স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ২০ জুলাই, ২০২৬ ১৫:৩৬ অপরাহ্ন | দেখা হয়েছে ২৮ বার
যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় অনুষ্ঠিত ৪৮ দলের প্রথম বিশ্বকাপটি নিঃসন্দেহে ফুটবলপ্রেমীদের মনে দাগ কেটে থাকবে।
নিউইয়র্কের ইস্ট রাদারফোর্ডে রোমাঞ্চকর ফাইনালে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে অতিরিক্ত সময়ে ১-০ গোলে হারিয়ে শিরোপা উল্লাসে মেতেছে স্পেন।
দুর্দান্ত সব রেকর্ড, ছোট দলগুলোর রূপকথার মতো উত্থান আর মাঠের বাইরের নানা বিতর্কে ঠাসা এবারের আসরটি যেন ছিল আক্ষরিক অর্থেই রোমাঞ্চে ভরপুর।
টানা পাঁচ সপ্তাহের এই ফুটবল মহাযজ্ঞ শেষে বার্তা সংস্থা এএফপি টুর্নামেন্টের সবচেয়ে আলোচিত কিছু বিষয় তুলে ধরেছে।
১৬ বছর পর স্প্যানিশ রাজত্ব
পুরো টুর্নামেন্টে নিখুঁত ফুটবল, দুর্দান্ত নিয়ন্ত্রণ আর জমাট রক্ষণের পসরা সাজিয়ে বসেছিল স্পেন। কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তের অধীনে দারুণ ভারসাম্যপূর্ণ এক দল হিসেবে আবির্ভূত হয় তারা।
ফাইনালে অতিরিক্ত সময়ের ১০৬ মিনিটে স্প্যানিশদের হয়ে জয়সূচক গোলটি করেন ফেরান তোরেস। এর মধ্য দিয়ে ১৬ বছর পর আবারও বিশ্ব ফুটবলের সিংহাসনে বসল স্পেন।
দলের এই রাজত্ব পুনরুদ্ধারে মাঝমাঠে নেতৃত্ব দিয়ে বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হয়েছেন রদ্রি।
এমবাপ্পের গোলবন্যা ও রেকর্ডের ছড়াছড়ি
গোল্ডেন বুট জেতার লড়াইটা এবার শুরু থেকেই বেশ জমে উঠেছিল। লিওনেল মেসি, আর্লিং হ্যালান্ড, হ্যারি কেইনদের মতো গোলমেশিনরা ছিলেন এই দৌড়ে। তবে সবাইকে ছাড়িয়ে ১০ গোল করে শীর্ষস্থান দখল করেছেন ফরাসি তারকা কিলিয়ান এমবপ্পে। তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে ইংল্যান্ডের কাছে ৬-৪ গোলে হারের দিনেও জোড়া গোল করেছেন তিনি। সেই সঙ্গে তিন বিশ্বকাপে মোট ২২ গোল করে লিওনেল মেসিকে টপকে বিশ্বকাপের ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ডটিও এখন এমবাপের দখলে।
ছোট দলগুলোর বড় চমক
এবারের আসরে রীতিমতো চমক দেখিয়েছে নবাগত কেপ ভার্দে। স্পেন ও উরুগুয়ের মতো শক্তিশালী দলের গ্রুপে থেকেও অপরাজিত অবস্থায় নকআউটে পা রাখে তারা। শেষ ষোলোতে আর্জেন্টিনার বিপক্ষেও তাদের লড়াই ছিল চোখে পড়ার মতো। অতিরিক্ত সময়ে গিয়ে তারা শেষমেশ হার মানে। অন্যদিকে, জনসংখ্যা ও আয়তনের দিক থেকে বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া সবচেয়ে ছোট দেশ কুরাসাও গড়েছে আরেক ইতিহাস। প্রথম ম্যাচে জার্মানির কাছে ৭-১ গোলে বিধ্বস্ত হলেও, পরের ম্যাচে ইকুয়েডরের সাথে গোলশূন্য ড্র করে নিজেদের সামর্থ্যের জানান দিয়েছে তারা।
আর্জেন্টিনার লড়াকু মানসিকতা
পুরো টুর্নামেন্টেই বেশ কয়েকবার খাদের কিনারায় গিয়েও দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে আর্জেন্টিনা। নান্দনিক ফুটবলের চেয়ে এবারের আসরে তাদের মূল শক্তি ছিল 'হার না মানা' মানসিকতা। শেষ ষোলোতে মিসরের বিপক্ষে ২-০ গোলে পিছিয়ে পড়েও শেষ মুহূর্তের নাটকীয়তায় জয় ছিনিয়ে আনা, কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে অতিরিক্ত সময়ের লড়াই কিংবা সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খাদের কিনারা থেকে ঘুরে দাঁড়ানো, সবখানেই ছিল তাদের লড়াকু চরিত্রের ছাপ। তবে ফাইনালে স্পেনের কৌশলগত দাপটের কাছে শেষ পর্যন্ত আর পেরে ওঠেননি মেসিরা।
রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ ও বালেগান বিতর্ক
মাঠের খেলা দারুণভাবে এগোলেও যুক্তরাষ্ট্রের ফেলারিন বালেগানকে কেন্দ্র করে জন্ম নেয় বড় এক রাজনৈতিক বিতর্ক। বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিপক্ষে লাল কার্ড দেখায় পরের ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ হন এই মার্কিন স্ট্রাইকার। কিন্তু মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হস্তক্ষেপে ফিফা সেই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নিলে বিশ্বজুড়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে। অবশ্য বালেগান দলে ফিরলেও শেষ ষোলোতে বেলজিয়ামের কাছে ৪-১ গোলে হেরে বিদায় নেয় যুক্তরাষ্ট্র।
ভাইরাল হ্যালান্ড ও ‘ভাইকিং’ উদযাপন
নরওয়েকে নিজেদের ইতিহাসের সেরা সাফল্য (কোয়ার্টার ফাইনাল) এনে দেওয়ার পথে দারুণ ভূমিকা রাখা আর্লিং হ্যালান্ড মাঠের চেয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেই বেশি সাড়া ফেলেছেন। টুর্নামেন্ট চলাকালে ইনস্টাগ্রামে তার অনুসারী বেড়েছে প্রায় ৩ কোটি! সতীর্থদের নিয়ে কাল্পনিক নৌকায় তার ‘ভাইকিং’ উদ্যাপন এবারের আসরের অন্যতম আইকনিক মুহূর্ত হয়ে থাকবে।
ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে উত্তেজনা
সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে সপ্তমবারের মতো ফাইনালে ওঠে আর্জেন্টিনা। তবে ম্যাচ শেষে উদ্যাপনের সময় আর্জেন্টাইন খেলোয়াড়রা 'ফকল্যান্ড আমাদের' লেখা একটি ব্যানার প্রদর্শন করলে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়। ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের মালিকানা নিয়ে যুক্তরাজ্য ও আর্জেন্টিনার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক বিরোধের রেশ ধরে মাঠের এই ঘটনায় ফিফার কাছে আনুষ্ঠানিক তদন্তের দাবি জানিয়েছে যুক্তরাজ্য। ফিফাও বিষয়টি খতিয়ে দেখার কথা জানিয়েছে।