ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ২৬ মে, ২০২৬ ২১:৪৫ অপরাহ্ন | দেখা হয়েছে ১৩ বার
রাজধানীর বেশিরভাগ এটিএম (অটোমেটেড টেলার মেশিন) বুথে পর্যাপ্ত নগদ টাকার সরবরাহ দেখা গেছে। তবে বৃষ্টির পর একসঙ্গে অনেক গ্রাহক টাকা তুলতে এলে এটিএম বুথের সামনে ভিড় জমে যায়।
ফলে ব্যস্ততম এলাকায়, বিশেষ করে পশুর হাট সংলগ্ন এটিএম বুথগুলোতে সারি ধরে দাঁড়িয়ে টাকা তুলতে দেখা যায় গ্রাহকদের।
গত সোমবার থেকে কোরবানির ঈদ উপলক্ষে টানা সাত ছুটি শুরু হয়েছে।
ছুটি শুরুর আগেই এটিএম বুথে পর্যাপ্ত নগদ টাকার মজুত রাখতে নির্দেশ দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
তাছাড়া অধিকাংশ বড় ব্যাংকের বুথগুলোতে বর্তমানে এটিএমের পাশাপাশি সিআরএম (ক্যাশ রিসাইকেলার মেশিন) রয়েছে।
ফলে ব্যাংক বন্ধ থাকলেও ব্যবসায়ীরা তাদের প্রতিদিনের কেনাবেচার নগদ টাকা এসব সিআরএমের মাধ্যমে ব্যাংক হিসাবে জমা করছেন। এতে বুথের টাকার মজুত বাড়াতে সাহায্য করছে।
ব্যাংক কর্মকর্তারা বলছেন, কারিগরি ত্রুটির কারণে দুই-একটা এটিএম বুথে টাকা সরবরাহে বিঘ্ন ঘটতে পারে। তাছাড়া গত দুই দিন বিভিন্ন সময়ে বৃষ্টি ছিল। অনেকেই বৃষ্টির পর একসঙ্গে বুথে আসেন টাকা তুলতে। এতে এটিএম বুথের সামনে গ্রাহকের ভিড় জমে যায়।
তাছাড়া ঈদের ছুটিতে অনেক ব্যাংকের বুথে অন্য ব্যাংকের কার্ড দিয়ে টাকা উত্তোলনে কিছুটা প্রতিবন্ধকতার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
গ্রাহকরা বলছেন, কোরবানির পশু কেনা ও অন্যান্য খরচের কারণে কোরবানির ঈদের আগে নগদ টাকার চাহিদা বেশি থাকে। ফলে এই সময় টাকা তুলতে অসুবিধা হলে তাদেরকে অনেক ভোগান্তিতে পড়তে হবে।
কয়েকটি বড় ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঈদের ছুটিতে দৈনিক নগদ টাকা চাহিদা মেটাতে যে পরিমাণ টাকা দরকার ছিল, তা তাদের কাছে নেই। একারণে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে ধার চাইলেও প্রত্যাশিত পরিমাণ নগদ টাকা পাননি তারা। তাছাড়া সম্প্রতি নতুন গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমানের স্বাক্ষর করা টাকা বাজারে ছাড়া হয়েছে। এই টাকাগুলো এটিএম মেশিনে লেনদেনে অসুবিধা হতে পারে।
জানা যায়, ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের বুথগুলোয় প্রতিদিন প্রায় ১ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হয়। সোমবার সিআরএম যন্ত্রে প্রায় ৫০০ কোটি টাকা জমা হয়। বাকি ৫০০ কোটি টাকা তারা নিজেরা সংস্থান করে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বাংলানিউজকে বলেন, ‘ব্যাংকগুলোকে যথাযথ নিরাপত্তা নিশ্চিত করে সব এটিএম বুথে সার্বক্ষণিক পর্যাপ্ত টাকা রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বেশিরভাগ বুথ থেকে টাকা পাওয়া যাচ্ছে। এখন পর্যন্ত বুথে টাকা না পাওয়ার বিষয়ে বড় ধরনের কোনো অসুবিধার কথা আমাদের কাছে আসেনি।’