ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ১ মার্চ, ২০২৬ ০৯:১৭ পূর্বাহ্ন | দেখা হয়েছে ২৬ বার
ঢাকা: ফ্যাসিবাদী শাসন থেকে বেরিয়ে এসে গণতন্ত্রকে পূর্ণাঙ্গভাবে প্রতিষ্ঠা করার অঙ্গীকার নিয়ে প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করেছে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে গড়ে ওঠা তরুণদের রাজনৈতিক দল ‘জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)’।
এ উপলক্ষে শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর আবাহনী ক্রীড়া মাঠে ইফতার মাহফিলের আয়োজন করে দলটি। অনুষ্ঠানে দলের কেন্দ্রীয় ও তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেন, এক বছরে এনসিপি নানা অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে এগিয়েছে।
তার ভাষায়, শুধু এনসিপি নয়, গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে পুরো বাংলাদেশই বহুমাত্রিক অভিজ্ঞতার ভেতর দিয়ে গেছে। সেই সময়কে ধারণ করে দেশকে এগিয়ে নিতে যে নেতৃত্ব প্রয়োজন, এনসিপি তার অবস্থান থেকে সেই দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করেছে।
তিনি বলেন, এবারের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর প্রতিপাদ্য, ‘দেশ আর যাবে নতুন পথে, ফিরবে না আর ফ্যাসিবাদে।’ তাদের বিশ্বাস, দেশ ফ্যাসিবাদী শাসন থেকে বেরিয়ে এসেছে; এখন লক্ষ্য গণতন্ত্রকে পূর্ণাঙ্গভাবে প্রতিষ্ঠা করা।
এজন্য প্রয়োজনীয় সংস্কার, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন এবং গণভোটের রায় কার্যকর করার আন্দোলন অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।
আগামী কর্মসূচি প্রসঙ্গে নাহিদ ইসলাম বলেন, সামনে স্থানীয় সরকার নির্বাচন। দ্রুত নির্বাচন আয়োজনের প্রত্যাশা জানিয়ে দলীয় নেতাকর্মীদের প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
তৃণমূল সংগঠনকে শক্তিশালী করে আগামী দিনে রাজনৈতিক অর্জন বাড়ানোর লক্ষ্য রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন।
তিনি জানান, সর্বশেষ নির্বাচনে ছয়টি আসনে বিজয় অর্জন করলেও দলটি এতে সন্তুষ্ট নয়; ভবিষ্যতে আরও বড় সাফল্যের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করবে। পাশাপাশি সংস্কার পরিষদ গঠন এবং অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা আইন ও অধ্যাদেশ সংসদে অনুমোদনের প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানে এনসিপির পক্ষ থেকে ৩ মিনিট ৪৫ সেকেন্ডের একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। এতে জুলাই আন্দোলন থেকে রাজনৈতিক দল হিসেবে প্রতিষ্ঠা, সংস্কার কমিশনে ভূমিকা এবং জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণসহ দলটির পথচলার বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ বলেন, নির্বাচনী সমঝোতার মাধ্যমে জাতীয় সংসদে এনসিপির ছয়টি আসন পাওয়া দলটির জন্য বড় অর্জন।
ভবিষ্যতে এই সংখ্যা বাড়তে পারে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, রাজনীতিতে সাফল্য রাতারাতি আসে না; উত্থান-পতন মেনে নিয়েই এগোতে হয়।
তিনি বলেন, বর্তমান ও আগামী প্রজন্ম এমন রাজনীতি চায়, যা জনগণের প্রত্যাশা ও চাহিদাকে ধারণ করে। অতীতের ইতিহাসে সীমাবদ্ধ না থেকে ভবিষ্যৎ নির্মাণের রাজনীতি করতে হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এনসিপি ২০২৪ সালের জুলাই ছাত্র-গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
এনসিপির ঘোষণাপত্র ও ইশতেহার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সময়ের চাহিদা অনুযায়ী রাজনৈতিক কর্মসূচি, গঠনতন্ত্র ও ইশতেহারে পরিবর্তন আনতে হবে। রাজনীতি স্থির নয়, এটি একটি গতিশীল প্রক্রিয়া, এ কথা মনে রেখে এগোতে হবে।
জাতীয় সংসদ প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এখন থেকে সংসদই হবে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। সেখানে তর্ক-বিতর্ক ও বহুমতের মধ্য দিয়ে জাতীয় স্বার্থে ঐকমত্য গড়ে তোলা হবে। দেশের গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুগুলো সংসদেই আলোচিত হবে এবং সেখান থেকেই জাতির জন্য দিকনির্দেশনা আসবে, এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।
নৌ, রেল, সেতু ও সড়ক পরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, এনসিপি একটি তারুণ্যনির্ভর রাজনৈতিক দল। একঝাঁক সাহসী তরুণের সমন্বয়ে তৈরি এই দলটি এদেশের মানুষের চাহিদা পূরণে কাজ করছে। বাংলাদেশের রাজনীতিতে যে শূন্যতা তৈরি হয়েছিল, তা পূরণে এনসিপি যথাযথভাবে অগ্রগামী হচ্ছে বলে আমার বিশ্বাস।
তিনি বলেন, দেশ ও জনগণের স্বার্থ তাদের কাছে সর্বোপরি অগ্রাধিকার পাবে এবং পেয়েছে। জনগণ এনসিপিকে গ্রহণ করেছে, নির্বাচিত করেছে। আগামীতে এনসিপিকে জনগণ সংসদে আরও বেশি আসন পেতে সহায়তা করবে।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, নতুন একটি রাজনৈতিক দল হিসেবে এনসিপির নির্বাচনের ফলাফল প্রমাণ করে যে জনগণ তারুণ্যের শক্তির প্রতি আস্থা প্রকাশ করেছে।
তিনি বলেন, জুলাই সনদের ঐকমত্য হওয়া প্রত্যেকটি বিষয়ের বাস্তবায়ন নিয়ে যে সংশয় ও বিতর্কের সূচনা হয়েছে, সরকারের উচিত হবে জনগণের আকাঙ্ক্ষার এই সনদের প্রতিটি বিষয় যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা। এ সময় তিনি গণভোটের রায় আইন আকারে সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানান।
ইফতার আয়োজনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কবি ও চিন্তক ফরহাদ মজহার, এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু, এনসিপির সদস্য সচিব ও রংপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আখতার হোসেন, প্রধান সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম, প্রধান সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) হাসনাত আবদুল্লাহ, মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদিব, সিনিয়র যুগ্ম প্রধান সমন্বয়ক আবদুল হান্নান মাসুদ প্রমুখ।