীলনে নিষ্ক্রিয় রাখা হয়েছে মিশুকে। দুজনের মধ্যে খুব প্রয়োজন ছাড়া কথাও হচ্ছে না। সহকারী কোচ হিসেবে অনুশীলনে ভূমিকা রাখার বদলে মিশু এখন মূলত নীরব পর্যবেক্ষক হিসেবে ফুটবলারদের মানসিক দিকটি দেখভাল করছেন।

 

ডাগআউটের এই অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মধ্যেও আজ উজবেকিস্তানে আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে দারুণ ইতিবাচক শোনাল কোচ জেরার্ড জোন্সের কণ্ঠ। ভিসা জটিলতায় সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ খেলা না হলেও দেশীয় শক্তিশালী দলগুলোর বিপক্ষে প্রস্তুতি নিয়ে ভীষণ সন্তুষ্ট তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে কোচ জানান, নয় সপ্তাহের প্রস্তুতিতে তারা মোট ১০টি ম্যাচ খেলেছেন। এর মধ্যে চারটি নিজেদের মধ্যে এবং ছয়টি বাইরের দলের বিপক্ষে। একাডেমি দল, অনূর্ধ্ব-১৭ জাতীয় দল, ঢাকা ও যশোর আর্মির মতো ফিজিক্যাল দলের পাশাপাশি এএফসি চ্যালেঞ্জ লিগের দল ফর্টিস এফসির মতো পেশাদার ও সিনিয়র দলের বিপক্ষে ম্যাচগুলো খেলোয়াড়দের দারুণ প্রস্তুত করেছে।

ফর্টিসের সঙ্গে ২-২ গোলে ড্র করা ম্যাচটির কথা উল্লেখ করে কোচ বলেন, ‘বাইরের ছয়টি ম্যাচে আমরা অপরাজিত ছিলাম। ফর্টিসের মতো দলের বিপক্ষে শারীরিক চাপের যে অভিজ্ঞতা আমরা পেয়েছি, তা আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচের চেয়ে কোনো অংশে কম ছিল না। নেতিবাচক পরিস্থিতিকে ইতিবাচকভাবে নেওয়ার যে মানসিকতা আমরা তৈরি করেছি, তা নিয়ে আমি ভীষণ সন্তুষ্ট।’

প্রথম প্রতিপক্ষ শক্তিশালী উজবেকিস্তানকে নিয়ে ব্যাপক বিশ্লেষণ, কোয়ান্টিটেটিভ ও কোয়ালিটেটিভ ডেটা করেছে বাংলাদেশের কোচিং স্টাফ। প্রতিপক্ষের হাই প্রেসিং ও বল নিয়ন্ত্রণের সক্ষমতার কথা মাথায় রেখেই তাদের দুর্বল জায়গায় আঘাত করার ছক কষছেন জোন্স।

উজবেকিস্তানের ভিন্ন আবহাওয়া নিয়ে শঙ্কা উড়িয়ে দিয়ে জোন্স জানান, দেশেই তারা এর প্রস্তুতি সেরেছেন। তাসখন্দের সন্ধ্যা ও বিকেলের ম্যাচের সূচি অনুযায়ী ঢাকা ও যশোরে অনুশীলন করেছে দল। ফলে কন্ডিশনের দিক থেকে প্রতিপক্ষ কোনো বাড়তি সুবিধা পাবে না বলে তিনি নিশ্চিত করেন।

বাছাইপর্বে আট গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন ও সেরা সাত রানার্স-আপ সুযোগ পাবে অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়া কাপের মূল পর্বে। ‘বি’ গ্রুপে উজবেকিস্তানের পর ৩ ও ৬ সেপ্টেম্বর যথাক্রমে সিরিয়া ও ভারতের বিপক্ষে খেলবে বাংলাদেশ।

সাফ জয়ের আত্মবিশ্বাসের পাশাপাশি প্রবাসী ফুটবলার অ্যাডাম আব্বাস দলে যোগ দেওয়ায় বাংলাদেশের চূড়ান্ত পর্বে খেলার ভালো সম্ভাবনা দেখছেন বিশ্লেষকরা। এখন দেখার বিষয়, কোচদের মধ্যকার স্নায়ুযুদ্ধ পেছনে ফেলে মাঠের খেলায় লাল-সবুজরা নিজেদের সামর্থ্যের কতটা প্রমাণ দিতে পারে।


   আরও সংবাদ