স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ১৪ জুলাই, ২০২৬ ১০:৪৭ পূর্বাহ্ন | দেখা হয়েছে ১৮ বার
ইউরোপীয় ফুটবলে নিজেদের প্রভাব কাজে লাগিয়ে ইসরায়েলকে ফিফার আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা থেকে সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করার দাবিতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে নরওয়ে। এমন তথ্য জানিয়েছে রাজনৈতিক সংবাদমাধ্যম ‘পলিটিকো’।
এই উদ্যোগের নেতৃত্ব দিচ্ছে নরওয়েজিয়ান ফুটবল ফেডারেশন (এনএফএফ) এবং এর সভাপতি লিসে ক্লাভেনেস। আইনজীবী ও নরওয়ে নারী জাতীয় দলের সাবেক ফুটবলার ক্লাভেনেস বর্তমানে উয়েফার নির্বাহী কমিটিরও সদস্য।
তার মতে, একতরফা বয়কটের পরিবর্তে ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা ও উয়েফার আনুষ্ঠানিক কাঠামোর মাধ্যমেই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হওয়া উচিত।
গত বছর অসলোতে ইসরায়েলের বিপক্ষে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের ম্যাচের আগে ক্লাভেনেস বলেছিলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি, ইসরায়েলকে সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করা উচিত।
বিষয়টি মূলত ফুটবলের নিয়মকানুন সমানভাবে প্রয়োগের প্রশ্ন।’
তবে নরওয়ে ম্যাচটি বয়কট করেনি।
তাদের যুক্তি ছিল, ম্যাচে না খেললে ইসরায়েল ওয়াকওভার পেয়ে যেতে পারে, যা তাদের বিশ্বকাপে ওঠার সম্ভাবনা আরও বাড়িয়ে দিত। শেষ পর্যন্ত সেই ম্যাচে নরওয়ে ৫-০ গোলের বড় জয় পায়।
নরওয়ের এই অবস্থানের পেছনে অন্যতম যুক্তি হলো ইউক্রেনে আগ্রাসনের পর রাশিয়ার বিরুদ্ধে ফিফা ও উয়েফার নেওয়া পদক্ষেপ। সে সময় রাশিয়ার জাতীয় দল ও ক্লাবগুলোকে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা থেকে স্থগিত করা হলেও গাজায় সামরিক অভিযান চলার মধ্যেও ইসরায়েল আন্তর্জাতিক ফুটবলে অংশগ্রহণ অব্যাহত রেখেছে।
ক্লাভেনেস ও তার সমর্থকদের দাবি, এই দুই ঘটনার ভিন্ন প্রতিক্রিয়া ফুটবলের নিয়ম এবং মানবাধিকার-সংক্রান্ত নীতিমালা সমানভাবে প্রয়োগ করা হচ্ছে কি না, সে বিষয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে।
২০২৪ সালে ফিলিস্তিন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (পিএফএ) আনুষ্ঠানিকভাবে আবারও ইসরায়েল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনকে স্থগিত করার দাবি তোলে। তাদের অভিযোগের মধ্যে ছিল গাজায় হামলা, ফিলিস্তিনি ও আরব ক্রীড়াবিদদের প্রতি বৈষম্য এবং অধিকৃত পশ্চিম তীরের অবৈধ বসতিতে অবস্থিত ক্লাবগুলোর ইসরায়েলি লিগে অংশগ্রহণ।
মানবাধিকার আইনজীবীদের একটি অংশও দাবি করেছেন, বৈষম্যবিরোধী নীতি, মানবাধিকার মানদণ্ড ও অধিকৃত অঞ্চলে ক্লাব পরিচালনার বিষয়ে ফিফার বিভিন্ন বিধিমালা ইসরায়েল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন লঙ্ঘন করেছে।
‘পলিটিকো’র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নরওয়ের এই উদ্যোগের ফলে বিষয়টি শুধু আরব ও এশিয়ার ফুটবল সংস্থাগুলোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; বরং ইউরোপীয় ফুটবলেও আলোচনার কেন্দ্রে চলে এসেছে।
এদিকে অসলোতে নরওয়ে-ইসরায়েল ম্যাচ উপলক্ষে নরওয়েজিয়ান ফুটবল ফেডারেশন টিকিট বিক্রির অর্থ গাজার চিকিৎসা সহায়তায় দান করে। ম্যাচ চলাকালে গ্যালারিতে অনেক সমর্থক ফিলিস্তিনের পতাকা ও কেফিয়েহ প্রদর্শন করেন। স্টেডিয়ামে ‘শিশুদের বাঁচতে দাও’ লেখা একটি ব্যানারও টানানো হয়। একই সময়ে স্টেডিয়ামের বাইরে শত শত বিক্ষোভকারী ইসরায়েলকে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে বাদ দেওয়ার দাবিতে সমাবেশ করেন।
চলতি বছরের মার্চে ফিফা অধিকৃত পশ্চিম তীরে অবস্থিত ক্লাবগুলোর ইস্যুতে ইসরায়েল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনকে স্থগিত করার আবেদন নাকচ করে। তবে বৈষম্য ও আপত্তিকর আচরণসংক্রান্ত নিয়ম ভঙ্গের দায়ে সংস্থাটিকে ১ লাখ ৫০ হাজার সুইস ফ্রাঁ (প্রায় ১ লাখ ৮৫ হাজার ৫০০ মার্কিন ডলার) জরিমানা করে।
এছাড়া ফিফা ইসরায়েল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনকে বাধ্যতামূলক বৈষম্য প্রতিরোধ পরিকল্পনা গ্রহণ, বৈষম্যবিরোধী শিক্ষা কর্মসূচি চালু, পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা জোরদার এবং ম্যাচে বৈষম্যবিরোধী ব্যানার প্রদর্শনের নির্দেশ দেয়।
ইসরায়েলকে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে স্থগিত করার দাবি নিয়ে আলোচনা এখনও চলমান। ফিলিস্তিনি ও ইউরোপীয় ফুটবল কর্মকর্তারা এ বিষয়ে ফিফা ও উয়েফার ওপর আরও পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য চাপ অব্যাহত রেখেছেন।