স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ২১ জুন, ২০২৬ ০৯:২০ পূর্বাহ্ন | দেখা হয়েছে ১৮ বার
প্রথমার্ধ শেষে অঘটনের আভাস ছিল টরন্টোতে। ফ্রাঙ্ক কেসিয়ের গোলে এগিয়ে ছিল আইভরি কোস্ট।
জার্মানির খেলা ছিল অগোছালো, আক্রমণেও ছিল না ধার। তবে দ্বিতীয়ার্ধে বদলি নামা ডেনিজ উনডাভ বদলে দিলেন ম্যাচের মোড়।
তার জোড়া গোলে ২-১ ব্যবধানে জিতে নকআউট পর্বে জায়গা নিশ্চিত করল জার্মানি।
বিশ্বকাপের গ্রুপ ‘ই’র ম্যাচে শুরুতেই সুযোগ পেয়েছিল জার্মানি।
প্রথম মিনিটে বক্সে বল পেয়ে শট নেন কাই হাভার্টজ, তবে বল চলে যায় ক্রসবারের ওপর দিয়ে। ১০ মিনিটে আবার সুযোগ আসে তার সামনে।
ডান দিক থেকে আসা ক্রসে হেড করেন হাভার্টজ, কিন্তু আইভরি কোস্টের গোলরক্ষক ইয়াহিয়া ফোফানা ঝাঁপিয়ে সেটি ঠেকান।
এরপর ধীরে ধীরে আক্রমণে ওঠে আইভরি কোস্ট। ১২ মিনিটে উইলফ্রিড সিঙ্গোর জোরালো শট জার্মান রক্ষণে লেগে ফিরে যায়। ১৮ মিনিটে জামাল মুসিয়ালার বাঁকানো শট অল্পের জন্য পোস্টের বাইরে দিয়ে যায়। ২১ মিনিটে ফেলিক্স এনমেচার দূরপাল্লার শট ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে সামান্য ওপর দিয়ে যায়।
২২ মিনিটে বল জালে পাঠিয়েছিল জার্মানি। কর্নার থেকে ফোফানা বল ধরতে গেলে আলেকসান্দার পাভলোভিচের ধাক্কায় পড়ে যান। বল গোললাইন পেরোলেও রেফারি ফাউল দেন। গোলটি বাতিল হয়।
৩০ মিনিটে উল্টো এগিয়ে যায় আইভরি কোস্ট। ডান দিক থেকে ওসমানে দিয়োমান্দে বিপজ্জনক বল পাঠান বক্সে। আমাদ দিয়ালোর সামনে থেকে দারুণ ব্লক করেন নাথানিয়েল ব্রাউন। কিন্তু ফিরতি বল পেয়ে যান কেসিয়ে। ঠান্ডা মাথায় নিচু শটে বল জালে পাঠান তিনি।
গোলের পর কাউন্টার অ্যাটাকে আরও আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠে আইভরি কোস্ট। ৩৮ মিনিটে ২৫ গজ দূর থেকে আনজ-বোনির বাঁকানো শট ঠেকান মানুয়েল নয়্যার। ৪০ মিনিটে আবার গোল করেছিল জার্মানি। ফ্লোরিয়ান ভির্টজ বল জালে পাঠালেও তার আগে ওদিলোঁ কোসুনুকে ফাউল করা হয়েছিল। তাই গোলটি বাতিল করেন রেফারি।
প্রথমার্ধের যোগ করা সময়েও সুযোগ পেয়েছিল জার্মানি। ৪৫+৭ মিনিটে বক্সে ঢুকে শট নেন ভির্টজ। কিন্তু বল সোজা ফোফানার হাতে যায়। বিরতিতে ১-০ গোলে এগিয়ে ছিল আইভরি কোস্ট।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেও জার্মানি খুব স্বস্তিতে ছিল না। ৪৮ মিনিটে মুসিয়ালার শট সাইড নেটে লাগে। এরপর আইভরি কোস্ট দ্রুত আক্রমণে জার্মানিকে চাপে রাখে। ৫০ মিনিটে কেসিয়ের শট ব্লক করে জার্মান রক্ষণ। ৫১ মিনিটে দিয়ালোর পাস থেকে ওুলাই শট নিলেও বল যায় ক্রসবারের ওপর দিয়ে।
৫৪ মিনিটে দিয়ালো আবারও ভয় ধরিয়ে দেন জার্মান রক্ষণে। তার পাস থেকে কেসিয়ের সামনে ভালো সুযোগ ছিল, কিন্তু প্রথম স্পর্শ ভালো হয়নি। ফলে রুডিগার বল ক্লিয়ার করেন। ৫৬ মিনিটে দিয়োমান্দে কাছ থেকে শট নেওয়ার সুযোগ পেয়েও ঠিকমতো বল লাগাতে পারেননি।
