ঢাকা, সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬,
সরকার অনুমোদিত নিবন্ধন নম্বর ১৯১
Reg:C-125478/2015

অত্যাচারের ছবি যেন আর তুলতে না হয়

ডেস্ক রিপোর্ট


প্রকাশ: ২ অগাস্ট, ২০২৬ ১৯:৩৮ অপরাহ্ন | দেখা হয়েছে ১৭ বার


অত্যাচারের ছবি যেন আর তুলতে না হয়

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেছেন, অত্যাচার, নিপীড়ন ও নির্যাতনের যে ভয়াবহ চিত্র ছবির মাধ্যমে সামনে এসেছে, ভবিষ্যতে যেন এমন ছবি আর তুলতে না হয়, সেই লক্ষ্যেই একটি মানবিক, গণতান্ত্রিক সমাজ গড়ে তুলতে হবে।

রোববার (২ আগস্ট) জাতীয় প্রেস ক্লাবে বাংলাদেশ ফটো জার্নালিস্টস অ্যাসোসিয়েশন (বিপিজেএ) ও ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘ফ্যাসিবাদের ১৫ বছর ও চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান’ শীর্ষক বিশেষ আলোকচিত্র প্রদর্শনীর সমাপনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

 

তিনি বলেন, আজকের ছবিগুলোর মধ্য দিয়ে আমাদের সামনে অত্যাচার, নিষ্পেষণ ও নির্যাতনের এক ভয়ঙ্কর চিত্র ফুটে উঠেছে। এই ধরনের চিত্র যাতে আর তুলতে না হয়, আর যাতে এমন মন খারাপ করা ছবি সংগ্রহ করে রাখতে না হয়, সেই পথ রচনা করতে হবে।

 

আলাল বলেন, ইতিহাসে এমন অনেক ঘটনা রয়েছে, যেখানে একটি ছবি বা একটি ঘটনাই মানুষের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। উদাহরণ হিসেবে তিনি লিওনার্দো দা ভিঞ্চির বিখ্যাত মোনালিসা চিত্রকর্মের কথা উল্লেখ করেন।

 

বিএনপির এ নেতা বলেন, জাতীয় আর্ট গ্যালারি থেকে মোনালিসা চুরি হওয়ার পর ছবিটি যেখানে রাখা ছিল, সেই স্থানটি দেখতে যত মানুষ গিয়েছিল, ছবিটি সেখানে থাকা অবস্থায় তত মানুষ যায়নি। এটি পৃথিবীর ইতিহাসে একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা।

 

আরেকটি উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের একটি অঙ্গরাজ্যে সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত একটি হীরার খনি রয়েছে। সেখানে যে কেউ বিনা টিকিটে গিয়ে হীরা খুঁজতে পারেন এবং পেলে তা নিজের কাছে রাখতে পারেন। কিন্তু ১৯৭০ সাল থেকে এখন পর্যন্ত মাত্র ৩২ হাজার মানুষ সেখানে হীরা খুঁজতে গেছেন। এর কারণ হিসেবে তিনি বলেন, সেখানে হীরা খুঁজতে যে সময় ব্যয় হয়, সেই সময় অন্য কাজে ব্যয় করলে মানুষ আরও বেশি আয় করতে পারে। তাই যুক্তরাষ্ট্রে অধিকাংশ মানুষ সময়ের অপচয় করতে চান না।

প্রদর্শনীতে প্রদর্শিত নির্যাতনের আলোকচিত্র ধারণ ও সংরক্ষণে সংশ্লিষ্টদের প্রশংসা করে আলাল বলেন, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যারা এসব ছবি তুলেছেন, তারা সম্মানের দাবিদার। তিনি বিশেষভাবে ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের আলোকচিত্রীদের উদ্যোগ ও প্রচেষ্টার প্রশংসা করেন। তবে তার মতে, প্রদর্শনীতে এখনও কিছু শূন্যতা রয়ে গেছে, যা ভবিষ্যতে পূরণ করা সম্ভব হবে।

তিনি বলেন, স্মৃতি একটি জীবন্ত ইতিহাস। ইতিহাসের দিকে তাকালে অতীতের অনেক ঘটনা মনে পড়ে, আর সেই অভিজ্ঞতা থেকেই ভবিষ্যতের জন্য নির্দেশনার রূপরেখা পাওয়া যায়।

আলাল আরও বলেন, ছবি মানুষের আবেগ, ইতিহাস ও সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ছবি নিয়ে অসংখ্য গান, সাহিত্য ও চলচ্চিত্র তৈরি হয়েছে, যা মানুষের অনুভূতিকে গভীরভাবে স্পর্শ করে।

 

গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, বিএনপি সরকার একটি সামাজিক গণতান্ত্রিক অবকাঠামো গড়ে তোলার কাজ হাতে নিয়েছে। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ব্যক্তিজীবনের আচরণ ও মূল্যবোধ সমাজে ছড়িয়ে দিতে পারলে তা গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি বিকাশে একটি শক্তিশালী সামাজিক ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে।

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, গণতন্ত্র রক্ষায় মতের ভিন্নতা থাকাটা স্বাভাবিক। তবে জাতীয় স্বার্থের প্রশ্নে সেই মতভিন্নতাকে ঐকমত্যে রূপ দেওয়ার মানসিকতা সবার মধ্যে থাকতে হবে। তাহলেই আজকের এই বেদনাবিধুর ছবিগুলো ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য কেবল ইতিহাসের দলিল হয়ে থাকবে, নতুন করে এমন বেদনার জন্ম দেবে না।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, প্রধানমন্ত্রী প্রেস সচিব সালেহ শিবলী, বাংলাদেশ ফটো জার্নালিস্টস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এ কে এম মহসীন, সাধারণ সম্পাদক বাবুল তালুকদার, ডিইউজের সহসভাপতি রাশেদুল হক, বিপিজেএ সহসভাপতি মশিউর রহমান সুমন, অর্থসম্পাদক নাসিম শিকদার, দপ্তর সম্পাদক ফরিদ আহমেদসহ আলোকচিত্রী, সাংবাদিক এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।


   আরও সংবাদ