ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ২১ জুন, ২০২৬ ০৯:১৮ পূর্বাহ্ন | দেখা হয়েছে ১৬ বার
ঢাকার পথে-ঘাটে, এমনকি জনসমাগমপূর্ণ এলাকাতেও দিনদুপুরে ছিনতাইকারীদের হামলার ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় প্রায় প্রতিদিনই ছিনতাইকারীদের ছুরিকাঘাত ও হামলার শিকার হয়ে অনেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
শুধু সাধারণ মানুষই নন, ছিনতাইকারীদের হামলার শিকার হচ্ছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরাও। এমনকি চলন্ত ট্রেনেও ঘটছে ছিনতাই ও হামলার ঘটনা।
সর্বশেষ শনিবার (২০ জুন) দুপুরে তেজগাঁও এলাকায় চলন্ত ট্রেনে ছিনতাইকারীদের ছুরিকাঘাতে তোফায়েল ইসলাম (২০) নামে এক শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হন। এ সময় তার ব্যবহৃত আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলেও ব্যর্থ হয় ছিনতাইকারীরা।
তোফায়েলের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার অনন্তপুর গ্রামে। তিনি স্থানীয় একটি কলেজ থেকে এবার উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।
আহতের ভগ্নিপতি রাইতুল ইসলাম জানান, শুক্রবার গ্রাম থেকে তোফায়েল হাজারীবাগে তার বোনের বাসায় বেড়াতে আসেন। ধানমন্ডিতে একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার পর শনিবার দুপুরে কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে চট্টলা এক্সপ্রেসে গ্রামের উদ্দেশে রওনা দেন। ট্রেনটি তেজগাঁও এলাকা অতিক্রম করার সময় বগির ভেতরে থাকা তিন থেকে চারজন ছিনতাইকারী দুই বগির সংযোগস্থলে তার পকেট থেকে আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। তিনি বাধা দিলে ছিনতাইকারীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার কোমরে ছুরিকাঘাত করে চলন্ত ট্রেন থেকে লাফিয়ে পালিয়ে যায়। তবে মোবাইল ফোনটি নিতে পারেনি তারা।
এর আগে একই দিন ভোরে রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর ধোলাইপাড় কবরস্থান রোড এলাকায় ছিনতাইকারীদের হামলায় মো. রুবেল (৩০) আহত হন।
জানা যায়, ভোরবেলায় হেঁটে যাওয়ার সময় তিন থেকে চারজন ছিনতাইকারী তার পথরোধ করে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হাতে আঘাত করে গুরুতর জখম করে। পরে তার কাছে থাকা পাঁচ হাজার ৩০০ টাকা ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়। আহত অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।
শুধু সাধারণ মানুষই নয়, ছিনতাইকারীদের হামলা থেকে রেহাই পাচ্ছেন না পুলিশ সদস্যরাও।
গত ১১ জুন দিবাগত রাত আনুমানিক ১টার দিকে রাজধানীর শেরেবাংলানগর থানার জিয়া উদ্যানের গ্লাস ব্রিজ এলাকায় ছিনতাইকারীদের ছুরিকাঘাতে দুই পুলিশ সদস্য গুরুতর আহত হন। তারা হলেন—শেরেবাংলানগর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সামসুজ্জোহা (৩৪) এবং কনস্টেবল মোহাম্মদ হৃদয় হোসেন (২০)।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, তিনজন অজ্ঞাত ছিনতাইকারী একটি ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটিয়ে অটোরিকশাযোগে পালানোর চেষ্টা করলে টহলরত পুলিশ সদস্যরা মোটরসাইকেলে তাদের ধাওয়া করেন। একপর্যায়ে ছিনতাইকারীরা দুই পুলিশ সদস্যকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে। পরে তাদের উদ্ধার করে প্রথমে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
অন্যদিকে গত ৭ জুন মতিঝিল এলাকায় মোটরসাইকেলযোগে এসে ছিনতাইকারীরা লোকমান হোসেন নামে এক মুদ্রা ব্যবসায়ীকে গুলি করে আহত করে। পরে তার ব্যাগভর্তি টাকা ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়। ঘটনার পর পুলিশ জানায়, ছিনতাইকারীরা দীর্ঘদিন ধরে লোকমানের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করছিল এবং পরিকল্পিতভাবে হামলা চালায়।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. ফারুক বলেন, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রায় প্রতিদিনই ছিনতাইকারীদের হামলায় আহত ব্যক্তিরা চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে আসছেন।
তিনি বলেন, বিশেষত ভোররাত থেকে সকাল পর্যন্ত সময়ে ছিনতাইয়ের ঘটনা তুলনামূলক বেশি ঘটে। এ সময় ছুরিকাঘাত ও মারধরের শিকার হয়ে অনেকেই চিকিৎসা নিতে ঢামেকে আসেন।
ঢাকা রেলওয়ে থানার (কমলাপুর) ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জয়নাল আবেদিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, চলন্ত ট্রেনে তিনজন ছিনতাইকারী এক শিক্ষার্থীর আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। বাধা দিলে তারা তাকে কোমরে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়।
তিনি জানান, আহত শিক্ষার্থীকে দ্রুত উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে কাজ করছে রেলওয়ে পুলিশ।
তবে চলন্ত ট্রেনে নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। রেলওয়ের একটি সূত্র জানায়, শত শত যাত্রী বহনকারী একটি ট্রেনের নিরাপত্তায় অনেক ক্ষেত্রে মাত্র দুই থেকে তিনজন রেলওয়ে পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করেন। ফলে কোনো বগিতে অপরাধ সংঘটিত হলে সেখানে দ্রুত পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়ে।
সূত্রটি আরও জানায়, একটি ট্রেনে ১০টি বা তারও বেশি বগি থাকলে এবং প্রতিটি বগি যাত্রীতে পূর্ণ থাকলে এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে পৌঁছাতে সময় লাগে। যদিও রেলওয়ে পুলিশ সদস্যরা নিয়মিত বগিগুলোতে টহল দিয়ে থাকেন।