ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬,
সরকার অনুমোদিত নিবন্ধন নম্বর ১৯১
Reg:C-125478/2015

নেদারল্যান্ডসকে রুখে দিয়ে বিশ্বকাপ শুরু জাপানের

স্পোর্টস ডেস্ক


প্রকাশ: ১৫ জুন, ২০২৬ ০৯:৩৩ পূর্বাহ্ন | দেখা হয়েছে ২৫ বার


নেদারল্যান্ডসকে রুখে দিয়ে বিশ্বকাপ শুরু জাপানের

দুইবার পিছিয়ে পড়েও হার মানেনি জাপান। ডালাস স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপের গ্রুপ ‘এফ’-এর রোমাঞ্চকর ম্যাচে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে শেষ মুহূর্তে সমতায় ফিরেছে ‘সামুরাই ব্লু’রা।

 

ম্যাচের ৮৬তম মিনিটে দাইচি কামাদার গোলে স্কোরলাইন হয় ২-২। ডান দিকের কর্নার থেকে কোকি ওগাওয়ার হেডে পা ছুঁইয়ে বল জালে পাঠান কামাদা।

বল চলে যায় ওপরের কোণে। তাতে ডালাসে আবারও সমতায় ফেরে জাপান।

 

প্রথমার্ধ ছিল গোলশূন্য। তবে সুযোগ ছিল বেশ।

চতুর্থ মিনিটেই এগিয়ে যেতে পারত নেদারল্যান্ডস। কোডি গাকপোর নিচু ক্রস ধরে বক্সের ভেতর ঘুরে দাঁড়িয়ে জোরালো শট নেন ডনিয়েল মালেন। দারুণ সেভে জাপানকে রক্ষা করেন গোলরক্ষক জিয়ন সুজুকি।

 

৩৪তম মিনিটে কর্নার থেকে মালেনের হেড সরাসরি সুজুকির হাতে যায়। দুই মিনিট পর ফ্রি-কিক থেকে আসা বলে গাকপো শট নিলেও তা চলে যায় ওপর দিয়ে। ৪৩তম মিনিটে বড় সুযোগ পায় জাপানও। কেইতো নাকামুরা বক্সের ভেতর থেকে শট নিলেও বল যায় পোস্টের সামান্য বাইরে।

প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে আরেকটি সুযোগ নষ্ট করেন আয়াসে উয়েদা। ডান দিকের চ্যানেলে দারুণ রান নিয়ে বল পান তিনি, তবে বক্সের ভেতর থেকে তার শট লাগে সাইড নেটে। বিরতির আগে আরেক কর্নার থেকে মালেনের হেডও ঠেকিয়ে দেন সুজুকি। ফলে প্রথমার্ধ শেষ হয় ০-০ গোলে।

বিরতির পরই বদলে যায় ম্যাচের চিত্র। ৫১তম মিনিটে এগিয়ে যায় নেদারল্যান্ডস। ডান দিক থেকে রায়ান গ্রাভেনবার্খের ক্রসে ফাঁকায় থাকা অধিনায়ক ভার্জিল ফন ডাইক হেড করেন। বল দূরের পোস্টে লেগে জালে জড়ায়।

তবে ডাচদের লিড বেশিক্ষণ থাকেনি। ৫৭তম মিনিটে সমতায় ফেরে জাপান। বাঁ দিক থেকে আসা পাস ধরে দ্রুত নিজেকে সামলে নিচু শটে গোল করেন কেইতো নাকামুরা। তার শট বার্ট ভারব্রুগেনের ডান দিক দিয়ে জালে যায়।

৬১তম মিনিটে দেরিতে ট্যাকলের জন্য হলুদ কার্ড দেখেন জাভি সিমন্সের জায়গায় একাদশে থাকা ক্রিসেনসিও সামারভিল। তবে তিন মিনিট পর তিনিই নেদারল্যান্ডসকে আবার এগিয়ে দেন। ৬৪তম মিনিটে ডান দিক থেকে ভেতরে ঢুকে দূরের কোণে নিচু শটে গোল করেন সামারভিল। আবারও এগিয়ে যায় ডাচরা।

এরপর দুই দলই বদলি নামিয়ে ম্যাচে গতি আনার চেষ্টা করে। ৬৭তম মিনিটে জাপানের হয়ে মায়েদার জায়গায় নামেন জুনিয়া ইতো। ৭১তম মিনিটে নেদারল্যান্ডস একসঙ্গে তিন বদলি আনে। সামারভিল, রেইনডার্স ও মালেনের জায়গায় নামেন মেমফিস ডিপাই, টেয়ুন কুপমেইনার্স ও ইউরিয়েন টিম্বার।

৭৪তম মিনিটে ব্যবধান বাড়ানোর ভালো সুযোগ পেয়েছিল নেদারল্যান্ডস। বাঁ দিক দিয়ে গাকপো দারুণ গতিতে উঠে ভেতরে ঢুকে নিচু শট নেন। কাছের পোস্টে সেটি ঠেকিয়ে দেন সুজুকি। কর্নার থেকে ফন হেক হেড করলেও যথেষ্ট জোর না থাকায় বল সহজেই ধরে ফেলেন জাপান গোলরক্ষক।

৭৬তম মিনিটে জাপানও একসঙ্গে তিন বদলি আনে। ওগাওয়া, তোমিয়াসু ও সুগাওয়ারা নামেন; উঠে যান ওয়াতানাবে, কুবো ও অধিনায়ক দোয়ান। ৮১তম মিনিটে গ্রাভেনবার্খের জায়গায় নাথান আকে নামান নেদারল্যান্ডস কোচ রোনাল্ড কোমান।

শেষ দিকে ম্যাচের উত্তেজনা আরও বাড়ে। ৮৪তম মিনিটে দেরিতে ট্যাকলের জন্য হলুদ কার্ড দেখেন ডিপাই। পরের মিনিটে আয়াসে উয়েদার জায়গায় কেনতো শিওগাইকে নামায় জাপান। ৮৬তম মিনিটে গাকপোর জায়গায় ব্রায়ান ব্রোবি নামানোর প্রস্তুতির মধ্যেই আসে ম্যাচের দারুণ মুহূর্ত।

ডান দিকের কর্নার থেকে ওগাওয়ার হেডে পা ছুঁইয়ে বল জালে পাঠান কামাদা। তাতে দ্বিতীয়বারের মতো সমতায় ফেরে জাপান। পরবর্তীতে আর কোনো গোল না হলে ড্র নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয় দুদলকে।


   আরও সংবাদ