ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ৩১ অগাস্ট, ২০২৬ ০৯:২৯ পূর্বাহ্ন | দেখা হয়েছে ১২ বার
দেশে ইভ্যালি, ই-অরেঞ্জসহ বিভিন্ন ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের আর্থিক কেলেঙ্কারির ঘটনায় গ্রাহকদের দাবিকৃত প্রায় ৩ হাজার ৮৬৯ কোটি টাকার মধ্যে ৪৭২ কোটি টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ই-কমার্স খাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে এবং প্রতারণা বন্ধে একটি পৃথক ‘ডিজিটাল কমার্স নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ’ গঠনের পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী আবদুল খন্দকার মুক্তাদির।
রোববার (৩০ আগস্ট) জাতীয় সংসদে কার্যপ্রণালী-বিধির ৭১ বিধি অনুসারে আনা জরুরি জন-গুরুত্বসম্পন্ন মনোযোগ আকর্ষণের নোটিশের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী এ তথ্য জানান।
শেরপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. রাশেদুল ইসলাম রাশেদ সংসদে এই নোটিশটি উত্থাপন করেন।
এ সময় সংসদ অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
নোটিশ এমপি রাশেদুল ইসলাম বলেন, গত কয়েক বছরে ডিজিটাল বাণিজ্য খাতে একের পর এক আর্থিক কেলেঙ্কারির ঘটনা ঘটেছে।
ইভ্যালি, ই-অরেঞ্জ, ধামাকা শপিং, কিউকম, আলেশা মার্টসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে হাজার হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ বা আটকে রাখার অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি অনলাইন ট্রাভেল ও টিকিটিং খাতেও (যেমন- ফ্লাইট এক্সপার্ট) একই সংকট দেখা যাচ্ছে।
সরকারি সংস্থাগুলোর অনুমোদন (আরজেএসসি ও বাংলাদেশ ব্যাংক) থাকার পরও কেন হাজার হাজার গ্রাহক এমন ঝুঁকির মুখে পড়লেন, তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি।
জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী আবদুল খন্দকার মুক্তাদির জানান, ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলোর কেলেঙ্কারির ঘটনায় জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরে মোট ৫৮ হাজার ৭২০টি অভিযোগ জমা পড়েছে। এসব অভিযোগের বিপরীতে দাবিকৃত টাকার পরিমাণ প্রায় ৩ হাজার ৮৬৯ কোটি টাকা।
উদ্ধার হওয়া অর্থের হিসাব দিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘কেলেঙ্কারি উদ্ঘাটন হওয়ার পর এ পর্যন্ত প্রায় ৫৩১ কোটি টাকা আটক করা হয়েছে। এর মধ্যে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মধ্যস্থতায় এসক্রো সেবা নীতিমালার আলোকে ৪৭২ কোটি টাকা গ্রাহকের অ্যাকাউন্টে ফেরত দেওয়া হয়েছে। অবশিষ্ট টাকাও যাচাই-বাছাই ও শুনানির মাধ্যমে ফেরত দেওয়ার কার্যক্রম চলমান রয়েছে।’
বাণিজ্যমন্ত্রী সংসদকে আরও জানান, ২০২২ সালের আগে ই-কমার্স তদারকির কোনো নির্দিষ্ট কর্তৃপক্ষ ছিল না। পরে ‘ডিজিটাল বিজনেস আইডেন্টিটি (ডিবিআইডি)’ নির্দেশিকা জারি করে আরজেএসসির মাধ্যমে এ পর্যন্ত ১ হাজার ৯০২টি প্রতিষ্ঠানকে নিবন্ধন দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি জালিয়াতি রোধে বাংলাদেশ ব্যাংক ‘মার্চেন্ট একোয়ারিং ও এসক্রো সেবা নীতিমালা’ প্রণয়ন করেছে।
পরে একটি সম্পূরক প্রশ্নে এমপি রাশেদ জানতে চান, প্রতিষ্ঠানগুলোকে শুধু নিবন্ধনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে, অস্বাভাবিক লেনদেন বা ঝুঁকির প্রাথমিক লক্ষণ দেখা দিলে আরজেএসসি, বাংলাদেশ ব্যাংক ও ভোক্তা অধিদপ্তরের সমন্বয়ে একটি ‘আর্লি ওয়ার্নিং ও মনিটরিং সিস্টেম’ (আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা) চালু করার উদ্যোগ সরকার নেবে কি-না।
এর জবাবে এমএলএম ব্যবসার শুরুর দিকের জালিয়াতির উদাহরণ টেনে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘প্রথম যখন কোনো জিনিস শুরু হয়, তখন আইনে ও বিধিতে অনেক ঘাটতি থাকে। ই-কমার্স যখন শুরু হয়, তখন এটি যথেষ্ট রেগুলেটেড ছিল না। তবে এই খাতকে সঠিকভাবে পরিচালনার স্বার্থে একটি ‘ই-কমার্স কর্তৃপক্ষ’ গঠনের বিষয়টি সরকারের বিবেচনাধীন রয়েছে।’
তিনি সংসদ সদস্যকে আশ্বস্ত করে বলেন, প্রস্তাবিত ‘আর্লি ওয়ার্নিং’ ও সার্বক্ষণিক নজরদারির বিষয়টি নতুন গঠিতব্য ই-কমার্স কর্তৃপক্ষের কার্যকলাপে বিশেষভাবে অন্তর্ভুক্ত থাকবে। তবে নতুন কর্তৃপক্ষ গঠন সময়সাপেক্ষ হওয়ায়, অন্তর্বর্তী সময়ে ‘জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন-২০০৯’ সংশোধন করে উক্ত অধিদপ্তরের মাধ্যমেই ডিজিটাল বাণিজ্য ও এর অপরাধ সংক্রান্ত বিষয়গুলো নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি সরকারের বিবেচনাধীন রয়েছে।