স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬ জুন, ২০২৬ ১০:০৬ পূর্বাহ্ন | দেখা হয়েছে ১৬ বার
‘সারা জীবন এই মুহূর্তটির অপেক্ষাতেই ছিলাম, এই মুহূর্তেরই স্বপ্ন দেখেছি।’ ম্যাচ শেষে সাংবাদিকদের কথাগুলো বলার সময় কান্নাজড়িত কণ্ঠে কেপ ভার্দের গোলরক্ষক ভোজিনিয়ার এসব কথা বলেন।
কয়েক ঘণ্টা আগেও যিনি বিশ্ব ফুটবলের কাছে ছিলেন একেবারেই অচেনা, এমনকি নিজের দেশ কেপ ভার্দেও খুব বেশি মানুষ তাকে চিনতেন না, তিনি আজ আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। রাতারাতি এই পরিচিতি পাওয়ার কারণটি জানালেন ব্রাজিলের টেলিভিশন চ্যানেল ‘কেজ টিভি’র এক নারী সাংবাদিক।
তিনি জানান, স্পেনের বিপক্ষে ম্যাচ শুরুর আগে ভোজিনিয়ার ইনস্টাগ্রাম অনুসারীর সংখ্যা ছিল ৫০ হাজার। ম্যাচ শেষে তা এক লাফে ১৬ লাখে পৌঁছায় এবং এখনো তা ঝড়ের গতিতে বাড়ছে।
উল্লেখ্য, ভোজিনিয়ার আসল নাম জোসিমার জোসে এভোরা দিয়াস। ইনস্টাগ্রামে তিনি ‘জোসিমার দিয়াস’ নামে পরিচিত।
বড় এই নামটুকু ততক্ষণে হয়তো ফুটবলপ্রেমীদের অনেকেরই মুখস্থ হয়ে গেছে। ৪০ বছর বয়সী এক গোলরক্ষকের এমন রূপকথার উত্থান আবারও মনে করিয়ে দিল, ফুটবলের আসল সৌন্দর্য এখানেই যেখানে সাধারণ কেউ মুহূর্তেই হয়ে ওঠেন হৃদয়ের মানুষ।
কিন্তু বিশ্বকাপ অভিষেকে এমন কী করেছেন ভোজিনিয়া? ফুটবল বিশ্বকে চমকে দেওয়া স্পেনের বিপক্ষে তিনি একাই হয়ে উঠেছিলেন চীনের প্রাচীর। পুরো ম্যাচে স্প্যানিশরা গোলপোস্ট লক্ষ্য করে ২৭টি শট নিয়েছিল, যার মধ্যে ৭টি ছিল অন-টার্গেট। আর অবিশ্বাস্যভাবে প্রতিটি শটই রুখে দিয়েছেন এই গোলরক্ষক! এর মধ্যে কেবল পেনাল্টি বক্সের ভেতর থেকেই তিনি নিয়েছেন ৬টি দুর্দান্ত সেভ।
ম্যাচ শেষে আবেগ ধরে রাখতে পারেননি ভোজিনিয়া। অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে তিনি আরও বলেন, ‘ম্যাচের পর আমি কেঁদেছিলাম। ছোটবেলায় দাদা-দাদির কাছে বড় হয়েছি আমি, আজ তারা বেঁচে থাকলে এই দৃশ্য দেখতে পেতেন। আবার আমার মা-ও আজ আমার পাশে নেই। ভিসা জটিলতা আর প্রয়োজনীয় অর্থের অভাবে তাদের এখানে আনা সম্ভব হয়নি।’