ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ২৭ মে, ২০২৬ ০৬:৫৩ পূর্বাহ্ন | দেখা হয়েছে ৪২ বার
লক্ষ্মীপুরের মেঘনা নদীসংলগ্ন খাল-বিলে অবাধে বসানো হচ্ছে নিষিদ্ধ চায়না রিং জাল বা চায়না দুয়ারি জাল। নদীতে ভাটা পড়ার সঙ্গে সঙ্গে এসব জাল বসানো হয়।
জোয়ারের পানির সঙ্গে জালে বিভিন্ন মাছের পাশাপাশি মাছের পোনাও আটকা পড়ে। পোনামাছ ধরা পড়ায় হুমকির মুখে পড়েছে মাছের উৎপাদন।
মাছের পোনার পাশাপাশি মারা যাচ্ছে সামুদ্রিক জীবও।
মঙ্গলবার (২৬ মে) সদর উপজেলার চররমনী মোহন ইউনিয়নের ক্যাম্পের খালে দেখা যায়, খালে ভাটা পড়ার সঙ্গে সঙ্গে খালের তলায় মৎস্য শিকারিরা সারিবদ্ধভাবে চায়না জাল বসিয়ে রেখেছেন।
জোয়ার আসার পর পুনরায় ভাটা পড়লে জালের ভেতর থেকে তারা মাছ সংগ্রহ করে পুনরায় সারিবদ্ধভাবে জাল বসিয়ে রাখছেন।
প্রকাশ্যে এসব অবৈধ চায়না জাল বসালেও এগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে না মৎস্য বিভাগ।
মৎস্য শিকারিরা জানান, বৈশাখ মাসের শুরুতে মেঘনা নদীর জোয়ারের পানির সঙ্গে খাল-বিলে প্রচুর পরিমাণে টেংরা মাছ উঠে। নদীসংলগ্ন খাল-বিলে এসব মাছ পাওয়া যায়। টেংরা মাছ শিকারের জন্য তারা চায়না জালের ফাঁদ বসান। বাজারে টেংরা মাছের যথেষ্ট চাহিদা রয়েছে।
তবে স্থানীয় লোকজন বলছেন, চায়না জালে ডিমওয়ালা টেংরা মাছের পাশাপাশি দেশীয় প্রজাতির বিভিন্ন ধরনের মাছের পোনাও ঢুকে পড়ে। ওইসব পোনা চায়না জালে আটকে মারা যায়। এতে নদী এবং খাল-বিলে দেশীয় প্রজাতির মাছের আকাল দেখা দিয়েছে। এভাবে চলতে থাকলে মাছের বংশ ধ্বংস হয়ে যাবে।
China Ring Net
চায়না রিং জাল
চররমনী মোহন এলাকার বাসিন্দা জিহাদ হোসেন বলেন, চায়না জালের বুননে একটি গিঁট থেকে আরেকটি গিঁটের দূরত্ব বা ফাঁসের আকার খুবই ছোট। ফলে ছোট-বড় যে কোনো মাছ ফাঁদের ভেতর আটকা পড়ে। সেগুলো আর বের হতে পারে না।
তিনি বলেন, এ জালের কারণে মৎস্য সম্পদ এবং সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য এখন হুমকির মুখে। জালের ভেতর যে মাছই আটকা পড়ুক, সে মাছই মারা যাচ্ছে। কোনো মাছই এ জাল থেকে রক্ষা পায় না। মাছের পাশাপাশি কুঁচিয়া, কাঁকড়া, সাপসহ সামুদ্রিক জীবও মারা পড়ছে। খালের তলদেশে সারিবদ্ধভাবে জাল বসানোর ফলে জোয়ার-ভাটার পানি উঠতে এবং নামতে বাধাপ্রাপ্ত হয়। এতে জোয়ারের পানির সঙ্গে খালে আসা পলি-মাটি জমে খাল ভরাট হয়ে যাচ্ছে।
নুর আলম নামে আরেক বাসিন্দা বলেন, চায়না দুয়ারি জাল মৎস্য সম্পদের জন্য অত্যন্ত বিপদজনক জাল। এ জালের মাধ্যমে মাছের বংশ ধ্বংস হচ্ছে।
তিনি জানান, বর্ষা ও প্রজনন মৌসুমে নদী থেকে জোয়ারের পানির সঙ্গে ডিমওয়ালা টেংরা মাছ খাল-বিলে চলে আসে। মাছগুলো ভয়ঙ্কর এ জালে ঢুকে আটকা পড়ে। ফলে সেগুলো ডিম ছাড়ার আগেই মারা পড়ে। টেংরা মাছের পাশাপাশি সদ্য জন্ম নেওয়া রেণু পোনা এই জালে আটকে নির্বিচারে মারা যায়। এতে দেশীয় প্রজাতির মাছের বংশবিস্তার একেবারে ধ্বংস হচ্ছে। এসব জালের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্টদের ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।
ঈদের ছুটিতে থাকায় এ বিষয়ে জেলা মৎস্য বিভাগের কোনো কর্মকর্তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।