ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬,
সরকার অনুমোদিত নিবন্ধন নম্বর ১৯১
Reg:C-125478/2015

বিকাশ এজেন্টকে কুপিয়ে ছিনতাই

ডেস্ক রিপোর্ট


প্রকাশ: ১৭ জুন, ২০২৬ ১২:৪৬ অপরাহ্ন | দেখা হয়েছে ৩০ বার


বিকাশ এজেন্টকে কুপিয়ে ছিনতাই

রাজধানীর আদাবরে বিকাশের দোকানে ঢুকে এজেন্টকে কুপিয়ে টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনায় কুখ্যাত ‘কব্জি কাটা’ গ্রুপের সেকেন্ড ইন কমান্ড আবু সাঈদসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)। এসময় তাদের কাছ থেকে অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।

 

গ্রেপ্তাররা হলেন– কব্জি কাটা গ্রুপের সেকেন্ড ইন কমান্ড আবু সাঈদ (৩৩), রাশেদ খন্দকার (৩২), মো. লিটন (২৮), মো. তৌসিফ (৩০) ও মো. তরিকুল ইসলাম (২৫)।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) মধ্যরাতে রাজধানীর মোহাম্মদপুর ও পীরেরবাগ এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে র‍্যাব-২ এর একটি দল।

 

বুধবার (১৭ জুন) বিষয়টি নিশ্চিত করে র‍্যাব-২ এর কোম্পানি কমান্ডার হাসান মুহতারিম জানান, কব্জি কাটা গ্রুপের সেকেন্ড ইন কমান্ড আবু সাঈদসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।

এছাড়া কব্জি কাটা আনোয়ার গ্রুপের অন্য সদস্যদের গ্রেপ্তার ও অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

 

এর আগে মঙ্গলবার সকালে আদাবরের একটি দোকানে ঢুকে বিকাশ এজেন্ট শফিকুল ইসলামকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে তার কাছে থাকা প্রায় তিন লাখ টাকা ও বিকাশের লেনদেনের মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয় দুর্বৃত্তরা।

 

ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, শফিকুল দোকান খুলে বসার কিছুক্ষণের মধ্যেই চার থেকে পাঁচজন চাপাতিধারী যুবক দোকানে প্রবেশ করে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই তারা তার ডান হাতে কোপ দেয় এবং নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন নিয়ে পালিয়ে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

এ ঘটনায় জড়িতদের ধরতে মঙ্গলবার বিকেলে মোহাম্মদপুরের তুরাগ হাউজিং এলাকায় অভিযান চালায় আদাবর থানা পুলিশ। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে কব্জি কাটা আনোয়ার গ্রুপের সদস্য টানা আমির, চোরা রুবেল, আবুল কাশেম ও আরিফ হোসেন জয় পুলিশের ওপর অতর্কিত হামলা চালায় বলে অভিযোগ রয়েছে।

পুলিশ জানায়, আত্মরক্ষার্থে চার রাউন্ড গুলি ছোড়া হলে টানা আমির ও চোরা রুবেল গুলিবিদ্ধ হয়। পরে ঘটনাস্থল থেকে গুলিবিদ্ধসহ চারজনকে আটক করা হয়। এসময় তাদের কাছ থেকে দেশীয় অস্ত্র ও হাতুড়ি উদ্ধার করা হয়। পরে তাদেরও চিকিৎসার জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

স্থানীয় সূত্র জানায়, সাম্প্রতিক সময়ে আদাবর এলাকায় ছিনতাই, চাঁদাবাজি ও লুটপাটের ঘটনা বেড়েছে। সোমবার রাতেও আদাবর ১০ নম্বর বালুর মাঠ এলাকায় কয়েকটি গ্যারেজে লুটপাটের ঘটনা ঘটে। একই এলাকায় সকালে সংঘটিত বিকাশের দোকানে হামলার ঘটনাটি জনমনে নতুন করে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।

এলাকার এক বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, একসময় কুখ্যাত সন্ত্রাসী পানি আনোয়ারের নেতৃত্বে পরিচালিত কব্জি কাটা গ্রুপটি আবারও সক্রিয় হয়ে উঠছে। বর্তমানে কারাগারে থাকা আনোয়ারের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও বাল্যবন্ধু আবু সাঈদ গ্রুপটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন। গ্রুপটির ১৫ থেকে ২০ জন সদস্য বিভিন্ন এলাকায় সক্রিয় রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, আদাবর ১০ ও ১৭ নম্বর এলাকা, শ্যামলী হাউজিং, তুরাগ হাউজিং, ঢাকা উদ্যান, নবীনগর ও চন্দ্রিমা হাউজিংসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ছিনতাই, চাঁদাবাজি, দখলবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছে কব্জি কাটা গ্যাংয়ের সদস্যরা।


   আরও সংবাদ