ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ৬ জুলাই, ২০২৬ ০৯:৫৪ পূর্বাহ্ন | দেখা হয়েছে ১৯ বার
পার্বত্য জেলা বান্দরবানে পাহাড়ের পাদদেশে বসবাস করছে হাজারো পরিবার। সমতল ভূমির অপ্রতুলতার কারণে দিন দিন অসহায় পরিবারগুলো মৃত্যু ঝুকি নিয়ে পাহাড়ের বিভিন্নস্থানের মাটি কেটে তৈরি করছে বসতবাড়ী।
শুষ্ক মৌসুমে কোনো সমস্যা না হলেও বর্ষা মৌসুম শুরু হলে দেখা দেয় পাহাড় ধস। আর এতে ঘটে প্রাণহানী।
এদিকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বর্ষা মৌসুমে প্রাণহানী এড়াতে নানা পদক্ষেপ নেওয়া হলেও অর্থনৈতিক ঘাটতি আর সচেতনতার অভাবে নিয়মিত পাহাড় কেটে বাড়ছে বসতির সংখ্যা।
বান্দরবান পৌরসভার ইসলামপুর, লাঙ্গিপাড়া, হাফেজঘোনা, কালাঘাটা, বনরুপা পাড়া, সিদ্দিকনগর, ক্যাচিংঘাটাসহ বিভিন্ন এলাকায় কয়েকশ পরিবার পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাস করছে।
দিন দিন বাড়ছে অবৈধভাবে পাহাড় কেটে বসতঘর নির্মাণের কার্যক্রম। জেলা সদরের বাইরেও রুমা, লামা, আলীকদম, থানচি, নাইক্ষ্যংছড়ি এবং রোয়াংছড়ি উপজেলাতে পাহাড় কেটে ঘরবাড়ি নির্মাণ করায় বর্ষা মৌসুমে এসব এলাকায় পাহাড় ধসে হতাহতের ঘটনা ঘটছে।
মূলত বর্ষা মৌসুমে টানা বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে পাহাড়ের পাদদেশ নরম হয়ে যায়, আর পাহাড় ধসে আশপাশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে মাটিচাপা পড়ে ক্ষয়ক্ষতির ঘটনার পাশাপাশি আহত ও নিহত হয় স্থানীয় বাসিন্দারা।
বান্দরবানের কালাঘাটার বাসিন্দা মো. মঈন উদ্দিন বলেন, বর্ষা এলে পাহাড়ে চলাচল করা খুবই কষ্টকর হয়ে পড়ে। কেউ কেউ অবৈধভাবে পাহাড় কাটে আবার কেউ কেউ সেই মাটি নিয়ে ব্যবসা শুরু করে।
বান্দরবানের ইসলামপুরের বাসিন্দা মো. আসিফ বলেন, পার্বত্য জেলা বান্দরবানকে রক্ষা করতে আমাদের সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। পাহাড়ের চূড়ায় বসবাসরত গরিব ও অসহায়দের প্রতি প্রশাসনের নজরদারি বাড়াতে হবে। বর্ষা মৌসুম এলে মাইকিং করে তাদের আশ্রয়কেন্দ্রে নিয়ে গিয়ে সাময়িক আশ্রয় দিয়ে কাজ শেষ নয়, তাদের স্থায়ী পূনর্বাসনে প্রশাসনের নজর দেওয়া এখন সময়ের দাবি।
এদিকে সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও মানবাধিকার কর্মীরা বলছে প্রতি বর্ষায় বান্দরবানে পাহাড় ধসে আহত ও নিহতের সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে পাহাড় কেটে বসতি নির্মাণ। আর এ থেকে পরিত্রাণ পেতে সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি প্রশাসনকে আরও জোরালো পদক্ষেপ নিতে হবে।
জেলা দুনীর্তি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি ও মানবাধিকার কর্মী অং চ মং মারমা বলেন, বর্ষা মৌসুমে বান্দরবানে আতঙ্ক বিরাজ করে। মূলত যারা পাহাড়ের পাদদেশে বসবাস করে প্রচুর বৃষ্টির কারণে তাদের চলাফেরা অনেকইটাই কঠিন হয়ে পড়ে। অনেকস্থানে অতিবৃষ্টির কারণে পাহাড় ধসে হতাহতের ঘটনা ঘটে প্রতিবছরই।
জেলা প্রশাসনের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বান্দরবান পার্বত্য জেলার ৭ উপজেলায় ৫ হাজার ৭৫৬টি পরিবার বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে বসবাস করছে, তবে বেসরকারি হিসেবে যা কয়েকগুণ বেশি।
এদিকে প্রশাসনের কর্মকর্তারা বলছে বর্ষা এলে কিছু ব্যক্তি অবৈধভাবে পাহাড় কাটে, আর এতে দুর্ভোগ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নানা ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে। তবে যারা অবৈধভাবে পাহাড় কাটছে তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
বান্দরবান পৌরসভার প্রশাসক এস এম মনজুরুল হক জানান, বর্ষাকাল এলে অনেকেই বান্দরবানে পাহাড় কাটে, কারণ বর্ষায় পাহাড়ের মাটি নরম হয় আর বৃষ্টির মধ্যে সহজেই পাহাড় কাটা যায়।
পৌরসভার প্রশাসক এস এম মনজুরুল হক আরও জানান, যারা অবৈধভাবে পাহাড় কাটে তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারীদের স্থায়ী পুনর্বাসনের এখনো কোন পরিকল্পনা বা বরাদ্দ নেই। তবে সরকার যদি কোন পরিকল্পনা গ্রহণ করে তবে পৌরসভার পক্ষ থেকে আমরা সার্বিক ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।