ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ১ মে, ২০২৬ ১৭:৩০ অপরাহ্ন | দেখা হয়েছে ১৫ বার
চট্টগ্রাম: দেশের বাণিজ্যিক প্রাণকেন্দ্র খাতুনগঞ্জ। যেখানে প্রতিদিন ভিড় করে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত ও বিদেশ থেকে আসা পণ্যবাহী ট্রাক।
দিনভর পণ্য খালাস আর ভর্তি করার ব্যস্ততায় মুখর থাকে পুরো এলাকা। আর এই বিশাল কর্মযজ্ঞের পেছনে নিরলস শ্রম দিয়ে যাচ্ছেন শত শত শ্রমিক।
এই শ্রমিকদেরই একজন বশির উদ্দিন। প্রায় ৩০ বছর ধরে খাতুনগঞ্জে পণ্য ওঠানো-নামানোর কাজ করছেন তিনি।
জীবিকার তাগিদে শুরু করা এই পেশাই এখন তার জীবনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে গেছে। ভোর থেকে রাত পর্যন্ত ভারী বস্তা কাঁধে তুলে জীবনের বেশিরভাগ সময়ই কেটেছে তাঁর।
কিন্তু বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীর আর আগের মতো সাড়া দেয় না। তবুও থেমে থাকার সুযোগ নেই, কারণ এই আয়ের ওপরই নির্ভর করছে পুরো পরিবার।
বশির উদ্দিন বলেন, ছোটবেলা থেকে এই কাজ করছি। তখন শক্তি ছিল, কষ্টটা তেমন বুঝতাম না। এখন বয়স হয়েছে, শরীর আগের মতো সাড়া দেয় না। একেকটা বস্তা তুলতে গেলে বুক ধড়ফড় করে, তবুও কাজ থামানো যায় না। কারণ ঘরে বসে থাকলে চুলা জ্বলে না।
বশির উদ্দীনের মত কবিরও প্রায় ১২ বছর ধরে এই পেশার সঙ্গে জড়িত। কবির বলেন, আমাদের কাজের কোনো নির্দিষ্ট সময় নেই। কখনও দিনে, কখনও রাতে কাজ করতে হয়। শরীর খারাপ হলেও ছুটি নিলে আয় বন্ধ হয়ে যায়। তারপরও পরিবারের জন্য কাজ করতেই হয়। আমরা চাই, কমপক্ষে একটা স্থায়ী নিরাপত্তা আর চিকিৎসার ব্যবস্থা থাকুক।
তাদের মতো অনেক শ্রমিকই মনে করেন, প্রতিশ্রুতি আর বাস্তবতার মধ্যে এখনও বড় ব্যবধান রয়ে গেছে। নিরাপদ কর্মপরিবেশ, ন্যায্য মজুরি কিংবা স্বাস্থ্যসেবার মতো মৌলিক বিষয়গুলো পুরোপুরি নিশ্চিত হয়নি।
শ্রমিকদের অধিকার আদায়ের লড়াইও থেমে নেই। ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রামের দুটি শ্রম আদালতে বর্তমানে মোট ৩ হাজার ২৭০টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এর মধ্যে চট্টগ্রামের ১ম শ্রম আদালতে ২ হাজার ৪২৫টি এবং ২য় শ্রম আদালতে ৮৪৫টি মামলা বিচারাধীন।
পুরো ২০২৫ সালে এই দুটি শ্রম আদালতে মোট ৫৩৯টি নতুন মামলা দায়ের হয়েছে। ১ম শ্রম আদালতে জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ৩৫৮টি নতুন মামলা দায়ের হয়, যার মধ্যে ডিসেম্বর মাসে সর্বোচ্চ ৬৩টি মামলা করা হয়েছে। অন্যদিকে ২য় শ্রম আদালতে একই সময়ে ১৮১টি মামলা গৃহীত হয়, যার মধ্যে মে মাসে সর্বোচ্চ ৩৮টি মামলা দায়ের হয়েছিল।
নিষ্পত্তির তুলনায় নতুন মামলা দায়েরের হার বেশি হওয়ায় বছর শেষে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। যা থেকে স্পষ্ট, শ্রমিকদের অধিকার নিয়ে বিরোধ ও ন্যায্যতার দাবিতে আইনি লড়াই এখনও অব্যাহত রয়েছে।
মে দিবস এলেই সভা-সমাবেশ আর সিম্পোজিয়ামে শ্রমিকদের অধিকার নিয়ে অনেক আলোচনা হয়। কিন্তু বাস্তবে সেই অধিকার কতটা বাস্তবায়ন হচ্ছে? একদিন হয়তো শ্রমিকদের নিয়ে অনেকে কথা বলেন, কিন্তু বছরের বাকি দিনগুলোতে খবর রাখছে কতজন?
আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস সামনে এলেই তাই শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়, বাস্তব পরিবর্তনের প্রত্যাশা বাড়ে শ্রমজীবী মানুষের মধ্যে। তাদের আশা-শুধু একদিনের আলোচনা নয়, বরং বছরের প্রতিটি দিনেই যেন তাদের অধিকার ও সম্মান নিশ্চিত হয়।