এক ঘণ্টা পেরোনোর পর ম্যাচে বড় পরিবর্তন আনেন জার্মানি কোচ ইউলিয়ান নাগেলসমান। ৬০ মিনিটে একসঙ্গে তিন বদলি নামান তিনি। লেরয় সানে, মুসিয়ালা ও পাভলোভিচকে তুলে নামানো হয় জেমি লেভেলিং, ডেনিজ উনডাভ ও নাদিয়েম আমিরিকে।
এই পরিবর্তনেই ম্যাচের গতি বদলে যায়। ৬১ মিনিটে দূর থেকে শট নেন লেভেলিং, তবে বল অনেক ওপর দিয়ে যায়। ৬৪ মিনিটে কর্নার থেকে হেডের সুযোগ পান হাভার্টজ, কিন্তু তিনি লক্ষ্যভ্রষ্ট হন।
৬৮ মিনিটে সমতায় ফেরে জার্মানি। ডান দিক থেকে আমিরির ক্রসে ছয় গজ বক্সের সামনে দৌড়ে এসে ভলিতে গোল করেন উনডাভ। বদলি নেমে টানা দ্বিতীয় ম্যাচে গোল পেলেন এই ফরোয়ার্ড।
গোলের পর আরও আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠে জার্মানি। আইভরি কোস্ট তখন চাপ সামলাতে ব্যস্ত। ৭২ মিনিটের পানীয় বিরতি তাদের কিছুটা সময় দিলেও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ তখন জার্মানির দিকে চলে গেছে।
৭৬ মিনিটে তিন বদলি আনে আইভরি কোস্ট। আমাদ দিয়ালো, বোনি ও সাঙ্গারের জায়গায় নামেন সিমন আদিংরা, ফোফানা ও গেসাঁ। এরপর সিঙ্গো চোট পেয়ে মাঠ ছাড়েন, তার জায়গায় নামেন গেদেওন দোয়ু। ৮৫ মিনিটে দিয়োমান্দেকেও তুলে নেওয়া হয়, নামেন নিকোলা পেপে।
শেষ দিকে দুই দলই সুযোগ পায়। ৮৬ মিনিটে দূর থেকে শট নেন উনডাভ, তবে সেটি সোজা ফোফানার হাতে চলে যায়। ৮৯ মিনিটে বড় সুযোগ নষ্ট করে আইভরি কোস্ট। ডান দিক দিয়ে দ্রুত উঠে পেপে বক্সে আদিংরাকে বল দেন। কিন্তু আদিংরার প্রথম স্পর্শ ভালো না হওয়ায় শট নেওয়ার আগেই জার্মানি বিপদ কাটায়।
একই মিনিটে জার্মানির বড় সুযোগ রুখে দেন ফোফানা। বাম দিক থেকে কাটব্যাক পেয়ে প্রথম স্পর্শেই ভলি নেন ব্রাউন। বল দূরের কোণে যাচ্ছিল, কিন্তু দারুণ সেভে সেটি ফিরিয়ে দেন আইভরি কোস্টের গোলরক্ষক।
যোগ করা সময় দ্বিতীয় মিনিটে বক্সের বাইরে ফাঁকা জায়গা থেকে শট নেন আমিরি, তবে বলের গতি কম থাকায় ফোফানা সহজেই ধরে ফেলেন। চতুর্থ মিনিটে আসে জার্মানির জয়সূচক গোল। বক্সে পেনাল্টি স্পটের কাছে বল পান উনডাভ। প্রথম স্পর্শে নিজেকে তৈরি করে দ্বিতীয় স্পর্শে ফোফানাকে পরাস্ত করেন তিনি। অফসাইড পরীক্ষা হলেও দেখা যায়, তিনি পরিষ্কার অনসাইডে ছিলেন।
শেষ বাঁশি বাজতেই স্বস্তি আসে জার্মান শিবিরে। বিরতিতে পিছিয়ে থাকা দলটি বদলিদের প্রভাবে ম্যাচ ঘুরিয়ে জয় তুলে নেয়। আর এই জয়ে নকআউট পর্বও নিশ্চিত হলো জার্মানির।
অন্যদিকে ঐতিহাসিক জয়ের খুব কাছ থেকে ফিরতে হলো আইভরি কোস্টকে। প্রথমার্ধে দারুণ রক্ষণ, দ্রুত পাল্টা আক্রমণ আর কেসিয়ের গোলে অঘটনের স্বপ্ন দেখেছিল তারা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত উনডাভের জোড়া গোলেই ভেঙে গেল সেই স্বপ্ন।