ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ২৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১৪:০৭ অপরাহ্ন | দেখা হয়েছে ২৮ বার
নতুন সরকার গঠনের এক সপ্তাহের মধ্যেই প্রশাসনে ব্যাপক রদবদল শুরু হয়েছে। আগের সরকারের আমলের চুক্তিতে থাকা বিতর্কিত কর্মকর্তাদের বিদায় দেওয়া হচ্ছে। সেইসঙ্গে দলবাজ কর্মকর্তাদের বিদায় দিয়ে মেধাবী, সৎ ও অভিজ্ঞ নির্ভর প্রশাসন সাজাতে দক্ষ কর্মকর্তাদের নিয়োগের নির্দেশনা দিয়েছে সরকারের শীর্ষ মহল।
সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায়ে বড় রদবদল আনা হয়েছে।
এদিন সন্ধ্যায় ১২ জন সচিবকে ওএসডি ও চুক্তিতে নিয়োগ বাতিল করা হয়েছে। এমন পদক্ষেপের পর এই শ্রেণির কর্মকর্তাদের মধ্যে আতঙ্কা দেখা দিয়েছে।
ওএসডি হওয়া সচিবরা হলেন– প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব মো. সাইফুল্লাহ পান্না, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব রেহানা পারভীন এবং ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. কামাল উদ্দিন। তাদের জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত তথা ওএসডি করা হয়েছে।
এসব কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রশাসনে নানা অভিযোগ ছিল। তাদের মধ্যে রেহানা পারভীনের বিরুদ্ধে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঁচশর বেশি শিক্ষক-কর্মকর্তাকে রাতের আঁধারে বদলির অভিযোগ ছিল। এই কর্মকর্তার চাকরির মেয়াদ আগামী মার্চে শেষ হবে বলে জানা গেছে।
এরপর রাতেই আরও নয়জন সচিবের চুক্তি বাতিল করা হয়।
তারা হলেন– পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য ড. মো. মোখলেস উর রহমান, ড. কাইয়ুম আরা বেগম, এম এ আকমল হোসেন আজাদ, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মমতাজ আহমেদ, ভূমি আপিল বোর্ডের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ইউসূফ, জাতীয় পরিকল্পনা ও উন্নয়ন একাডেমির মহাপরিচালক সিদ্দিক জোবায়ের, আইসিটি বিভাগের সচিব শীষ হায়দার চৌধুরী, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. সাইদুর রহমান এবং বিশ্বব্যাংকের বিকল্প নির্বাহী পরিচালক শরিফা খান।
প্রশাসনে এসব কর্মকর্তা বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে চুক্তিতে নিয়োগ পান। কয়েকজনের বিরুদ্ধে একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের হয়ে কাজ করার অভিযোগ ছিল। দু’একজনের বিরুদ্ধে দুর্নীতিরও অভিযোগ ছিল। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে থাকাকালে মোখলেস উর রহমানের বিরুদ্ধে বদলিসহ নানা বিষয়ে আর্থিক কেলেঙ্কারির অভিযোগ ওঠে।
এর আগে বিএনপি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার পরপরই প্রশাসনের শীর্ষ দুটি সচিবের পদে রদবদল আনা হয়। গত ১৪ ফেব্রুয়ারি মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. শেখ আব্দুর রশীদের চুক্তি বাতিল করা হয়। এরপর প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব এম সিরাজ উদ্দিন মিয়াকে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়। কিন্তু তাকে সরিয়ে ১৬ ফেব্রুয়ারি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ড. নাসিমুল গনিকে চুক্তিতে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নিয়োগ দেওয়া হয়।
জানা যায়, সোমবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় বিষয়ক উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী এবং প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আবদুস সাত্তার সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। এরপর ১২ জন সচিবের চুক্তিতে নিয়োগ বাতিল ও ওএসডি করা হয়। এসব পদে শিগগিরই নতুন সচিব নিয়োগ দেওয়া হবে।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতে তিনি প্রশাসনে সুশাসন প্রতিষ্ঠার নির্দেশনা দেন। প্রশাসনে গতিশীলতা আনতে শূন্যপদগুলোতে দ্রুত পদায়নে মেধা-সততা, দক্ষতার ভিত্তিতে এবং বিগত সময়ে বঞ্চিতদের নিয়োগ দেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন। কেউ অন্যায়ভাবে যেন বঞ্চিত না হয়, সেটিও নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়।
বিগত সময়ে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকার গঠন হলে প্রশাসনে ব্যাপক পরিবর্তন আনা হয়। বিভিন্ন সময়ে অবসরে যাওয়া কর্মকর্তাদের চুক্তিতে নিয়োগ দেয় সরকার। কিন্তু অবসরে থাকা কর্মকর্তাদের চুক্তিতে নিয়োগ দেওয়ায় বিএনপিপন্থি আমলাদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়। তারা বিভিন্ন সময়ে বঞ্চিত কর্মকর্তাদের মধ্য থেকে শীর্ষ পদগুলোতে নিয়োগ দেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছিলেন।
প্রশাসন ক্যাডারের ১৩, ১৫ ও ১৭ ব্যাচের অতিরিক্ত সচিবদের একটি বড় অংশ সচিব পদে পদোন্নতির অপেক্ষায় রয়েছেন। কিন্তু সচিবের শূন্যপদ সীমিত। সেই সব সচিব পদ পূরণের জন্য বঞ্চিত কর্মকর্তারা নির্বাচনের পর দাবি জোরালো করেছেন।
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে আরও রদবদল আসবে। বিশেষ করে প্রশাসনিক কাঠামোয় সিনিয়র সচিব, সচিব, অতিরিক্ত সচিব, দপ্তর প্রধান, বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসক (ডিসি) পদগুলো রাষ্ট্রযন্ত্রের জন্য নীতিনির্ধারণী পদ। এ পদগুলোতে নিয়োগ ও পদায়ন বরাবরই সংবেদনশীল বিষয়। এজন্য সরকারের আস্থাভাজনদের এসব পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। তবে এবার প্রশাসনে গতিশীলতা আনতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দক্ষ, মেধাবী ও অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের বেছে নেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন।