ঢাকা, রবিবার, ১৭ মে ২০২৬,
সরকার অনুমোদিত নিবন্ধন নম্বর ১৯১
Reg:C-125478/2015

‘৫-৬ হাজার টাকায় স্মার্টফোন, থাকবে কিস্তি’

ডেস্ক রিপোর্ট


প্রকাশ: ১৭ মে, ২০২৬ ০৯:৪২ পূর্বাহ্ন | দেখা হয়েছে ৮ বার


‘৫-৬ হাজার টাকায় স্মার্টফোন, থাকবে কিস্তি’

স্মার্টফোনের ব্যবহার বাড়াতে ৫ থেকে ৬ হাজার টাকায় গ্রাহকের হাতে ডিভাইস তুলে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়বিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ।

তিনি বলেছেন, সস্তায় স্মার্টফোন তুলে দেওয়ার পাশাপাশি গ্রাহকেরা মাসিক কিস্তিতেও কিনতে পারবেন।

 

শনিবার (১৬ মে) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে টিআরএনবি আয়োজিত ‘টেলিকম খাতের ভবিষ্যৎ: নতুন সরকার কী ভাবছে?’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

এতে ডাক, টেলিযোগাযোগ, তথ্যপ্রযুক্তি ও বিজ্ঞানমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন।

 

উপদেষ্টা বলেন, আমাদের দেশে সবচেয়ে সস্তা ফিচার ফোনের দাম ৯৯৯ টাকা। সেই ফোনটি তৈরি করতে ম্যাটেরিয়াল লাগে প্রায় ৮৮৭ থেকে ৯২৯ টাকা।

আমি যখন এক হাজার টাকার একটি ফোন বিক্রি করছি, খুব বেশি হলে ৫০ থেকে ৭০ টাকা লাভে সেটি বিক্রি হচ্ছে।

 

তিনি বলেন, আমাদের দেশে স্মার্টফোনের পেনিট্রেশন ৫০ শতাংশের নিচে।

আমরা ৪জি, ৫জির কথা বলছি, কিন্তু আমরা যদি ডিভাইসে ফোকাস না করি, তাহলে গ্রাহকের কাছে ৪জি-৫জির কোনো মূল্য থাকবে না, এটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

 

দেশে মোবাইল ফোনের দাম নিয়ে উপদেষ্টা বলেন, তিনি বিভিন্ন রিকশাচালক ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলেছেন। যারা ফিচার ফোন ব্যবহার করেন, তারা স্মার্টফোন ২ থেকে ৪ হাজার টাকায় চান। কিন্তু দেশে এখন সবচেয়ে কম দামের স্মার্টফোনের দাম প্রায় ১০ হাজার টাকা। একজন কৃষক বা রিকশাচালক ৯৯৯ টাকার ফিচার ফোন ব্যবহার করলেও ১০ হাজার টাকার স্মার্টফোন কিনতে পারছেন না।

মোবাইল ম্যানুফ্যাকচারার ও মোবাইল দোকান মালিক সমিতির সঙ্গে আলোচনার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা দামের ফোন তৈরি করা গেলে ভালো হয়। তারা জানান, একটি স্মার্টফোনের গ্লাস হোলসেলে কিনতে প্রায় ১৮ ডলার লাগে। পিসিবি বোর্ড, চিপসহ সব মিলিয়ে প্রায় ২০ ডলারের মতো খরচ হয়। চিপের দাম আন্তর্জাতিক বাজারে বেড়েছে। ব্যাটারি, কেসিংসহ সব মিলিয়ে আরও ১৮ থেকে ২০ ডলার লাগে। ফলে একটি বেসিক ৪জি অ্যান্ড্রয়েড ফোনের বিল অব ম্যাটেরিয়াল খরচ প্রায় ৬০ ডলার। এর নিচে নামানো পৃথিবীর কোনো দেশেই সহজ নয়।

তিনি আরও বলেন, যদি নেটওয়ার্ক রোলআউট করা হয়, সবার কাছে ৪জি বা ৫জি পৌঁছে দেওয়া হয়, কিন্তু ডিভাইস না থাকে, তাহলে সেটির সুফল মিলবে না। ৫০ শতাংশ স্মার্টফোন পেনিট্রেশন থেকে ১০০ শতাংশে নিতে হলে ডিভাইসের খরচের দিকে নজর দিতে হবে।

উপদেষ্টা বলেন, প্রায় ৫ থেকে ৬ হাজার টাকার স্মার্টফোন দেশে তৈরি করা সম্ভব এবং এ বিষয়ে কাজ শুরু হয়েছে। প্রস্তুতকারকদের প্রয়োজনীয় সহায়তা সরকার দেবে। মোবাইল অপারেটর ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে কাজ চলছে, যাতে ইএমআই (কিস্তি) চালু করা যায়।

তিনি বলেন, ফোনের দাম যদি ৬ হাজার টাকাও হয়, ইএমআই চালু করলে ১ হাজার থেকে দেড় হাজার টাকা দিয়ে শুরু করা সম্ভব হবে। একজন সাধারণ কৃষক বা শ্রমিক ছয় থেকে বারো মাসে তা পরিশোধ করতে পারবেন। এজন্য মোবাইল ম্যানুফ্যাকচারার, অপারেটর, বাংলাদেশ ব্যাংক ও বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে নিয়ে একটি ইকোসিস্টেম গড়ে তুলতে হবে।

অনুষ্ঠানে মুখ্য আলোচক ছিলেন বিটিআরসি চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) এমদাদ উল বারী। আলোচক ছিলেন এমটব মহাসচিব লে. কর্নেল (অব.) মোহাম্মদ জুলফিকার, ফরেন ইনভেস্টরস চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নুরুল কবীর, বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশনের সাবেক পরিচালক খালেদ আবু নাসের, টেলিটকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুরুল মাবুদ চৌধুরী, বাংলালিংকের হেড অব রেগুলেটরি অ্যান্ড কর্পোরেট অ্যাফেয়ার্স তাইমুর রহমান, বুয়েটের অধ্যাপক ও টেলিকম বিশেষজ্ঞ ড. লুৎফা আক্তার। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন রবির হেড অব রেগুলেটরি অ্যান্ড কর্পোরেট অ্যাফেয়ার্স সাহেদ আলম।

টিআরএনবি সভাপতি সমীর কুমার দে অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব ও সঞ্চালনা করেন। স্বাগত বক্তব্য দেন টিআরএনবি সাধারণ সম্পাদক মাসুদুজ্জামান রবিন।


   আরও সংবাদ