আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১৫ জুলাই, ২০২৬ ১০:০৭ পূর্বাহ্ন | দেখা হয়েছে ২২ বার
রাশিয়া ইউক্রেনের জাপোরিঝঝিয়া অঞ্চলের ওরিখিভ শহরে তিন টন ওজনের একটি গাইডেড বোমা হামলার ভিডিও প্রকাশ করেছে।
টাইমস অব ইন্ডিয়া জানিয়েছে, রুশ বাহিনীর ব্যবহৃত বোমাটি এফএবি-৩০০০ নামে পরিচিত।
এটি সোভিয়েত আমলের একটি ভারী বোমা, যা বর্তমানে ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়া ব্যবহার করছে। বোমাটি রুশ যুদ্ধবিমান থেকে কয়েক কিলোমিটার দূর থেকে নিক্ষেপ করা হয় এবং লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে বিশেষ গ্লাইড কিট ব্যবহার করে।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক থিঙ্ক ট্যাঙ্ক ফাউন্ডেশন ফর ডিফেন্স অব ডেমোক্রেসিসের (এফডিডি) তথ্য অনুযায়ী, এফএবি-৩০০০ বোমাটি সর্বোচ্চ ১ দশমিক ৪ টন বিস্ফোরক বহন করতে সক্ষম। এতে ব্যবহৃত ইউএমপিকে (UMPK) গ্লাইড কিটের মাধ্যমে এটি দীর্ঘ দূরত্ব অতিক্রম করতে পারে।
বোমাটি মূলত রাশিয়ার সুখোই সু-৩৪ যুদ্ধবিমান থেকে নিক্ষেপ করা হয়। এর কার্যকর পাল্লা প্রায় ৫০ থেকে ৬০ কিলোমিটার।
তবে ওজন বেশি হওয়ায় এটি এফএবি-৫০০ মতো তুলনামূলক হালকা বোমার চেয়ে কম দূরত্বে আঘাত হানতে পারে। রাশিয়া বর্তমানে ইউএমপিকে-এর আরও উন্নত সংস্করণ তৈরির কাজ করছে, যা অধিক দূরত্ব ও নির্ভুলতা নিশ্চিত করতে পারে বলে জানা গেছে।
সংঘাতের উত্তাপ বাড়ছে
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের অবসানের কোনো লক্ষণ এখনো দেখা যাচ্ছে না। সোমবার ইউক্রেনসহ ইউরোপের আরও নয়টি দেশ একটি যৌথ আকাশ প্রতিরক্ষা জোট গঠনের ঘোষণা দিয়েছে। তাদের লক্ষ্য রাশিয়ার ক্রমবর্ধমান ক্ষেপণাস্ত্র হামলা মোকাবিলায় একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তৈরি করা।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রস্তাবিত এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা যুক্তরাষ্ট্রের প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার তুলনায় কম ব্যয়বহুল হতে পারে।
অন্যদিকে ইউক্রেনও রাশিয়ার অভ্যন্তরে দূরপাল্লার ড্রোন ও সামুদ্রিক হামলা জোরদার করেছে। এসব হামলায় জ্বালানি অবকাঠামো, সরবরাহ নেটওয়ার্ক এবং ক্রিমিয়া উপকূলসংলগ্ন জাহাজগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে।
এর জবাবে রাশিয়া ইউক্রেনজুড়ে নতুন করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ভবিষ্যতে ইউক্রেনের হামলার জবাবে আরও শক্তিশালী প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ নেওয়ারও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
এদিকে মঙ্গলবার ফ্রান্সের জাতীয় দিবস উদযাপনে জার্মানি, যুক্তরাজ্য, ক্রোয়েশিয়া, পোল্যান্ড, ডেনমার্ক, গ্রিস, সুইডেন, নরওয়ে, স্পেন ও ইতালির সেনা ও বিমান বাহিনীর সদস্যরা অংশ নেন। অনুষ্ঠানে ইউক্রেনকে নিরাপত্তা সহায়তা ও সামরিক সমর্থন দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ৩৪ দেশের জোট ‘কোয়ালিশন অব দ্য উইলিং’-এর প্রায় ৫০০ সেনাও অংশ নেন।
বার্তা সংস্থা এপির মতে, এই আয়োজন ইউক্রেনের প্রতি ইউরোপীয় সমর্থন এবং ইউরোপের সামরিক সক্ষমতার প্রদর্শন হিসেবে বিবেচিত হয়েছে, বিশেষ করে পূর্বাঞ্চলীয় ফ্রন্টে ক্রমবর্ধমান চ্যালেঞ্জের প্রেক্ষাপটে।