ঢাকা, মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬,
সরকার অনুমোদিত নিবন্ধন নম্বর ১৯১
Reg:C-125478/2015

ইরান নারী দলের পাঁচ ফুটবলারকে আশ্রয় দিল অস্ট্রেলিয়া

স্পোর্টস ডেস্ক


প্রকাশ: ১০ মার্চ, ২০২৬ ১২:৫৬ অপরাহ্ন | দেখা হয়েছে ১৫ বার


ইরান নারী দলের পাঁচ ফুটবলারকে আশ্রয় দিল অস্ট্রেলিয়া

অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠিত ২০২৬ এএফসি নারী এশিয়ান কাপে অংশ নেওয়ার পর নিজ দেশে ফেরার আশঙ্কা থেকে অস্ট্রেলিয়ায় আশ্রয় চেয়েছেন ইরান নারী জাতীয় ফুটবল দলের পাঁচ খেলোয়াড়। অস্ট্রেলিয়ার সংবাদমাধ্যম নাইন নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অস্ট্রেলিয়ান ফেডারেল পুলিশ ও দেশটির সরকারের সহায়তায় ওই পাঁচ খেলোয়াড়কে মানবিক ভিসা দেওয়া হয়েছে।

যে পাঁচ ফুটবলার অস্ট্রেলিয়ায় আশ্রয় পেয়েছেন তারা হলেন: ফাতেমেহ পাশানদিদেহ, জাহরা গানবারি, জাহরা সারবালি, আতেফেহ রামেজানিজাদেহ এবং মোনা হামৌদি।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, এশিয়ান কাপ চলাকালে অস্ট্রেলিয়ার গোল্ড কোস্টের একটি হোটেলে অবস্থান করছিলেন ইরান দল।

সেখান থেকে রাতের আঁধারে দলীয় কর্মকর্তাদের নজর এড়িয়ে বেরিয়ে এসে অস্ট্রেলিয়ান কর্তৃপক্ষের সহায়তা চান ওই পাঁচ খেলোয়াড়। পরে তাদের একটি নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়।

 

অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী টনি বার্ক নিশ্চিত করেছেন, রাতভর প্রক্রিয়া শেষে তাদের মানবিক ভিসা মঞ্জুর করা হয়েছে। বার্ক বলেন, ‘গত রাতে আমি তাদের আবেদন মানবিক ভিসার আওতায় অনুমোদন দিয়েছি।

রাত প্রায় দেড়টার কিছু পরেই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করে।’

 

ইরান দল এশিয়ান কাপে অংশ নিতে অস্ট্রেলিয়ায় গেলেও টুর্নামেন্ট চলাকালেই তাদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে প্রথম ম্যাচের আগে ইরানের জাতীয় সংগীত গাইতে অস্বীকৃতি জানান দলের খেলোয়াড়রা। এই ঘটনাকে অনেকেই প্রতিবাদের ইঙ্গিত হিসেবে দেখেন।

 

এর পরই ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে খেলোয়াড়দের বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা শুরু হয় এবং তাদের ‘দেশদ্রোহী’ বলেও আখ্যা দেওয়া হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে ফিলিপাইনের বিপক্ষে খেলার পর স্টেডিয়াম ছাড়ার সময় দলের বাসে ওঠার আগে কয়েকজন খেলোয়াড়কে অঙ্গভঙ্গির মাধ্যমে উদ্বেগ প্রকাশ করতে দেখা যায় বলেও জানা গেছে।

অস্ট্রেলিয়ায় বসবাসরত ইরানি প্রবাসী ও মানবাধিকারকর্মীরাও দেশটির সরকারের কাছে খেলোয়াড়দের আশ্রয় দেওয়ার দাবি জানান। তাদের আশঙ্কা ছিল, ইরানে ফিরে গেলে এসব খেলোয়াড় শাস্তির মুখে পড়তে পারেন।

এই ঘটনা আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও আলোচনার জন্ম দেয়।

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অস্ট্রেলিয়া সরকারকে খেলোয়াড়দের আশ্রয় দেওয়ার আহ্বান জানান। এমনকি তিনি অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজের সঙ্গে ফোনালাপেও বিষয়টি উত্থাপন করেন।

 

ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প লিখেছিলেন, ‘অস্ট্রেলিয়া বড় মানবিক ভুল করবে যদি ইরানের নারী ফুটবল দলকে জোর করে দেশে ফিরতে বাধ্য করে। সেখানে গেলে তারা হয়তো প্রাণ হারাতে পারে। এটা করবেন না। মিস্টার প্রাইম মিনিস্টার, তাদের আশ্রয় দিন। যদি আপনারা না দেন, যুক্তরাষ্ট্র তাদের নিতে প্রস্তুত।’

পরে আরেকটি পোস্টে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রীর পদক্ষেপের প্রশংসাও করেন ট্রাম্প। তিনি লেখেন, ‘তিনি বিষয়টি দেখছেন। পাঁচজনকে ইতোমধ্যে নিরাপদে রাখা হয়েছে এবং বাকিরাও পথে রয়েছে।’

তবে ট্রাম্প আরও উল্লেখ করেন, দলের কিছু খেলোয়াড় পরিবারের নিরাপত্তার কথা ভেবে ইরানে ফিরে যেতে চাইছেন। কারণ, তারা আশঙ্কা করছেন, তারা না ফিরলে তাদের পরিবারের সদস্যদের হুমকি দেওয়া হতে পারে।

অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ পরে নিশ্চিত করেন, দলের পাঁচ সদস্য তাদের কাছে সহায়তা চেয়েছেন এবং তারা বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ায় নিরাপদে আছেন। তবে দলের আরও কয়েকজন খেলোয়াড় পারিবারিক নিরাপত্তার কারণে দেশে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।


   আরও সংবাদ