ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ১১ জুলাই, ২০২৬ ১০:৫০ পূর্বাহ্ন | দেখা হয়েছে ১৬ বার
ব্রয়লার মুরগি খাওয়া কি স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর? নাকি দেশি মুরগিই বেশি নিরাপদ? এ নিয়ে মানুষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই নানা ধরনের ধারণা প্রচলিত রয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ব্রয়লার মুরগি সম্পর্কে প্রচলিত অনেক ধারণাই বাস্তবতার সঙ্গে মেলে না।
গ্যাস্ট্রোএন্টেরোলজিস্ট ডা. পালানিয়াপ্পান মানিক্কমের মতে, মাত্র ৫ থেকে ৭ সপ্তাহে ব্রয়লার মুরগি বড় হয়ে যায় বলে অনেকেই মনে করেন, এগুলোতে গ্রোথ হরমোন ব্যবহার করা হয়। কিন্তু এই ধারণা সঠিক নয়।
তিনি জানান, ভারতে পোলট্রি খামারে গ্রোথ হরমোনের ব্যবহার নিষিদ্ধ। এ ছাড়া হাজার হাজার মুরগিকে আলাদাভাবে হরমোন ইনজেকশন দেওয়া বাস্তবিক ও অর্থনৈতিকভাবে প্রায় অসম্ভব।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্রয়লার মুরগির দ্রুত বৃদ্ধির পেছনে মূল কারণ হলো দীর্ঘদিনের নির্বাচিত প্রজনন (সিলেক্টিভ ব্রিডিং), উন্নত খাদ্য ব্যবস্থাপনা এবং নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে পরিচর্যা। অর্থাৎ জেনেটিক পরিবর্তন বা হরমোন নয়, উন্নত জাত ও পরিচর্যার কারণেই এরা দ্রুত বেড়ে ওঠে।
ব্রয়লার ও দেশি মুরগির মধ্যে কিছু স্বাভাবিক পার্থক্য রয়েছে। ব্রয়লার মুরগির বুকের মাংস বেশি, মাংস তুলনামূলক নরম এবং চর্বির পরিমাণ কিছুটা বেশি হতে পারে। অন্যদিকে দেশি মুরগি ধীরে ধীরে বড় হয়। ফলে এর মাংস অপেক্ষাকৃত শক্ত, গাঢ় রঙের এবং স্বাদে ভিন্নতা থাকে।
২০২৪ সালে ইন্টারন্যাশনাল জার্নাল অব ভেটেরিনারি সায়েন্সেস অ্যান্ড অ্যানিমাল হাসব্যান্ড্রিতে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশি মুরগির মাংসে মোট চর্বি ও স্যাচুরেটেড ফ্যাট কিছুটা কম এবং লোহা, জিঙ্ক ও বি-গ্রুপের ভিটামিন তুলনামূলক বেশি থাকতে পারে। এ কারণে হৃদরোগ বা উচ্চ কোলেস্টেরলে আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য এটি কিছুটা উপকারী হতে পারে।
ডা. পালানিয়াপ্পান মানিক্কমের ভাষ্য, দেশি মুরগি কোনো ‘সুপারফুড’ নয়, আবার ব্রয়লার মুরগিও কোনো ‘বিষ’ নয়। গবেষণায় মুরগির মাংসকে লিন প্রোটিন বা কম চর্বিযুক্ত প্রোটিনের উৎস হিসেবে বিবেচনা করা হয়। একটি সিস্টেম্যাটিক রিভিউ ও মেটা-অ্যানালাইসিসে দেখা গেছে, বেশি পরিমাণে পোলট্রি মুরগি খাওয়ার সঙ্গে হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়া বা কমার সরাসরি কোনো সম্পর্ক পাওয়া যায়নি।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, মুরগি দেশি হোক বা ব্রয়লার—স্বাস্থ্যকরভাবে রান্না করা, নিরাপদ উৎস থেকে কেনা এবং সুষম খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখাই সুস্থ থাকার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।