স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ২০ জুলাই, ২০২৬ ১৫:৩৫ অপরাহ্ন | দেখা হয়েছে ২৮ বার
‘লাস্ট ড্যান্স’-এ বিশ্বজয়ের স্বপ্ন অধরা থেকে গেল লিওনেল মেসির। একপেশে লড়াইয়ে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন হলো স্পেন।
ফেরান তোরেসের একমাত্র গোলে ১৬ বছর পরে বিশ্বসেরা স্প্যানিশ আর্মাডা।
ম্যাচ শেষে উচ্ছ্বাসে মাতেন লামিনে ইয়ামাল, পেদ্রি, পাউ কুবারসিরা।
হতাশায় ভেঙে পড়েন মেসি, দে পল, সিমিওনেরা। কিন্তু ১২০ মিনিট পর্যন্ত যে এই ম্যাচ গড়াবে তা আশা করা যায়নি।
সৌজন্যে একজন ফুটবলার। এমিলিয়ানো ‘দিবু’ মার্তিনেজ।
বিশ্বকাপে খেলতে নেমেছিলেন ভাঙা আঙুল নিয়ে। গোটা টুর্নামেন্টে সেভাবে ছন্দে ছিলেন না। কিন্তু ফাইনালে জাত চেনালেন নিজের। ১১ সেভের পরে ভাঙল গোলের নীচে থাকা দুর্ভেদ্য প্রাচীর। স্পেনের নায়ক হলেন ফেরান তোরেস। ট্র্যাজিক হিরো হয়ে থেকে গেলেন আর্জেন্টিনার গোলকিপার এমিলিয়ানো মার্তিনেজ।
পুরুষদের ফুটবল বিশ্বকাপের ফাইনালে সবচেয়ে বেশি সেভের রেকর্ড ছিল ৯টি। সেই রেকর্ড ভেঙে দিলেন এমিলিয়ানো মার্তিনেজ। স্পেনের বিরুদ্ধে এই ম্যাচে ১১টি সেভ করেছেন ৩৩ বছর বয়সি এই গোলকিপার।
ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জিততে না পারলেও জায়গা করে নিলেন ইতিহাসের পাতায়। ম্যাচের প্রথম মিনিট থেকেই লড়াইটা যেন ছিল এমিলিয়ানো বনাম স্পেন। বারবার নিকো, ইয়ামাল, কুকুরেইয়াদের শট বাঁচিয়েছেন তিনি। নিশ্চিত গোল থেকে বঞ্চিত করেছেন স্পেনকে। তবু শেষরক্ষা হলো না। এমিলিয়ানোকে পরাস্ত করেন ফেরান তোরেস।
ম্যাচ শুরুর কিছুক্ষণের মধ্যেই ইয়ামালের শট বাঁচিয়ে দেন এমি। ৩৯ মিনিটে রদ্রি ও ফাবিয়ান মারফত ক্রস পেয়ে বল গোলে রাখেন ওইয়ারসাবাল। সেবারও আর্জেন্টিনার ত্রাতা হয়ে ওঠেন মার্তিনেজ। দ্বিতীয়ার্ধ শুরুর ২ মিনিটের মধ্যে আলেক্স বায়েনার শট সেভ করেন এমি। ৬৭ মিনিটে আরও একবার জ্বলে ওঠেন তিনি। ইয়ামালের ক্রস থেকে তোরেসের হেড সেভ দিয়ে নিশ্চিত গোল থেকে বঞ্চিত করেন স্পেনকে।
৭৭ মিনিটে পরপর পেদ্রি ও ইয়ামালের শট প্রতিহত করেন। নির্ধারিত সময় শেষের ঠিক আগে ইয়ামালের দুরন্ত ফ্রি-কিক বাজপাখির মতো উড়ে গিয়ে বাঁচান মার্তিনেজ। অবশেষে ১০৬ মিনিটে তোরেসের কাছে হার মানেন।
২০২২ সালের বিশ্বকাপের ফাইনালেও অবিশ্বাস্য কিছু সেভ করে আর্জেন্টিনাকে ট্রফি জিতিয়েছিলেন এমি। এবারও ফাইনালের আগে বলেছিলেন, আঙুলে চোট থাকলেও প্রভাব পড়তে দিচ্ছেন না পারফর্ম্যান্সে। সেই কথা রেখেছিলেন তিনি। খেটে খাওয়া পরিবার থেকে উঠে আসা এমি লড়াই করলেন ফাইনালেও। একা দুর্ভেদ্য প্রাচীর হয়ে লড়ে গেলেন।